
নাটোর-১ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। জেলা বিএনপির সদস্য ও প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের সন্তানরা এবার একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পরিবারিক এই দ্বন্দ্বে মেয়েটি ফারজানা শারমিন পুতুল দলীয় মনোনয়নের সুযোগ পেয়েছেন, তবে ছেলে ইয়াসীর আরশাদ রাজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নাম দিয়েছেন।
তবে ভোটের ময়দানে শুধুমাত্র ভাই-বোনের দ্বন্দ্বই নয়, কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই অন্তঃকরণ ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের অবস্থান আসনটিতে ভোটের ভাগাভাগি এবং দলীয় ঐক্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ত্যাগী নেতাদের মধ্যে অনেকেই মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ দলের সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা যথেষ্ট জনপ্রিয় হওয়ায় আসনগুলিতে বিএনপির ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন যে তফসিল ঘোষণা করেছে, তাতে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির বেশিরভাগ বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এর ফলে ভোটের সমীকরণে আগের পরিকল্পনার তুলনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাটোর-১ আসনের এই পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় ভোটেই প্রভাব ফেলবে না, বরং জাতীয় পর্যায়ে দলের শক্তি ও ভোটের দিকনির্দেশক হিসেবে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

