ই-পেপার বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩৩

‘এনটিআরসিএ’র নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত সামাধান চান নিবন্ধনধারীরা

আলিমা আফরোজ লিমা
২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৮:৩৪

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) যেন দুর্নীতি ও হয়রানির জন্যই গঠিত।সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়াই কাজ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)’র। হাজার হাজার শূন্যপদ রেখেও পদায়ন না করা, ভুয়া সনদ, সিষ্টেম দুর্নিতি গণবিজ্ঞপ্তি জারিতে কালক্ষেপণ, বদলির ব্যবস্থা না রাখা এসবই করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

চাকরিপ্রত্যাশীদের দিনের পর দিন করে যেতে হচ্ছে দাবি আদায়ের আন্দোলন।আদালত পাড়াতেও গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। মনগড়া নিয়ম বানিয়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে নিবন্ধনধারীদের উপর।আর প্রতিষ্ঠানটি আয় করছে কোটি কোটি টাকা। ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না প্রতিষ্ঠানটির। চেয়ারম্যান আসে, চেয়ারম্যান যায়। কিন্তু বন্ধ হয় না হয়রানি। চাকরিপ্রত্যাশী বেকার কেউ নিবন্ধন পরীক্ষায় পাসের মধ্যদিয়েই যেন নাম লেখান ভোগান্তির খাতায়। শুরুতেই আন্দোলন করতে হয় গণবিজ্ঞপ্তির জন্য। বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা ও দুর্নীতি নিরসনে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা চালু করা হয় দেড় দশক আগে।

আর এসব শিক্ষক নিয়োগের জন্য সরকার ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করে। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন একবার করতে হলেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম এনটিআরসিএ।

তাদের নিয়ম জটিলতায় কয়েক ধাপে আবেদন করতে হয় প্রার্থীদের।সেই সাথে আবেদনের জন্য গুণতে হয় হাজার হাজার টাকা।এমনকি প্রতিটি স্কুল কলেজে আলাদা আলাদা অর্থের বিনিময়ে করতে হয় আবেদন।

২০১৪ সালে এনটিআরসিএ কর্তৃক বৈধ সনদ পান মো. মামুন ইসলাম। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর অপেক্ষা ও টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হয়েছে। এমনকি মিতা নামের একজন নিবন্ধণধারী বৈধ সনদ পাওয়ার পরও নিজের স্বর্ণের চেন বিক্রি করে করতে হয়েছে আবেদন।এরপরও কোন সুরাহা হয়নি।

অন্য একজন নিবন্ধনধারী বলেন, প্রায় ৪০০ পদের জন্য আবেদন করতে হয়েছে। তাতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন- আমাকে কেন আলাদা আবেদন করতে হবে। আমি সনদ দেখিয়ে আবেদন করবো, পছন্দক্রম দেবো,শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ হবে - এটাই তো হওয়ার কথা।

মামুনের মতো হাজারো প্রার্থীকে গুনতে হয়েছে হাজার হাজার টাকা। যাতে আকাশচুম্বী আয়ও হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ৩৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের আগে এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে এনটিআরসিএ আয় করে প্রায় ২০৩ কোটি টাকা। এনটিআরসিএ’র নিয়মই যেন এক একটা ফাঁদ। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদের প্রেক্ষিতে নিয়োগের জন্য প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক ও জাতীয় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান পেতে হয়।

এরপর নিয়োগের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য প্রার্থীদের কাছে আবেদন নেয়া হয়। শেষ ধাপে মেধা তালিকার শীর্ষ সারি থেকে শূন্যপদে একজন শিক্ষককে সুপারিশ করা হয়। এসব ধাপে ভোগান্তি চরম মাত্রায় ঠেকেছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই মামলার খড়গে আটকে গেছে প্রায় সকল সিদ্ধান্ত।

