ঐতিহাসিক অভিষেকেই ব্রাজিলকে কাঁপিয়ে দেওয়া কে এই আইয়ুব বুয়াদ্দি
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১৭:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শনিবার দিনগত রাতে ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক অভিষেকেই সব আলো কেড়ে নিয়েছেন উদীয়মান তারকা আইয়ুব বুয়াদ্দি। মাঝমাঠ আগলে রেখে তার এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অবশ্য মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির কাছে মোটেও বিস্ময়কর মনে হয়নি।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ১-১ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে মরক্কো। ম্যাচের ২১তম মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা। তবে এর ঠিক ১১ মিনিট পরই সেলেসাওদের সমতায় ফেরান ভিনিসিউস জুনিয়র।
ফরাসি যুব দলগুলোর হয়ে খেলার পর গত মার্চেই ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন বুয়াদ্দি। তবে এর মাত্র কয়েক মাস রেই এ ম্যাচ দিয়ে মরক্কোর মূল জাতীয় দলে তার অভিষেক হলো।
ম্যাচ-পরবর্তী ‘সোফাস্কোর’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার মরক্কোর হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮৭ বার বল স্পর্শ করেছেন, ৬০টি নিখুঁত পাস দিয়েছেন এবং ৩টি সফল ড্রিবলিং করেছেন। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই তার এমন অনবদ্য পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল দল ব্রাজিলের সঙ্গে মরক্কোকে সমানে সমানে লড়াই করতে সাহায্য করেছে।
লিল-এর এই মিডফিল্ডার পুরো ম্যাচই আধিপত্য দেখিয়েছেন। প্রথমার্ধে তিনি ব্রাজিলের কাসেমিরোকে বোতলবন্দি করে রাখেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে ফাবিনহোর বিপক্ষে মাঝমাঠের দখল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।
কয়েক মাস আগেও নিশ্চিত ছিল না, মরক্কোর হয়েই খেলবেন কিনা। জন্ম ফ্রান্সে, বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন ফ্রান্সের হয়ে। তবে বাবা-মায়ের জন্মসূত্রে মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ ছিল তার। এই বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে মরক্কোর জার্সি গায়ে দেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। তারপরও বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে তাকে একাদশে রাখতে এতটুকু দ্বিধা করেননি কোচ আইয়ুব ওয়াহবি।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, ‘ওর বয়স মাত্র ১৮ বলেই তাকে খেলানোটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি শুধু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখি, বয়স নয়। সে ভালো খেললে তার বয়স ৩৫ হলেও খেলবে, আবার ১৭ হলেও খেলবে।’
তরুণ বুয়াদ্দিকে শুরুর একাদশে রাখাটা কোনো সাহসী বা হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না উল্লেখ করে মরক্কো কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত ছিল এবং এই তরুণের ক্ষমতার ওপর তার পূর্ণ আস্থা ছিল।
‘আমি তরুণদের খেলাতে ভয় পাওয়ার মতো লোক নই। আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে ও একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দেবে, তাই এটি মোটেও কোনো ঝুঁকি ছিল না। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ঝুঁকি নেওয়ার মতো ম্যাচ এটি ছিল না।’
বুয়াদ্দির এই পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) ফুটবল ভক্তদের কাছে এ ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) নাম জানতে চান। জবাবে সিংহভাগ মন্তব্যেই বুয়াদ্দির নাম উঠে আসে এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে তার আত্মবিশ্বাস, নিখুঁত পাসিং ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
এক এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আজ রাতে আইয়ুব বুয়াদ্দির শান্ত ও সংযত খেলা ছিল অসাধারণ। আড়ালে পড়ে থাকা এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, আমাদের চোখে ওই ম্যাচসেরা।’ অন্য একজন তাকে ‘অসাধারণের চেয়েও বেশি কিছু’ হিসেবে বর্ণনা করে তার ‘ধৈর্য ও খেলার প্রতি আবেগের’ প্রশংসা করেছেন।
আগামী ১৯ জুন ফক্সবরোতে গ্রুপ ‘সি’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। এর ঠিক পাঁচ দিন পর আটলান্টায় হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে মরক্কো। ব্রাজিল ম্যাচের এ আত্মবিশ্বাস ধরে রেখেই তারা টুর্নামেন্টে এগিয়ে যেতে চায়।
আমার বার্তা/এমই
