কুরিয়ার এজেন্ট থেকে শত কোটি টাকার মালিক কে এই কামাল

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  মমিনুর রহমান:

দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে চোরাচালান পণ্য পাচারের সিন্ডিকেটের সখ্যতায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বণে যাওয়া কে এই কামাল। কর্মজীবনে শুরুতে মোবাইলের লোড ব্যবসা দিয়ে শুরু করে বেনাপোল কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিস বেনাপোল অফিসের দায়িত্ব নিয়েই পেছনে ফিরতে হইনি। অবৈধ চোরাচালান পণ্য পারাপারে প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসাবে শুরু করে আলাউদ্দীনের চেরাগের মত চলছে তার অধিপত্য। কামাল হোসেন বেনাপোল ৫ নং দিঘীরপাড় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হক খোকেনের ছেলে।  

স্থানীয়রা জানান, নুন আনকে পানতা ফুরানো কামাল বর্তমান শত কোটি টাকার মালিক। বেনাপোল কাগজপুকুর এলাকায় বিলাশবহুল মার্কেট,দিঘীরপাড়ে আলীশান বাড়ি,যশোর শহরে রয়েছে একাধিক জমি সহ ফ্লাট চড়েন দামি গাড়িতে। চাহিদা অনুয়ায়ী শিক্ষগত যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতা না থাকলেও বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে দিয়ে নামী দামী পত্রিকার প্রতিনিধি হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার পেশাগত যোগ্যতা যাচায়ে জানা যায়,এইস এসসি পাশ করা কামাল দেশের স্বনামধন্য বহুল প্রচালিত দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভির বেনাপোল প্রতিনিধি হিসাবে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। আর এই পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল রক্ষা করার জন্য নাভারণ কলেজে উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যায়ের অধিনে (বি.এ) কোর্সে পড়াশোনা করছে যার রোল নং-(২০-০-২৩-৯২৫-০০৫)। অথচ সে ভূয়া জাল সার্টিফিকেট দিয়ে যুগান্তর ও যমুনা টিভিতে কাজ করছে।  

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ের ছত্র ছায়ায় থেকে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে রাতা রাতি আংগুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন এই কামাল। কামাল আজ শত কোটি টাকার মালিক বনেগেছে এই পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের ভয়-ভীতি দেখিয়ে। সাংবাদিকতা পেশার আড়ালে কামালের রয়েছে স্মাগলিং ও হুন্ডি ব্যবসা। বেনাপোল সীমান্ত এলাকার একাধীক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে রয়েছে তার সখ্যতা। কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার ব্যবসা চলাকালীন সময়ে চোরাকারবারী পণ্য চন্দন কাঠ বহনের দায়ে তার নামে বিজিবির মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। 

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, মাধ্যমিক পাশ করা কামাল মোবাইল ব্যবসার পাশাপাশি চোরাচালানীদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। সেখান থেকে সে বেনাপোলের কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিস এর অফিসের ডিলারশীপ নেই। কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সর্ভিস দিয়ে চোরাচালানীদের অবৈধ পণ্য বুকিং নিয়ে শুরু হয় তার অন্ধকার জীবনের পথচলা। আর এই কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে কয়েকদিনের মধ্য গড়ে তোলে লম্বা সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা তার স্কুল বন্ধু শার্শার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আকুল হোসাইন। কিন্তু আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতায় এই ব্যবসায় বিভিন্ন প্রতিকুলতা তৈরী হলে সে প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে সাংবাদিকতার পেশাকে ঢাল হিসাবে বেছে নেই। আর কিছু দিনের মধ্যে সে দৈনিক যুগান্তরের বেনাপোল প্রতিনিধি হয়ে শুরু করে চাঁদাবাজি। 

