যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের দিনে ডুলির অভিষেকের গল্প শোনালেন অ্যালবার্ট

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১৫:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

৩২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাগতিক হয়েছে। গত পরশু মেক্সিকো সিটিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ম্যাচ হয়েছে আজ বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায়। লস অ্যাঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়েকে পরাজিত করেছে। 

তিন দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ ও নিজেদের প্রথম ম্যাচ উপলক্ষ্যে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস রাজধানীর একটি সেন্টারে খেলা দেখার ব্যবস্থা করে। সকালে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীর সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের অনেক কর্মকর্তা নিজেদের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ উপভোগ করেছেন। কয়েকজন ক্রীড়া সাংবাদিকও এতে আমন্ত্রিত ছিলেন।

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কনসুল জেনারেল অ্যালবার্ট সেয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে ম্যাচের মধ্য বিরতিতে তার ফুটবলপ্রেমের নানা গল্প বললেন। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের বর্তমান কোচ থমাস ডুলি আমেরিকার জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। ১৯৯২ সালে ইউএসএ কাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ডুলির অভিষেক ম্যাচ তিনি মাঠে বসে দেখেছেন। ৩৪ বছর আগের স্মৃতি এখনো টাটকা অ্যালবার্টের,‘ঐ দিন ম্যাচে বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা সেই ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছিলাম। ডুলি তার অভিষেক ম্যাচে দারুণ খেলেছিল। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলে তার অ্যাসিস্টে। ’

১৯৯২ সালে অভিষেক হওয়া ডুলি ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে আমেরিকার আর্মব্যান্ড পড়েন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপেও খেলেছেন দাপটের সাথে। মার্কিন কূটনীতিক অ্যালবার্টের অন্যতম প্রিয় ফুটবলারদের একজন ডুলি,‘আমি তার খুবই ভক্ত। সে তার সময়ে আমেরিকার সেরা ফুটবলারদের একজন। এ জন্য আমেরিকার হল অফ ফেমেও তিনি রয়েছেন। তার ব্যক্তিত্ব এতটাই অসাধারণ তরুণ ফুটবলার থাকাবস্থায় মনে হতো যেন ৪০ বছরের অভিজ্ঞ ফুটবল প্রফেসর। ’ 

কূটনীতিক হলেও অ্যালবার্টের ফুটবল বিশ্লেষণও বেশ দক্ষ। ফুটবলার ডুলিকে দারুণভাবে বিশ্লেষণ করলেন,‘সে অত্যন্ত পরিশ্রমী ফুটবলার। ফুটবলে মিডফিল্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পজিশন সে ডিফেন্ডার হলেও আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে দারুণ সমন্বয় করতে পারতেন। বেশ কয়েকটি ম্যাচে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স রয়েছে।’

অ্যালবার্টের প্রিয় ডুলি এখন বাংলাদেশ ফুটবল দলের হেড কোচ। বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে ডুলি ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারবেন এমনটাই মত তার,‘ডুলির অধীনে বাংলাদেশ সান মারিনোকে হারিয়েছে সম্প্রতি। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয়ান দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি যেমন উচু মানের, কোচ হিসেবেও তিনি দারুণ দক্ষ। তার অধীনে বাংলাদেশের ফুটবল এগিয়ে যাবে আশা করি।’ 

সান মারিনোর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ডুলি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। সেই সম্মেলনে তিনি নিজেই বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ এনেছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি অধিনায়ক হলেও সেটা আমেরিকার জন্য সুখস্মৃতির বিশ্বকাপ ছিল না বলে মন্তব্য করেন। ডুলির সঙ্গে একমত পোষণ করে অ্যালবার্ট বলেন,‘হ্যাঁ, ওেই বিশ্বকাপে কিছু ইস্যু ছিল যেটা পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়েছিল। পাশাপাশি সেবার আমাদের গ্রুপটিও অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল।’