বেকার চাকরিপ্রত্যাশীদের আশা দেখিয়ে নিয়মের মারপ্যাঁচে আটকে রাখা হয়। এনটিআরসিএ শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য প্রথম ধাপে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে স্কুল বা কলেজ ক্যাটাগরিতে প্রার্থীরা আবেদন করেন। একটি আবেদনের খরচ ৩৫০ টাকা। আবার শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন ফি ১০০ টাকা।

আদালতের সিদ্ধান্তে ২০১৮ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে ৪০ হাজার শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয় এনটিআরসিএ। এরপর বিভিন্ন ব্যাচের চাকরিপ্রত্যাশীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। এ নিয়ে তৎকালীন সময়ে রিট হয়েছিল ১৬৬টি। এমনকি এসব নিষ্পপ্তি হওয়ার পরও ১৩তম নিবন্ধনধারীদের নিয়ে দু’রকম আদেশ আসায় সেটি নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়। শুধু এটি নয়, জটিলতা ছিল ২০১৮ সালে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীরা ছিলেন ২০১৫ সালের সনদধারী। ফলে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে তারা শত শত বিদ্যালয়ের শূন্যপদে আবেদন করেও চাকরির সুপারিশ পাননি।

তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশীরা আরও কঠিন সময়ের মধ্যদিয়ে সময় পার করেন। তারা পরীক্ষার উত্তীর্ণ হওয়ার পর দেশে করোনার কারণে স্থবিরতা চলে আসে। এ সময়টায় তারা দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেন। শুধু তাই নয়, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এতটাই জটিল ছিল যে, কোনো কোনো পক্ষকে আন্দোলনের মাঝেই থাকতে হয়। প্রায় ১০০ দিনের মতো অনশন করেছেন নিবন্ধনধারীরা। এমনকি ঈদের দিনও তারা সড়কে কাটিয়েছেন। তাদের দাবি প্যানেল ভিত্তিতে প্রথম নিবন্ধনধারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ক্রমান্বয়ে সকলকে নিয়োগ দেয়া। আবার এই ৩৪ হাজার শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ইনডেক্সধারী আবেদন করেন।

এনটিআরসিএ’র গাড়িচালকের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ

নিয়মের মারপ্যাঁচের বাইরেও আছে প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতি। গেল বছর এনটিআরসিএ’র একজন গাড়িচালকের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হয়। তিনি তদবির ও জালিয়াতি করে আয় করেন কোটি কোটি টাকা। এরপর সনদ বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেন একাধিক নিয়োগ পাওয়া ও নিয়োগ প্রত্যাশী শিক্ষক। মাগুরায় নিয়োগ পাওয়া এক শিক্ষক বলেন, সনদেই মূলত প্রধান বাণিজ্য হয়। ২০২০ সালে সনদের আবেদন রিজেক্ট হয় আমার। সনদ পাইয়ে দেয়ার জন্য কয়েক শ্রেণির দালাল থাকে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। তারা সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত রাখতো।

এনটিআরসিএ’তে টাকা ঢাললেই মেলে স্বাক্ষর, সনদ ও নিয়োগ

এনটিআরসিএ’তে টাকা ঢাললেই মেলে স্বাক্ষর, বাড়িয়ে নেয়া যায় নম্বর। এতসব দুর্নীতির চিত্র গণমাধ্যমে প্রায়শই উঠে আসার পরও ব্যবস্থা নেইনি এনটিআরসিএ। এনটিআরসিএ পার হওয়ার পরও থেমে থাকে না হয়রানি। প্রতিষ্ঠানপ্রধান, ম্যানেজিং কমিটি, উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা এমপিও ফাইল নানাভাবে আটকিয়ে রাখছেন। ঘুষ না দিলে সেই ফাইল ছাড়ছেন না।

সারা দেশে ৬০ হাজার শিক্ষক জাল সনদে চাকরি

শুধু তাই নয় সারা দেশে ৬০ হাজার শিক্ষক জাল সনদে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের চিহ্নিত করার পর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এনটিআরসিএ নিবন্ধিত নিয়োগবঞ্চিত শিক্ষক সংগঠনের এই অভিযোগ করার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এনটিআরসিএ। তারা দাবি করে আমাদের রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে এনটিআরসিএ ৬০ হাজার জাল সনদ দিয়েছে। তাদের আবার এমপিওভুক্ত করেছে। জাল সনদধারীরা বহাল তবিয়তেই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শাখায় এখনো শিক্ষকতা করছেন। জাল সনদধারীদের চিহ্নিত করার পরও তাদের চাকরিচ্যুত করা হলো না কেন? আমাদের নিয়োগ এখনো দেয়া হয়নি কেন?

