মিরপুরে নতুন কৌশল, নতুন উইকেট—ইতিহাস ছুঁতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১১:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

স্মৃতিটা দুই বছর আগের, কিন্তু এখনো যেন উজ্জ্বল কোনো রঙিন স্বপ্ন। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের গর্বের দূর্গ তছনছ করে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয় ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য। 

যে দেশটির বিপক্ষে আগের ১৩ টেস্টে জয়ের দেখা মেলেনি, তাদেরই আঙিনায় গিয়ে তাদের কুপোকাত করা—সে এক ‘বিব্রতকর’ হার উপহার দিয়েছিল শান মাসুদের বাহিনীকে। কালের পরিক্রমায় সেই পাকিস্তান দল আবারও বাংলাদেশে, তবে এবারের মঞ্চ মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট।

আগে ঘরের মাঠে টেস্ট মানেই ছিল ‘স্পিন-ফাঁদ’। ধুলো উড়া উইকেটে স্পিনাররাই ছিলেন প্রধান ভরসা। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গত কয়েক বছর ধরে সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেসাররা যে দাপট দেখাচ্ছেন, তার প্রতিফলন এবার দেখা যেতে পারে সাদা পোশাকেও। মিরপুরের উইকেটে ঘাস রাখা হয়েছে, যেখানে ব্যাটসম্যান এবং বোলার—উভয়ই সমান সুযোগ পাবেন।

স্পোর্টিং উইকেটে খেলে নিজেদের শক্তির পরীক্ষা নিতে চায় বাংলাদেশ। ধারণা করা হচ্ছে, শেরেবাংলা টেস্টে তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। গতকাল অনুশীলনেও কোচ, অধিনায়ক এবং নির্বাচকদের উইকেটের সামনে লম্বা সময় আলোচনা করতে দেখা গেছে, যা নতুন এই রণকৌশলেরই আভাস দিচ্ছে।

ব্যাট হাতে গত কয়েক বছর ধারাবাহিকতা থাকলেও ওপেনিং জুটি নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি বাংলাদেশের। সেই আক্ষেপ মেটাতে এবার লাল বলের ক্রিকেটে অভিষেক হতে যাচ্ছে আক্রমণাত্মক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। সাদা বলের ফর্মটা তিনি টেস্টের অভিজাত মঞ্চে কতটা টেনে নিতে পারেন, তা হবে দেখার বিষয়।

অন্যদিকে, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় ৫০ গড়ে রান করা অমিত হাসানকে নিয়েও আগ্রহ তুঙ্গে। মিডল অর্ডারের এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানকে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে প্রথমবার দেখা গেছে বেশ আত্মবিশ্বাসী। 

টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, অমিতকে খেলানোর পরিকল্পনা করেই স্কোয়াডে রাখা হয়েছে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত চক্রে বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠ ছিল এক গোলকধাঁধা। দেশের বাইরে তিন জয় থাকলেও ঘরের মাঠে ৬ টেস্টে জয় ছিল মাত্র একটিতে। সেই ‘হোম কন্ডিশন’ জুজু কাটাতে ৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজটি নাজমুল হোসেন শান্তর দলের জন্য বড় সুযোগ।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য এটি ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। রাওয়ালপিন্ডির সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। শান মাসুদের অধিনায়কত্ব সেই হারের পর নড়বড়ে হলেও তিনি টিকে গেছেন।