ই-পেপার সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩৩

‘এনটিআরসিএ’র নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত সামাধান চান নিবন্ধনধারীরা

আলিমা আফরোজ লিমা
২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:৩৪

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) যেন দুর্নীতি ও হয়রানির জন্যই গঠিত।সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়াই কাজ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)’র। হাজার হাজার শূন্যপদ রেখেও পদায়ন না করা, ভুয়া সনদ, সিষ্টেম দুর্নিতি গণবিজ্ঞপ্তি জারিতে কালক্ষেপণ, বদলির ব্যবস্থা না রাখা এসবই করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

চাকরিপ্রত্যাশীদের দিনের পর দিন করে যেতে হচ্ছে দাবি আদায়ের আন্দোলন।আদালত পাড়াতেও গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। মনগড়া নিয়ম বানিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে নিবন্ধনধারীদের উপর।আর প্রতিষ্ঠানটি আয় করছে কোটি কোটি টাকা। ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না প্রতিষ্ঠানটির। চেয়ারম্যান আসে, চেয়ারম্যান যায়। কিন্তু বন্ধ হয় না হয়রানি। চাকরিপ্রত্যাশী বেকার কেউ নিবন্ধন পরীক্ষায় পাসের মধ্যদিয়েই যেন নাম লেখান ভোগান্তির খাতায়। শুরুতেই আন্দোলন করতে হয় গণবিজ্ঞপ্তির জন্য। বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা ও দুর্নীতি নিরসনে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা চালু করা হয় দেড় দশক আগে।

আর এসব শিক্ষক নিয়োগের জন্য সরকার ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করে। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন একবার করতে হলেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম এনটিআরসিএ।

তাদের নিয়ম জটিলতায় কয়েক ধাপে আবেদন করতে হয় প্রার্থীদের।সেই সাথে আবেদনের জন্য গুণতে হয় হাজার হাজার টাকা।এমনকি প্রতিটি স্কুল কলেজে আলাদা আলাদা অর্থের বিনিময়ে করতে হয় আবেদন।

২০১৪ সালে এনটিআরসিএ কর্তৃক বৈধ সনদ পান মো. মামুন ইসলাম। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর অপেক্ষা ও টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হয়েছে। এমনকি মিতা নামের একজন নিবন্ধণধারী বৈধ সনদ পাওয়ার পরও নিজের স্বর্ণের চেন বিক্রি করে করতে হয়েছে আবেদন।এরপরও কোন সুরাহা হয়নি।

অন্য একজন নিবন্ধনধারী বলেন, প্রায় ৪০০ পদের জন্য আবেদন করতে হয়েছে। তাতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন- আমাকে কেন আলাদা আবেদন করতে হবে। আমি সনদ দেখিয়ে আবেদন করবো, পছন্দক্রম দেবো,শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ হবে - এটাই তো হওয়ার কথা।

মামুনের মতো হাজারো প্রার্থীকে গুনতে হয়েছে হাজার হাজার টাকা। যাতে আকাশচুম্বী আয়ও হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ৩৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের আগে এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে এনটিআরসিএ আয় করে প্রায় ২০৩ কোটি টাকা। এনটিআরসিএ’র নিয়মই যেন এক একটা ফাঁদ। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদের প্রেক্ষিতে নিয়োগের জন্য প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক ও জাতীয় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান পেতে হয়।

এরপর নিয়োগের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য প্রার্থীদের কাছে আবেদন নেয়া হয়। শেষ ধাপে মেধা তালিকার শীর্ষ সারি থেকে শূন্যপদে একজন শিক্ষককে সুপারিশ করা হয়। এসব ধাপে ভোগান্তি চরম মাত্রায় ঠেকেছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই মামলার খড়গে আটকে গেছে প্রায় সকল সিদ্ধান্ত।

বেকার চাকরিপ্রত্যাশীদের আশা দেখিয়ে নিয়মের মারপ্যাঁচে আটকে রাখা হয়। এনটিআরসিএ শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য প্রথম ধাপে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে স্কুল বা কলেজ ক্যাটাগরিতে প্রার্থীরা আবেদন করেন। একটি আবেদনের খরচ ৩৫০ টাকা। আবার শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন ফি ১০০ টাকা।

আদালতের সিদ্ধান্তে ২০১৮ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ৪০ হাজার শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয় এনটিআরসিএ। এরপর বিভিন্ন ব্যাচের চাকরিপ্রত্যাশীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। এ নিয়ে তৎকালীন সময়ে রিট হয়েছিল ১৬৬টি। এমনকি এসব নিষ্পপ্তি হওয়ার পরও ১৩তম নিবন্ধনধারীদের নিয়ে দু’রকম আদেশ আসায় সেটি নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়। শুধু এটি নয়, জটিলতা ছিল ২০১৮ সালে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীরা ছিলেন ২০১৫ সালের সনদধারী। ফলে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে তারা শত শত বিদ্যালয়ের শূন্যপদে আবেদন করেও চাকরির সুপারিশ পাননি।

তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশীরা আরও কঠিন সময়ের মধ্যদিয়ে সময় পার করেন। তারা পরীক্ষার উত্তীর্ণ হওয়ার পর দেশে করোনার কারণে স্থবিরতা চলে আসে। এ সময়টায় তারা দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেন। শুধু তাই নয়, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এতটাই জটিল ছিল যে, কোনো কোনো পক্ষকে আন্দোলনের মাঝেই থাকতে হয়। প্রায় ১০০ দিনের মতো অনশন করেছেন নিবন্ধনধারীরা। এমনকি ঈদের দিনও তারা সড়কে কাটিয়েছেন। তাদের দাবি প্যানেল ভিত্তিতে প্রথম নিবন্ধনধারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ক্রমান্বয়ে সকলকে নিয়োগ দেয়া। আবার এই ৩৪ হাজার শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ইনডেক্সধারী আবেদন করেন।

