বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা উচিত : বুচার
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে কি সঠিক কাজ করেছে? সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মার্ক বুচার বললেন, এটা একটি ‘দৃষ্টান্ত’; যখন কোনো দল আইসিসি টুর্নামেন্টের জন্য আয়োজক দেশে যেতে চাইবে না, তাদের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিলেন তিনি।
বুচার বলেন, ‘এই নির্দিষ্ট ঘটনার আগেও এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যার সঙ্গে এর মিল আছে। স্পষ্টতই, পাকিস্তানের সাথে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ইস্যু এবং শেষ পর্যন্ত দুবাইতে ফাইনালসহ ভারতের ম্যাচগুলো আয়োজনের মাধ্যমে যেভাবে সমাধান করা হয়েছিল— তা একটি উদাহরণ। ক্রিকেটের ইতিহাসে আমরা দেখেছি এক বা একাধিক দলকে সুবিধা দিতে টুর্নামেন্টগুলো নতুন করে সাজানো বা পরিবর্তন করা হয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যা দেখছি তা হয়তো আগে দেখা যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতের উদাহরণটি সবাই আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিল; ওটা এতটাই স্পষ্ট ছিল যে মহাকাশ থেকেও বোঝা যাচ্ছিল এটাই হতে যাচ্ছে। ওই সময়ে আইসিসির সামনে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল— এখন থেকে আসলে যা হওয়া উচিত তারা কি তা করবে? আমার মনে হয় এটি এমন একটি নজির (বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া) যা অনুসরণ করা উচিত— যখন কোনো দল, তা তাদের সরকারের মাধ্যমেই হোক বা নিজের ইচ্ছায়, কোনো টুর্নামেন্টের জন্য কোনো দেশ সফরে নিরাপত্তার বা অন্য কোনো উদ্বেগ দেখায়, তবে মূলত তাদের বাদ দেওয়া উচিত এবং তালিকায় এর ঠিক পরেই থাকা দলটি যোগ্যতা অর্জন করবে এবং তাদের ছাড়াই টুর্নামেন্ট এগিয়ে যাবে। আমি মনে করি এটাই হওয়া উচিত নিয়ম।’
২০২৬ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারত ভ্রমণে নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর, গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়।
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের মাটিতে ভারত খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর ঠিক এক বছরের মাথায় বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার এই ঘটনা ঘটল। বিসিসিআই-এর ওই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি, পিসিবি ও বিসিসিআই-এর মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যেখানে ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। ওই চুক্তিতে আরও উল্লেখ ছিল যে, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসি ইভেন্টগুলোতে ভারত-পাকিস্তানের সব ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা হবে।
বুচার বলেন, ‘আমি অবশ্যই এতটা বোকা নই যে আমি মনে করব সবাই ভারতের মতো একই অবস্থানে আছে, কারণ তারা নেই। সেটা মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান। তবুও, খেলাধুলার সততা বা মর্যাদা অর্থের উৎসের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। পাকিস্তান এখানে সমালোচনার মুখে পড়ছে কারণ তারা ইঙ্গিত দিয়েছিল যে বাংলাদেশ যদি তাদের ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে না পারে তবে তারা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে। তো এখন তারা কী করবে? তারা কি সরে দাঁড়াবে? আমার সন্দেহ আছে, আমার মনে হয় এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।’
তিনি বলে গেলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত জঘন্য পরিস্থিতি এবং আমার মনে হয় ভবিষ্যতে এটি সমাধানের একমাত্র উপায় হলো— যদি কোনো কারণে আপনিই সমস্যার কারণ হন, বা টুর্নামেন্ট নিয়ে আপনার সমস্যা থাকে, অথবা টুর্নামেন্ট কোথায় হচ্ছে বা কে আয়োজন করছে তা নিয়ে সমস্যা থাকে, তবে সিদ্ধান্ত আপনার। হয় আপনি সেখানে যাবেন এবং খেলবেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক করবেন যেমনটা অনেক দেশ অন্য দেশে ভ্রমণের সময় করে থাকে, অন্যথায় আপনি সরে দাঁড়াবেন এবং অন্য কেউ আপনার জায়গায় খেলবে। আমি মনে করি ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার এটাই একমাত্র ন্যায্য উপায়।’
আমার বার্তা/জেএইচ