কাস্টম ও স্থলবন্দরের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নীরব চাঁদাবাজি করে সে বেনাপোল দিঘীরপাড় এলাকায় বিলাশবহুল ৩ তলা বাড়ি,কাগজপুকুর পৌরগেটের আগে বিলাশবহুল আলিশান মার্কেট,যশোর আরবপুর ও পুলিশ লাইন এলাকায় বহুতল বিশিষ্ট বাড়ি একাধিক জমি ক্রয় করেছে এই কামাল। তাছাড়া প্রশাসনের জাবাবদিহীতা এড়াতে ভাই ও স্ত্রীর নামে শার্শা এলাকায় কিনেছে একাধিক জমি। সাংবাদিকতার মতো পেশায় যেখানে সংসার চালানো দ্বায় সেখানে কামাল শত কোটি টাকা মালিক বণে যাওয়ার পেছনের রহস্য উন্মচনে দুদক ও গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে খতিয়ে দেখলেই বেরিয়ে আসবে অবৈধ সম্পদের পরিমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরে সাংবাদিকধারী সিঅ্যান্ডএফ মালিকদের রামরাজত্ব চলে। বেশির ভাগ সাংবাদিক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এসব সাংবাদিকধারী সিঅ্যান্ডএফ মালিকদের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বরত সৎ কর্মকর্তারা তাদের সিন্ডিকেটের কাজে বাঁধা দিলে শুরু হয় মেটিকুলাস দলবদ্ধ মিথ্যা নিউজ। আর দুর্নীতিবাজ ও সিন্ডিকেট কর্মকর্তাদের জিম্মি করে চলে তাদের শুল্ক ফাঁকি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কামাল তাদের মধ্য অন্যতম। 

তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, সম্প্রাতি বেনাপোল কাস্টম হাউস গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি পার্টসের চালান আটক করেছে। এই পার্টসের চালান ছাড় করতে কামাল মোটা অংকের চুক্তিতে নেমে পড়েছে ফাইল নিয়ে। এবং যুগ্ন-কমিশনার রুবেলকে দিয়ে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাছাড়া শরিফুল নামে এক ব্যবসায়ীর পণ্য চালান বিশেষ সুবিধা নিয়ে খালাশ করিয়ে মোটা অংক হাতিয়ে নিচ্ছে।

দিঘীরপাড় এলাকায় তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেকার জীবনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে পিতার জমি বিক্রি করে বেনাপোল বাজারে একটি মোবাইলের দোকান দেই কামাল। সেখানে নুন আনতে পানতে ফোরানোর মত হওয়ার কারনে বন্ধু সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী আ.লীগ নেতা বন্ধু আকুলের সাথে সখ্যতার প্রভাব খাটিয়ে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিস দখল করে শুরু হয় তার অন্ধাকার জীবনের পদচারনা। এর পর দৃশ্যমান কোন ব্যবসা না থাকলেও সাংবাদিকতার প্রদর্শন করে শত কোটি টাকার মালিক এই কামাল। অন্তরালে তার অন্ধাকার জীবন সিন্ডিকেট বাণিজ্য, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি। পৌর এলাকায় এমন কোন দপ্তর নেই যে তাকে মাশয়ারা দেই না টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে যুগান্তরে নিউজ প্রকাশের ভয় দেখানো তার প্রধান ঢাল।  কামালের নিরব চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মুখ না খুললেও স্থানীয়দের দাবী কামালের মুখোস উন্মোচন করার। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমান কামাল বেনাপোল ৩১ নং পচনশীল মাঠের সিন্ডিকেট হোতাদের মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমনসহ সাপ্তাহিক মোটা অংকের টাকা গ্রহন করছে। যা কামালের মোবাইল ফোন ট্যাগ করলেই বেরিয়ে আসবে। 

অভিযোগ বিষয়ে কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়াই বক্তব্য জানা যাইনি। কামালের অপরাধ সম্রাজ্যের ইতি টানতে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থাসহ মিডিয়া প্রতিষ্ঠান গুলোর সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আমার বার্তা/এমই