ই-পেপার মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩৩

গাজা দখলে ট্রাম্পের চোখ কপালে তোলা পরিকল্পনায় বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪১
হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি এএফপি

গাজায় যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চমকপ্রদ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে অঞ্চলটির দখল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার দাবি, গাজাকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘রিভিয়েরা’ বা বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

>> বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই আরব দেশগুলোর কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। পাঁচজন আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ অঞ্চলটিকে আরও বেশি সংঘাতময় করে তুলবে।

তবে মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার কিছু সমর্থক এটিকে ‘যুগান্তকারী উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে একে ‘অসম্ভব’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করছেন। ইসরায়েলেও বিষয়টি নিয়ে নানা মত রয়েছে। দেশটির এক কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বাইবেলের একটি পদ উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘প্রভু আমাদের জন্য মহান কাজ করেছেন, তাই আমরা আনন্দিত।’ তবে অধিকাংশ ইসরায়েলি ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা দেখে হতবাক।

>> ট্রাম্পের ব্যাখ্যা

হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, আমরা গাজা দখল করবো এবং একে নতুনভাবে গড়ে তুলবো। আমরা সেখানে অবিস্ফোরিত বোমা ও অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করবো এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নিয়ন্ত্রণ নেবো। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।

ট্রাম্প দাবি করেন, এটি হালকাভাবে নেওয়ার মতো কোনো পরিকল্পনা নয়। ‘সবাই’ চায়, যুক্তরাষ্ট্র এই জমির মালিক হোক এবং একে একটি ‘মহান স্থানে’ পরিণত করুক।

তার মতে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় ফিলিস্তিনিদের থাকা উচিত নয়। বরং অন্য দেশগুলো তাদের গ্রহণ করুক, আর পুনর্গঠনের পর সেখানে ‘বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে’ আসা মানুষ বসবাস করবে, যার মধ্যে কিছু ফিলিস্তিনিও থাকতে পারে।

>> নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রস্তাবে সরাসরি কোনো মত দেননি। তবে তিনি বলেছেন, এতে অবশ্যই নজর দেওয়া প্রয়োজন... এটি ইতিহাস বদলে দিতে পারে।

নেতানিয়াহুর সরকার মূলত গাজা যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিল। তারা আশা করেছিল, ট্রাম্প ইসরায়েলকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে নিতে বলবেন, যাতে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো যায়। কিন্তু ট্রাম্প যে পুরো গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলবেন, তা ইসরায়েলিরাও কল্পনা করেননি।

>> পরিকল্পনার বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

গাজার বেশিরভাগ জনগণ আগেও একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের জন্য আরেকটি ‘নাকবা’ বা গণবিপর্যয় মেনে নেওয়া সহজ হবে না। এমনকি, যদি গাজাবাসীরা স্বেচ্ছায় চলেও যায়, তবু এটি জাতিগত নির্মূলের শামিল হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাছাড়া, আরব দেশগুলো এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করতে পারে। সৌদি আরব এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করা হবে না।

>> ট্রাম্পের উদ্দেশ্য কী?

অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের একটি নতুন কৌশল। কেউ কেউ এটিকে তার ব্যবসায়ী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখছেন, যেখানে গাজাকে ‘উন্নয়ন প্রকল্পে’ পরিণত করার কথা বলা হচ্ছে।

এক আরব কূটনীতিক জানিয়েছেন, তারা এখনো নিশ্চিত নন এটি নিছক ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, নাকি সত্যিই তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান। তবে বিশ্বজুড়ে এই প্রস্তাব ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য-ইকোনমিস্ট

আমার বার্তা/এমই

ক্যারিবিয়ান-পূর্ব প্রশান্তে মার্কিন অভিযানে নিহত ১২৬

ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে গত প্রায় চার মাসে মোট ৩৬ বার অভিযান চালিয়েছে

নিরস্ত্রীকরণে রাজি হলে ‘কিছু ধরনের সাধারণ ক্ষমা’ পেতে পারে হামাস

গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের দেইর এল-বালাহর দক্ষিণে হামাস আন্দোলনের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডসের এক ফিলিস্তিনি যোদ্ধা। নিরস্ত্রীকরণে

তুষারঝড়-তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ৩০ জনের মৃত্যু

তুষারঝড় ও তীব্র শীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া

মেক্সিকোতে ফুটবল মাঠে বন্দুক হামলায় ১১ জন নিহত

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়ানাজুয়াতো’র সালামানকায় একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে এক বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হয়েছেন ১১ জন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্যারিবিয়ান-পূর্ব প্রশান্তে মার্কিন অভিযানে নিহত ১২৬

প্রবাসীদের হাত ধরে বিদেশি বিনিয়োগ এলে মিলবে নগদ প্রণোদনা

নিরস্ত্রীকরণে রাজি হলে ‘কিছু ধরনের সাধারণ ক্ষমা’ পেতে পারে হামাস

আলিমে বাদ পড়াদের রেজিস্ট্রেশনে বিশেষ সুযোগ দিলো মাদ্রাসা বোর্ড

১২ তারিখের নির্বাচন জাতির টার্নিং পয়েন্ট: শফিকুর রহমান

তুষারঝড়-তীব্র ঠান্ডায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, ৩০ জনের মৃত্যু

বেনাপোলে আন্তর্জাতিক কাস্টম দিবস ২০২৬ পালিত

২৭ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা

কুরিয়ার এজেন্ট থেকে শত কোটি টাকার মালিক কে এই কামাল

আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ চুক্তি: ভারতীয় করের বোঝাও বাংলাদেশের ওপর!

শিক্ষা টেকসই জাতীয় অগ্রগতির শক্তিশালী হাতিয়ার: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আচরণবিধি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক বেশি সচেতন: ইসি সানাউল্লাহ

চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখানো হবে: জামায়াত আমির

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত শুক্র অথবা সোমবার

একটি পক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে: তারেক রহমান

ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান মির্জা আব্বাসের

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিদ্যুৎ বিলে মিলবে ২০ শতাংশ রিবেট

১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা দেশ ও জাতির মুক্তির প্রতীক: আসিফ মাহমুদ

হেনস্তা করা হচ্ছে নারী কর্মীদের, সিইসির কাছে জামায়াতের নালিশ

বিদেশে বসে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের দিন শেষ: সারজিস আলম