ই-পেপার সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

গাজা দখলে ট্রাম্পের চোখ কপালে তোলা পরিকল্পনায় বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪১
হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি এএফপি

গাজায় যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চমকপ্রদ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে অঞ্চলটির দখল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার দাবি, গাজাকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘রিভিয়েরা’ বা বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

>> বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই আরব দেশগুলোর কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। পাঁচজন আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ অঞ্চলটিকে আরও বেশি সংঘাতময় করে তুলবে।

তবে মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার কিছু সমর্থক এটিকে ‘যুগান্তকারী উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে একে ‘অসম্ভব’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করছেন। ইসরায়েলেও বিষয়টি নিয়ে নানা মত রয়েছে। দেশটির এক কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বাইবেলের একটি পদ উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘প্রভু আমাদের জন্য মহান কাজ করেছেন, তাই আমরা আনন্দিত।’ তবে অধিকাংশ ইসরায়েলি ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা দেখে হতবাক।

>> ট্রাম্পের ব্যাখ্যা

হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, আমরা গাজা দখল করবো এবং একে নতুনভাবে গড়ে তুলবো। আমরা সেখানে অবিস্ফোরিত বোমা ও অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করবো এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নিয়ন্ত্রণ নেবো। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।

ট্রাম্প দাবি করেন, এটি হালকাভাবে নেওয়ার মতো কোনো পরিকল্পনা নয়। ‘সবাই’ চায়, যুক্তরাষ্ট্র এই জমির মালিক হোক এবং একে একটি ‘মহান স্থানে’ পরিণত করুক।

তার মতে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় ফিলিস্তিনিদের থাকা উচিত নয়। বরং অন্য দেশগুলো তাদের গ্রহণ করুক, আর পুনর্গঠনের পর সেখানে ‘বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে’ আসা মানুষ বসবাস করবে, যার মধ্যে কিছু ফিলিস্তিনিও থাকতে পারে।

>> নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রস্তাবে সরাসরি কোনো মত দেননি। তবে তিনি বলেছেন, এতে অবশ্যই নজর দেওয়া প্রয়োজন... এটি ইতিহাস বদলে দিতে পারে।

নেতানিয়াহুর সরকার মূলত গাজা যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিল। তারা আশা করেছিল, ট্রাম্প ইসরায়েলকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে নিতে বলবেন, যাতে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো যায়। কিন্তু ট্রাম্প যে পুরো গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলবেন, তা ইসরায়েলিরাও কল্পনা করেননি।

>> পরিকল্পনার বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

গাজার বেশিরভাগ জনগণ আগেও একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের জন্য আরেকটি ‘নাকবা’ বা গণবিপর্যয় মেনে নেওয়া সহজ হবে না। এমনকি, যদি গাজাবাসীরা স্বেচ্ছায় চলেও যায়, তবু এটি জাতিগত নির্মূলের শামিল হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাছাড়া, আরব দেশগুলো এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করতে পারে। সৌদি আরব এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করা হবে না।

>> ট্রাম্পের উদ্দেশ্য কী?

অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের একটি নতুন কৌশল। কেউ কেউ এটিকে তার ব্যবসায়ী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখছেন, যেখানে গাজাকে ‘উন্নয়ন প্রকল্পে’ পরিণত করার কথা বলা হচ্ছে।

এক আরব কূটনীতিক জানিয়েছেন, তারা এখনো নিশ্চিত নন এটি নিছক ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, নাকি সত্যিই তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান। তবে বিশ্বজুড়ে এই প্রস্তাব ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য-ইকোনমিস্ট

আমার বার্তা/এমই

নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

বিশ্ব রাজনীতিতে নজিরবিহীন এক ঘটনার জন্ম দিয়ে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের স্বাধীনতা আসন্ন, শিগগিরই আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া যাবে

ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে এক পোস্টে বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা আসন্ন।  তিনি

ইসরায়েল সমর্থিত ‘সোমালিল্যান্ড’কে প্রত্যাখ্যান করলো বাংলাদেশ

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য সুসংহত করার লক্ষ্যে সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মামলার বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্যাক্স ফাঁকি মানে ১৮ কোটি জনগণকে ফাঁকি দেওয়া: এনবিআর চেয়ারম্যান

ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচেও জয়, রংপুরকে হারিয়ে দুইয়ে সিলেট

এলপিজি আমদানিকারকদের জন্য ঋণ সুবিধা সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি

কাল-পরশুর মধ্যেই আসন সমঝোতার জোটের চূড়ান্ত ঘোষণা: জামায়াত আমির

আমদানি করা যাবে ৫ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি

জাপানের সম্মানজনক এনইএফ বৃত্তি পেলেন বাকৃবির ১২ শিক্ষার্থী

গণভোটের প্রচারে ব্যাংকের সিএসআরের টাকা খরচের নির্দেশ গভর্নরের

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাঠছাড়া করতে পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে: শাহরিয়ার কবির

এডিপি থেকে কমল ৩০ হাজার কোটি টাকা

বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের বিনিয়োগ প্রশিক্ষণ দিল বিআইসিএম

এমপিওভুক্ত শূন্যপদে চাহিদা না দিলে আইনি ব্যবস্থা: এনটিআরসিএ

টাঙ্গাইলে বিএনপিতে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মী

সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হয়—এমন কাজ বিএনপি করছে না: সেলিমা রহমান

গণভোট নিয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত: আলী রীয়াজ

কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে চল‌তি মাসের গণশুনানি অনুষ্ঠিত

শ্রমিক ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে: নজরুল ইসলাম

আমলাতন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি

নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে প্রচারণা শুরুর পর: ফখরুল

ভোটের মাঠে থাকবে সাড়ে ৫ লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্য: উপদেষ্টা