গত ১০ই ফেব্রুয়ারি শাহাবাগে লাগাতার আন্দোলন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত্রি যাপন করেন নিবন্ধনধারীরা। শিক্ষকদের ধর পাকড় আর জল কামান টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। আন্দোলনের ২য় দিনে উর্ধ্বতন মহলের আশ্বাস পাওয়ার পরও কোন সুরাহা হয়নি।এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ে বারংবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কোন ভ্রুক্ষেপ করেননি।এমনকি নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর চিঠি দেওয়ার পরও এ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে আশানুরূপ কোন ফলাফল পায়নি নিবন্ধনধারীরা। এমত অবস্থায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সুফল স্বরূপ শিক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য দূরীকরণে উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ১-১২ তম নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষকগণ।

আমার বার্তা/আলিমা আফরোজ লিমা/এমই

এমপিওভুক্ত ৬৭ হাজার শূন্য পদে সুপারিশ পেলেন প্রায় ১২ হাজার

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। আজ বুধবার দুপুর

এনটিআরসিএর ৭ম বিশেষ নিয়োগ সুপারিশের ফল প্রকাশ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে সপ্তম বিশেষ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তির ফলাফল প্রকাশ করেছে বেসরকারি

আলিমে বাদ পড়াদের রেজিস্ট্রেশনে বিশেষ সুযোগ দিলো মাদ্রাসা বোর্ড

২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের (পরীক্ষা ২০২৬) আলিম শ্রেণিতে যেসব শিক্ষার্থী এখনও কোনো মাদ্রাসায় অনলাইনে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন

শিক্ষা টেকসই জাতীয় অগ্রগতির শক্তিশালী হাতিয়ার: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের কেবল সুদৃঢ় একাডেমিক জ্ঞান দিয়েই নয়, বরং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি,
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অবস্থা বুঝে ভারতের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান

তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে: উপদেষ্টা ফরিদা

ইরানে এবারের হামলা হবে আগের চেয়েও বড়, ট্রাম্পের নতুন হুমকি

নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয় জরুরি

‎অভিযানের নামে ভয় দেখিয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

সরকারি কর্মকর্তাদের ৫ বছরের বেশি থাকা ঠিক নয়: প্রধান উপদেষ্টা

১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ভূমিধস বিজয় হবে: পথসভায় সালাহউদ্দিন

বিএনপির আমলে দুর্নীতি ধারাবাহিকভাবে কমেছিল: মাহদী আমিন

উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের কাঁচাবাজারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

সুনামগঞ্জ সীমান্তে বাড়তি নিরাপত্তা, ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ভারতের নন-ফ্যামিলি পোস্টিংয়ের কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পোল্যান্ডে গ্রেপ্তার রাশিয়ান প্রত্নতাত্ত্বিক বিচার-পূর্ব দুই বছর জেলে থাকতে পারেন

বড়তাকিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাক পুকুরে, নিহত ২ ও আহত ৪

দেশে কৃষকদের প্রণোদনায় বাধার মুখে পড়তে হয়: কৃষি উপদেষ্টা

তারেক রহমানের প্রতি মানুষ আশা দেখতে পাচ্ছে: মির্জা ফখরুল

ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না

সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও গোপন তথ্য প্রচারে জেল-জরিমানা

যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেট থেকে কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা

রোগীদের সেবা গ্রহণ সহজ ও সাশ্রয়ী করবে ডিজিটাল সিস্টেম: ফয়েজ আহমেদ