
বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে নির্বাচনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি থাকলেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তিনি নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে জানান।
দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তাপস স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন। তিনি জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে, এই আসনে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম.এ. মান্নান।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য কাজী নাজমুল হোসেন তাপসকে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেই অনুরোধে সাড়া দেননি। বিএনপির নির্বাহী কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শিগগিরই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে এসব চাপ উপেক্ষা করে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন তাপস। তিনি বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনই তাকে নির্বাচনের মাঠে ধরে রেখেছে। নবীনগরের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জনগণই শেষ কথা বলবে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, ভোটাররা তাকে হতাশ করবেন না।
এদিকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে এই আসনে প্রার্থী তালিকায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। মোট ১০ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন এবং গণফ্রন্টের নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে এবার ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

