ই-পেপার বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

বাংলাদেশে এখনো ১৬ শতাংশ শিশু টিকা পায় না: গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫:৫০

গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রমের আওতা বাড়েনি। এই সময়ে টিকা কাভারেজের (টিকা প্রাপ্তি) হার ৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ১২ বছর ধরে ১৬ শতাংশ শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মূলত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ পরিচালনায় ‘বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রমের সাফল্য, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহায়তায় ২০২৪ সালে ৩টি স্বতন্ত্র গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। তাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় টিকাদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টিকাদানের বিদ্যমান অবস্থা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে গবেষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ইপিআই কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১৯৮৫ সালে কর্মসূচিটি সারা দেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা শহরে ১৯৮৯ সালে প্রাথমিকভাবে শুরু হয়। এরপর শুরু হয় অন্যান্য বিভাগীয় শহরে। গত ৪৫ বছরে দেশে টিকাদান কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে। টিকা–প্রতিরোধযোগ্য রোগ (ভিপিডি) নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণের অর্জনও রয়েছে। ইপিআই কাভারেজ ইভালুয়েশন সার্ভের (২০১৯) পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ১৯৮৪ সালে ইপিআইয়ের কভারেজ ছিল ২ শতাংশের নিচে। বর্তমানে তা ৮৪ শতাংশ। গ্রাম ও শহরাঞ্চলে টিকাদানের পরিস্থিতির ভিন্নতা পাওয়া গেছে। গত ১২ বছরে ইপিআই কভারেজ ৮৪ শতাংশের ওপরে না ওঠায় ১৬ শতাংশ শিশু টিকার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

গবেষণায় ইপিআইয়ের প্রতিবন্ধকতার তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে জনবলের ঘাটতি, অঞ্চল ভিত্তিতে টিকাকেন্দ্রের অসম বণ্টন, অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, টিকার অপর্যাপ্ততা, টিকাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভাব, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকা পরিবহনজনিত সমস্যা ও প্রচারের অভাব অন্যতম।

ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, শহর ও গ্রামে টিকাদান প্রকল্পে বরাদ্দকৃত জনবলের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ও ইপিআই সদর দপ্তরে ৪৩ শতাংশ পদ শূন্য। বরাদ্দকৃত জনবলও প্রয়োজনের তুলনায় কম। আরবান ইমিউনাইজেশন স্ট্র্যাটেজি ২০১৯ ও ইপিআই মাইক্রোপ্ল্যান ২০২৪ অনুসারে, প্রতি ৫০ হাজার জনসংখ্যার জন্য ৬ জন টিকাদানকর্মী প্রয়োজন। যদিও তা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হয়নি। এ ছাড়া জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুসারে টিকাদানকেন্দ্রের অসম বণ্টন রয়েছে। দুর্গম এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকাদানকেন্দ্র নেই। কর্মসূচি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বাজেট বরাদ্দে দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া ৫ম স্বাস্থ্য জনসংখ্যা ও পুষ্টির সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) এখনো অনুমোদন পায়নি। ফলে টিকা ক্রয়, টিকা পরিবহন ও বণ্টনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ২০২৯ সালের পর স্বল্প আয়ের দেশে টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিতে গঠিত দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স বা গ্যাভি বাংলাদেশের প্রকল্পে সহায়তা বন্ধ করলে সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত করতে হবে। কারণ ২০২৯ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়শীল দেশের কাতারে চলে যাওয়ার কথা।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টিকায় বাজেট বরাদ্দ থাকলেও বিশেষ কিছু অ্যান্টিজেন (পিসিভি, ওপিভি ও এমআর) টিকার সংকট দেখা যাচ্ছে। সারা দেশে শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন, টিকাদান পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের অভাব দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে টিকা পরিবহনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

গবেষণার পরামর্শে বলা হয়, শহর ও গ্রামে টিকাদান প্রকল্পে বরাদ্দকৃত জনবলের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, জনসংখ্যাভিত্তিক জনবলনীতি বাস্তবায়ন করা, প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা বণ্টন, প্রতি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন গবেষণা প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

আমার বার্তা/এমই

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে নয়জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে

বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারই স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের স্বাস্থ্য খাতে সম্পদের সীমাবদ্ধতার চেয়েও বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনা বড় সংকট বলে

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছাত্র আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের পরামর্শ নেইনি: সংসদে শ্রম প্রতিমন্ত্রী

৫ বছর পর ঢাকা-ইইউ কূটনৈতিক সংলাপ, অংশীদারিত্ব গভীর করার প্রতিশ্রুতি

নিরাপদ ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান

বেলারুশ হতে পারে সার আমদানির নতুন গন্তব্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকার পতনের হুমকি দিলে বিরোধীদল থেকে আপনাদের পতন করা হবে

জাতীয় পরিচয়পত্র আবেদনের নিয়মে নতুন সংযোজন

৮ হাজার মাইল দূরে তারাই আমাদের পরিবার: আদালতে লিমন-বৃষ্টির বন্ধুরা

সংস্কারহীন সড়কে বিপর্যয়: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গর্তে নাকাল যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক নিহত

রেমিট্যান্সে সুবাতাস, এপ্রিলের ২৮ দিনেই এলো ২৯১ কোটি ডলার

লিফলেটে জুলাই সনদ নেই, জামায়াতের অবস্থান আধা প্রেম আধা প্রতারণা

রাস্তা সংস্কারের ফরমায়েশ পূরণে লাগবে ৩ লাখ কোটি টাকা: সেতুমন্ত্রী

১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সোলার থেকে উৎপাদন করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

২০৪০ সালের মধ্যে ৫.৫৭ কোটি পর্যটক আকর্ষণ ও ২.১৯ কোটি কর্মসংস্থান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু ডিএমপির

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি

সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী, গেজেট বৃহস্পতিবার

লিটারে ৪ টাকা বাড়লো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমরা ধারণ করি, বিক্রি করি না: শামা ওবায়েদ

প্রতি এক হাজার কিলোমিটার সড়কে বছরে প্রায় ৬৭ জনের মৃত্যু ঘটে