এনটিআরসিএ’র গাড়িচালকের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ

নিয়মের মারপ্যাঁচের বাইরেও আছে প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতি। গেল বছর এনটিআরসিএ’র একজন গাড়িচালকের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হয়। তিনি তদবির ও জালিয়াতি করে আয় করেন কোটি কোটি টাকা। এরপর সনদ বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেন একাধিক নিয়োগ পাওয়া ও নিয়োগ প্রত্যাশী শিক্ষক। মাগুরায় নিয়োগ পাওয়া এক শিক্ষক বলেন, সনদেই মূলত প্রধান বাণিজ্য হয়। ২০২০ সালে সনদের আবেদন রিজেক্ট হয় আমার। সনদ পাইয়ে দেয়ার জন্য কয়েক শ্রেণির দালাল থাকে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। তারা সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত রাখতো।

এনটিআরসিএ’তে টাকা ঢাললেই মেলে স্বাক্ষর, সনদ ও নিয়োগ

এনটিআরসিএ’তে টাকা ঢাললেই মেলে স্বাক্ষর, বাড়িয়ে নেয়া যায় নম্বর। এতসব দুর্নীতির চিত্র গণমাধ্যমে প্রায়শই উঠে আসার পরও ব্যবস্থা নেইনি এনটিআরসিএ। এনটিআরসিএ পার হওয়ার পরও থেমে থাকে না হয়রানি। প্রতিষ্ঠানপ্রধান, ম্যানেজিং কমিটি, উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা এমপিও ফাইল নানাভাবে আটকিয়ে রাখছেন। ঘুষ না দিলে সেই ফাইল ছাড়ছেন না।

সারা দেশে ৬০ হাজার শিক্ষক জাল সনদে চাকরি

শুধু তাই নয় সারা দেশে ৬০ হাজার শিক্ষক জাল সনদে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের চিহ্নিত করার পর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এনটিআরসিএ নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত শিক্ষক সংগঠনের এই অভিযোগ করার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এনটিআরসিএ। তারা দাবি করে আমাদের রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে এনটিআরসিএ ৬০ হাজার জাল সনদ দিয়েছে। তাদের আবার এমপিওভুক্ত করেছে। জাল সনদধারীরা বহাল তবিয়তেই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শাখায় এখনো শিক্ষকতা করছেন। জাল সনদধারীদের চিহ্নিত করার পরও তাদের চাকরিচ্যুত করা হলো না কেন? আমাদের নিয়োগ এখনো দেয়া হয়নি কেন?

গত ১০ই ফেব্রুয়ারি শাহাবাগে লাগাতার আন্দোলন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত্রি যাপন করেন নিবন্ধনধারীরা। শিক্ষকদের ধর পাকড় আর জল কামান টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। আন্দোলনের ২য় দিনে উর্ধ্বতন মহলের আশ্বাস পাওয়ার পরও কোন সুরাহা হয়নি।এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ে বারংবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কোন ভ্রুক্ষেপ করেননি।এমনকি নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর চিঠি দেওয়ার পরও এ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে আশানুরূপ কোন ফলাফল পায়নি নিবন্ধনধারীরা। এমত অবস্থায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সুফল স্বরূপ শিক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য দূরীকরণে উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ১-১২ তম নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষকগণ।

আমার বার্তা/আলিমা আফরোজ লিমা/এমই

আগামীতে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ বিবেচনায় আছে: শিক্ষামন্ত্রী

আগামীতে নয় হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয় সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন

৯ বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষার চিন্তা, পাস কমলেও মান বাড়াতে চায় সরকার

সারাদেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোতে প্রশ্নপত্রের মান ও পরীক্ষার মূল্যায়নে সমতা আনতে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ নিয়ে নির্দেশ স্থগিত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ চালুর বিষয়ে সরকারের আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা

তেলের জন্য আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক থেকে অর্থ জোগানের চেষ্টা করবো

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

একুশে বইমেলায় ‘সেরা রাধুনীদের সেরা রেসিপি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

নবীনগরে পুকুর থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের বিতর্ক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরবরাহ করা নতুন নোট ব্যাংকে লাপাত্তা, ফুটপাতে চড়াদাম

দেশের ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিলো সরকার

নতুন দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

ঢাকা দক্ষিণে ডিজিটালাইজেশন: অটোরিকশা, হকার ও বাজার ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ছোঁয়া

পাইকারি ও খুচরা বাজারের মূল্য তারতম্য অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি

বিআরটি প্রকল্পের আবদুল্লাহপুর অংশের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষের তাগিদ

শাহজালালের ভিভিআইপি ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ঘুরে দেখলেন বিমানমন্ত্রী

১২ সিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শেবাচিম হাসপাতালে নার্সের ভুলে ২ রোগীর মৃত্যু

পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন করে তুলেছে

আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতায় কোনো ছাড় নয়: চিফ প্রসিকিউটর

জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতি প্রার্থীতায় রা‌শিয়ার সমর্থন চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

মির্জাপুরে গোড়াই ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে বিজিএফের চাল বিতরণ

৬ লাশ পোড়ানোর মামলা: আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