১৯৯৪ সালে আমেরিকা এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল। ৩২ বছর পর আমেরিকার সাথে কানাডা ও মেক্সিকো সহ-আয়োজক। ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৭৮ ম্যাচ আমেরিকায়। দুই বিশ্বকাপ আয়োজনের এই সময়ের মধ্যে আমেরিকার ফুটবল সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়ে অ্যালবার্ট বলেন,‘১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের দিক থেকে বেশ সফল ছিল। গত তিন দশকের মধ্যে মেজর সকার লিগের মাধ্যমে ফুটবল বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। যেটা ঐ সময়ে অতটা ছিল না। এখনো বাস্কেটবল আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার একটি।’

আমেরিকার তরুণরা ফুটবলের চেয়ে বাস্কেটবল এবং অন্য খেলায় একটু বেশি আগ্রহী। কূটনৈতিক অ্যালবার্ট এত ফুটবলপ্রেমী হওয়ার নেপথ্যের বিষয়ে বলেন,‘আমার বাবা আমেরিকায় ফুটবল স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। আমার মা চিলি, মায়ের পরিবারে দুই চিলির জাতীয় দলেও খেলেছেন। পারিবারিক সূত্রে আমি খুবই ফুটবল অনুরাগী। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবস্থায় আমি নিজেও খেলেছি।’ 

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ওয়াশিংটন ডিসিতে বসে একাধিক ম্যাচ দেখেছিলেন অ্যালবার্ট। ’৯৮ সালের বিশ্বকাপেও মাঠে বসে উপভোগ করেছেন। বিশ্বকাপের ম্যাচের টিকিটগুলো এখনো তার সংগ্রহে রয়েছে। ১৯ জুন সিয়াটলে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দেখবেন। আমেরিকা থেকে ফিরে ২৬ জুন ঢাকায় তুরস্কের বিপক্ষে খেলা দেখবেন।

স্বাগতিক আমেরিকা আজ বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা করেছে। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। আজকের ম্যাচ নিয়ে তার বিশ্লেষণ,‘ দক্ষিণ আমেরিকার অঞ্চলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তারা ষষ্ঠ হয়ে বিশ্বকাপে এসেছে। এজন্য তারা মোটেও দুর্বল নয়। ব্রাজিল, উরুগুয়ে,কলম্বিয়া ও প্যারাগুয়ে সমান ২৮ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে কম থাকায় প্যারাগুয়ে তাদের পেছনে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডের পয়েন্ট ২৯। এমন দলের বিপক্ষে আমরা প্রথম ম্যাচে দারুণ গতি ও ছন্দময় ফুটবল খেলেছি। বিশেষ করে শেষ গোলটি অসাধারণ হয়েছে। পচেত্তনি ভালো মানের কোচ। আজ ফরমেশনে তিনি বেশ কৌশলী ছিলেন। তার অধীনে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। ’

বিশ্বকাপ আবহের শুরু থেকেই আলোচনা চ্যাম্পিয়ন হবে কোন দল। আজকের ম্যাচের বিরতির মধ্যে আড্ডায় উঠলো এই প্রশ্ন। অ্যালবার্ট একক কোনো দলকে এগিয়ে রাখতে পারছেন না,‘বেশ কয়েকটি দল শিরোপার জোর দাবিদার। স্পেন, আর্জেন্টিনা,ফ্রান্স সবাই দুর্দান্ত। একটি অসাধারণ বিশ্বকাপের অপেক্ষায় আমরা সবাই।’

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে খেলে না। এরপরও বিশ্বকাপ নিয়ে অনেক উন্মাদনা বাংলাদেশে। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক অনেক। সেটা তিনি ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকায় চিলি ও আর্জেন্টিনা ম্যাচে টের পেয়েছেন,‘২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোপা আমেরিকার স্বাগতিক হয়েছিল। নিউইয়র্কে চিলি ও আর্জেন্টিনার ম্যাচটি আমি দেখেছিলাম। সেখানে অনেক বাংলাদেশিকে দেখেছি আর্জেন্টিনার জার্সি পড়ে সমর্থন করতে।’


আমার বার্তা/এমই