
তেজগাঁও কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানার হত্যার বিচার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে রাজধানীর ফার্মগেট মোড়ে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড়ের চারদিক ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিয়েছেন। এতে ফার্মগেট ও আশপাশের সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তবে মানবিক বিবেচনায় অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’, ‘তুমি কে আমি কে, সাকিব সাকিব’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’-সহ ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা গেছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, সাকিবুল হাসান রানার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচারিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তারা রাজপথ ছাড়বেন না। খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
অন্যদিকে ফার্মগেট এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে তেজগাঁও বিভাগের পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করতে দেখা গেছে। তারা শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি–দাওয়ার বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে শিক্ষার্থীরা পুলিশের এসব আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। তারা জানান, সাকিবুল হাসান রানার হত্যার ঘটনায় খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। দাবি আদায় না হলে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত হন উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা। পরে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

