বিলাসবহুল ‘স্বপ্নের’ প্রাসাদ বিক্রি করছেন রোনালদো

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

 অবিশ্বাস্য সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানার পর অবসর কাটানোর জন্য ৩ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৪৯৫ কোটি) খরচ করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বানিয়েছেন বিলাসবহুল প্রাসাদ। কিন্ত রোনালদো নাকি তার ‘স্বপ্নের’ ভিলাটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আটটি শয়নকক্ষ ও একটি ইনফিনিটি সুইমিং পুলসহ এই বিলাসবহুল আবাসটি শিগগিরই বাজারে উঠতে পারে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে রোনালদোর জমকালো বিয়েতে এই ভিলা ব্যবহৃত হতে পারে, তবে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে তারা এখানে থাকছেন না।

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদো ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরেই ওই জমিটি কিনেছিলেন। তখন পরিকল্পনা ছিল রেকর্ড ভাঙা ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর পরিবার নিয়ে এখানেই বসবাস করবেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।

পর্তুগালের কাসকাইসের কুইন্তা দা মারিনিয়া এলাকায় ভিলাটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই আবাসে রয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড কার পার্কিং, জিম, ইনডোর ও আউটডোর সুইমিং পুল, ম্যাসাজ রুম, রোনালদোর পাঁচ সন্তানের জন্য খেলার মাঠ এবং একটি ব্যক্তিগত সৈকত। ডেইলি মেইলের তথ্যমতে, এতে রয়েছে সোনার ট্যাপ, ইতালিয়ান মার্বেল এবং ‘বিশেষভাবে নকশা করা লুই ভিটন মুরাল।’

নিজের রুচি ও নকশায় বাড়িটি সাজালেও পর্তুগিজ গণমাধ্যম ভিপ্লাস ফার্মা দাবি করছে, রোনালদো আরেকটি চমক হিসেবে এই বাড়িতেই জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করতে পারেন এবং এরপর সেটি বিক্রি করে দিতে পারেন।

‘পর্তুগিজ রিভিয়েরা’ নামে পরিচিত এই এলাকায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব নিয়ে রোনালদো উদ্বিগ্ন বলে জানা গেছে। বর্তমানে সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে খেলা ৪০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড পাশের জমি কেনার চেষ্টা করেছিলেন, যা দ্য ওভিতাভোস নামের পাঁচতারকা হোটেল ও একটি গলফ কোর্সের মালিকানাধীন। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এ কারণে রোনালদো এখন চার বছরের এই প্রকল্প ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে বিয়েটা তিনি এখানেই করতে পারেন। আগে জানা গিয়েছিল, ফুনচালের ক্যাথেড্রালে তাদের বিয়ে হবে এবং কাছাকাছি একটি হোটেলে রিসেপশন আয়োজন করা হবে।

ভিপ্লাস ফার্মা'র মতে, রোনালদো তার নতুন ভিলাটিকে 'আরও ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত ভেন্যু' হিসেবে ব্যবহার করার কথা ভাবছেন। তাদের দাবি সত্য হলে এই প্রাসাদটি একই সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠান, হাউসওয়ার্মিং এবং বিদায় পার্টি–সবকিছুর জায়গা হতে পারে।

অবসরকালীন বাসস্থান নিয়ে রোনালদোর বিকল্পের অভাব নেই। তার সম্রাজ্যের ভেতরে রয়েছে লিসবনে ৬ মিলিয়ন পাউন্ড (৯৯ কোটি টাকা) মূল্যের একটি পেন্টহাউস এবং নিজ জন্মভূমি মাদেইরায় একটি বাড়ি। এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময় কেনা মাদ্রিদের একটি প্রাসাদ এবং জুভেন্টাসে থাকার সময় কেনা তুরিনের একটি বিলাসবহুল বাড়িও তার আছে।

রোনালদো সম্প্রতি জানিয়েছেন, কীভাবে তিনি জর্জিনাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যার সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়েছিল মাদ্রিদের একটি গুচ্চি স্টোরে কাজ করার সময়। পিয়ার্স মর্গানকে তিনি বলেন, ‘সময়টা ছিল রাত ১টার মতো। আমার মেয়েরা ঘুমাচ্ছিল।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমার এক বন্ধু আমাকে আংটিটা দেয় জিওকে দেওয়ার জন্য। আমি যখন আংটিটা দিচ্ছি, তখন আমার দুই সন্তান এসে বলে, “ড্যাডি, তুমি মাকে আংটি দিচ্ছো আর বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছো।” আমি বললাম, “ওয়াও, এটাই হ্যাঁ বলার সঠিক মুহূর্ত।” আমি জানতাম একদিন এটা করব, কিন্তু সেদিন করার পরিকল্পনা ছিল না।’

আমার মেয়েরা বলেছিল আর বন্ধুরা ভিডিও করছিল—সব মিলিয়ে সেটাই আমি চেয়েছিলাম। আমি হাঁটু গেড়ে বসিনি, কারণ প্রস্তুত ছিলাম না, কিন্তু মুহূর্তটা ছিল দারুণ। আমি একটা বক্তৃতা দিয়েছিলাম।

সবকিছুই ছিল সহজ। আমি খুব রোমান্টিক মানুষ নই—মানে আছি, তবে প্রতি সপ্তাহে ফুল আনি এমন নই। কিন্তু আমার মতো করে আমি রোমান্টিক। এটা সুন্দর ছিল এবং আমি জানতাম, সে-ই আমার জীবনের নারী।’

বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে রোনালদো আরও বলেন, ‘সে বড় পার্টি পছন্দ করে না। ব্যক্তিগত আয়োজনই তার পছন্দ, আর আমি সেটাকে সম্মান করি। একটা বিষয় আমার খুব ভালো লেগেছে—সে আংটিটা নিয়ে চিন্তা করেনি। সে শুধু জিজ্ঞেস করেছিল আমি কি সত্যি মন থেকে বলছি। আমি বলেছিলাম, “আমি তোমাকে চাই, তোমাকে বিয়ে করতে চাই।” আমি কাঁদিনি, কিন্তু চোখে জল ছিল।’

রোনালদো ও জর্জিনার বিয়েতে আবেগ যে তুঙ্গে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। আর সম্ভবত, পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারণের আগে এই ব্যয়বহুল প্রকল্পটিকে তারা একবার ব্যবহার করেই নেবেন, তারপরই নজর দেবেন নতুন ঠিকানার দিকে।

আমার বার্তা/এল/এমই