দলে হামজাদের বোঝাপড়া তৈরির চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ কোচের

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

আসিয়ান কাপের আগে অবশেষে পূর্ণাঙ্গ দল পেয়েছেন থমাস ডুলি। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফারহান আলী ওয়াহিদ ও সোহেল রানাও দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু স্বস্তির সঙ্গে চাপও আছে বাংলাদেশের কোচের। প্রথম ম্যাচের আগে পুরো দল নিয়ে অনুশীলনের সুযোগ মাত্র দুই দিন। এ অল্প সময়েই নতুন-পুরোনোদের বোঝাপড়া তৈরি করে দলকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

জাকার্তার জিবিকে অ্যারেনার প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে গতকাল পরিপূর্ণ দল নিয়ে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া অনুশীলন চলে প্রায় দেড় ঘণ্টা। ওয়ার্মআপ ও স্ট্রেচিংয়ের পর ফিটনেস ও রিকভারি, শেষ ভাগে কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন ডুলি।

কয়েক মাস পর জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরে শমিত সোমের চোখে দলকে অবশ্য বেশ ‘শার্প’ মনে হয়েছে। অনুশীলন শেষে এই মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘সবার সঙ্গে আবার খেলতে খুব ভালো লাগছে, কয়েক মাস পর। দলকে খুব শার্প (ছন্দে থাকা) মনে হচ্ছে, ট্রেনিংও খুব ভালো হয়েছে। মাঠটাও খুব সুন্দর ছিল। আশা করি আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তবে প্রস্তুতির জন্য সময় যে খুব বেশি নেই, সেটি জানেন শমিতও। সামনে আরও দুই দিন অনুশীলন করে শুক্রবার ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। সেই অল্প সময়ের মধ্যে নতুন সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া গড়ে তোলাই এখন মূল কাজ।

ডুলির কথায়ও উঠে এসেছে একই বাস্তবতা। পূর্ণাঙ্গ দল পাওয়ার আনন্দের মধ্যেও সময়ের স্বল্পতা আক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তিনি। বাংলাদেশ কোচ বলেছেন, ‘দুঃখের বিষয় হলো, পুরো স্কোয়াডকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য আমরা মাত্র দুই-তিন দিন সময় পাচ্ছি। খেলোয়াড়দের একে অন্যের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করে নিতে হবে।’

বিশেষ করে নতুনদের সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করতে হবে দ্রুত। ডুলি জানিয়েছেন, দলের কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় আগে শমিত, হামজা কিংবা ফাহাদের সঙ্গে খেলেনি। অল্প সময়ের মধ্যে মাঠের বোঝাপড়া তৈরি করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

নতুনদের নিয়ে অবশ্য আশাবাদী শমিত। হামজা, ফারহানদের সঙ্গে প্রথমবার অনুশীলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘নতুন কয়েকজন খেলোয়াড় এসেছে। তাদের সঙ্গে দেখা করতে, প্রথমবারের মতো অনুশীলন করতে খুব ভালো লাগছে। আমি খুবই মুগ্ধ। সবাই আমাদের গ্রুপে কিছু না কিছু যোগ করতে পারে। সেখান থেকেই আমাদের স্কোয়াড আরও উন্নত হবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে।’

দলের ভেতরের প্রতিযোগিতা বাড়াটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শমিত। তবে সবার লক্ষ্য যে এক, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের সবার একই লক্ষ্য—বাংলাদেশের জন্য ভালো করা, ম্যাচ জেতা এবং ভালো খেলা।’

জাকার্তায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন নিয়ে সন্তুষ্ট ডুলিও। মাঠ ও সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের খুব ভালো একটা সেশন হয়েছে। এখানকার মাঠ ও সুযোগ-সুবিধা চমৎকার। এই ধরনের টার্ফে খেলতে বেশ ভালো লাগে। সবার মধ্যে দারুণ শক্তি ও উৎসাহ রয়েছে।’

তবে শেখ মোরসালিন এখনো মূল দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। কাফের চোটে তিনি আলাদাভাবে রিকভারি সেশন করেছেন। ডুলি জানিয়েছেন, রাতে স্ক্যানের রিপোর্ট পাওয়ার পর আগামীকাল তাঁর অনুশীলনে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরশু টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ, প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া।