মিরপুর বিআরটিএ রুট পারমিট শাখায় ফয়েজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ!
ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
আনিছ মাহমুদ লিমন :

মিরপুর বিআরটিএ এর বর্তমান সহকারী পরিচালক রুট পারমিট শাখার ফয়েজের কর্মরত ছিলেন মিরপুর বিআরটিএর মোটরসাইকেল শাখায় পরিদর্শক হিসেবে পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে মিরপুর বিআরটিএতেই রুট পারমিট শাখায় যোগদান করেন, তারপরই শুরু হয় তার স্বেচ্ছাচারিতা ও ঘুষ বাণিজ্য তাতে অতিষ্ট সেবাগ্রহীতারা। মিরপুর বিআরটিএ তে দীর্ঘদিন ধরে থাকার কারণে একচেটিয়া রাজত্ব করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে সেবাগ্রহীতারা সাংবাদিকদের বলেন এই ফয়েজ সাহেব যখন মোটরসাইকেল শাখায় ছিলেন তখন থেকেই তিনি দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রামরাজত কায়েম করে আসছিলেন। আবার এখন বর্তমানে তিনি মিরপুর বিআরটিএতে পদোন্নতি পেয়ে রোড পারমিট শাখায় যোগদান করে একই ভাবে ঘুষ বাণিজ্য দালাল সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন রুট পারমিট শাখার সহকারী পরিচালক ফয়েজ। তার অন্ধকার সাম্রাজ্যের পুরো দায়িত্বে রয়েছে অফিস সহকারি মোঃ শাহীন সুলতান তিনি সব কিছু তদারকি করছেন তার জন্য এই অফিস সহকারী মোঃ শাহীন সুলতান কে মোটা অংকের একটা টাকার অংশ দিয়ে থাকেন তিনি। এই অফিস সহকারী মোঃ শাহীন সুলতান কর্মরত ছিলেন বিআরটি এর হেড অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতিবাজ সহকারি পরিচালক হয়েছে যখন পদোন্নতি পেয়ে রুড পারমিট শাখায় যোগদান করেন তারপরপরই মোঃ শাহিন সুলতান কে তিনি তারই শাখায় বদলি করে নিয়ে আসেন তার ঘুষ দুর্নীতি দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনার জন্য।
বিআরটিএ (BRTA)-এর রুট পারমিট হলো একটি সরকারি অনুমতিপত্র যা বাস, মিনিবাস, ট্রাকের মতো বাণিজ্যিক যানবাহনগুলোকে নির্দিষ্ট রুটে যাত্রী বা মালামাল পরিবহনের বৈধতা দেয়, এর কাজ হলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যানবাহনের রুট, ফিটনেস এবং মালিকানা যাচাই করে পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষা করা।
এসকল নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই অবৈধ কে বৈধতা দিচ্ছে সহকারী মটর যান পরিচালক ফয়েজ।
মিরপুর বিআরটিএ তে ঘুষ আর দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যম ছাড়া মিলছে না কোন সেবা, এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন রুড পারমিট শাখার এডি ফয়েজ নিজেই দালালরা তাকে গিরিন সিগন্যাল দিলেই স্বাক্ষর করছেন ফাইলে এতে করে প্রতিদিন অবৈধভাবে কামিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
সহকারী পরিচালক ফয়েজের দালাল সিন্ডিকেটের মধ্যে অন্যতম রয়েছে সাহেব আলী, এই সাহেব আলী একসময় আনসার সদস্য হিসেবে মিরপুর (বিআরটিএ) তে কর্মরত ছিলেন, আলাউদ্দিন, মনজু, আলহাজ্ব এদের মাধ্যমেই প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন রুট পারমিট শাখার সহকারী পরিচালক ফয়েজ।
সরজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায় রুড পারমিট শাখার পিছনের দরজা দিয়ে দালালরা নিয়ম বহির্ভূত ও অবৈধ কে বৈধতা দিতেই হাতে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে এবং নিজেদের হাতেই গাড়ির কাগজপত্রে সিল মারেন পরে তা নিয়ে ফয়েজ সাহেবের টেবিলে দেন তিনি প্রতিটি ফাইল স্বাক্ষর করেন। আর যারা ফয়েজ সাহেবের দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যম ছাড়া রুড পারমিট ফিটনেস সহ যেসকল কাজ করাতে চান তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় এমন অভিযোগ সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের।
মিরপুর বিআরটিএতে সেবা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন যতক্ষণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিআরটিএর মধ্যে থাকেন ততক্ষণ দালালরা ভিতরে প্রবেশ করেনা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলেই ফয়েজ গংরা ডেকে নেয় তাদের সিন্ডিকেট দের। বিকাল পাঁচটার পর থেকেই রাত ৮ টা পর্যন্ত এইসব অবৈধ গাড়ির কাগজপত্র বৈধ করে দেন এই সহকারী পরিচালক ভয়েস সহ আরো অনেক কর্মকর্তা।
চাকরির সুবাদে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন আমি নিজেই বেশ কিছুদিন আগে রুড পারমিট শাখায় যাই আমার নিকটত্ব আত্মীয় একটি গাড়ির ফিটনেস করানোর জন্য সেখানে আমাকেও হয়রানি করে আমার চোখের সামনেই দালালরা যে সকল গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে আসছে সেগুলো কোন কিছু যাচাই-বাছাই না করেই স্বাক্ষর করে দিচ্ছে আর দালালরা তা নিজ হাতেই ছিল মারছে। তিনি আরো বলেন এগুলো দেখে আমি প্রতিবাদ করি এবং বলি যে আমার কাছ থেকে টাকা নিতে পারছেন না বলেই আমাকে এভাবে ঘোরানো হচ্ছে।
এ সকল বিষয়ে সহকারী পরিচালক রোড পারমিট শাখার ফয়েজ সাহেব এর কাছে সত্যতা জানতে চাইলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন এবং তিনি বলেন আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন এ বিষয়ে আমি কোন বক্তব্য দিতে চাই না।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব আজ দ্বিতীয় পর্ব দেখতে চোখ রাখুন দৈনিক আমার বার্তা পত্রিকা।
আমার বার্তা/এমই
