ই-পেপার বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৩১ পৌষ ১৪৩৩

গাজা দখলে ট্রাম্পের চোখ কপালে তোলা পরিকল্পনায় বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪১
হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি এএফপি

গাজায় যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চমকপ্রদ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে অঞ্চলটির দখল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার দাবি, গাজাকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘রিভিয়েরা’ বা বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।

>> বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই আরব দেশগুলোর কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। পাঁচজন আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক যৌথ চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ অঞ্চলটিকে আরও বেশি সংঘাতময় করে তুলবে।

তবে মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার কিছু সমর্থক এটিকে ‘যুগান্তকারী উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে একে ‘অসম্ভব’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করছেন। ইসরায়েলেও বিষয়টি নিয়ে নানা মত রয়েছে। দেশটির এক কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বাইবেলের একটি পদ উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘প্রভু আমাদের জন্য মহান কাজ করেছেন, তাই আমরা আনন্দিত।’ তবে অধিকাংশ ইসরায়েলি ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা দেখে হতবাক।

>> ট্রাম্পের ব্যাখ্যা

হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, আমরা গাজা দখল করবো এবং একে নতুনভাবে গড়ে তুলবো। আমরা সেখানে অবিস্ফোরিত বোমা ও অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করবো এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নিয়ন্ত্রণ নেবো। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হতে পারে।

ট্রাম্প দাবি করেন, এটি হালকাভাবে নেওয়ার মতো কোনো পরিকল্পনা নয়। ‘সবাই’ চায়, যুক্তরাষ্ট্র এই জমির মালিক হোক এবং একে একটি ‘মহান স্থানে’ পরিণত করুক।

তার মতে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় ফিলিস্তিনিদের থাকা উচিত নয়। বরং অন্য দেশগুলো তাদের গ্রহণ করুক, আর পুনর্গঠনের পর সেখানে ‘বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে’ আসা মানুষ বসবাস করবে, যার মধ্যে কিছু ফিলিস্তিনিও থাকতে পারে।

>> নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রস্তাবে সরাসরি কোনো মত দেননি। তবে তিনি বলেছেন, এতে অবশ্যই নজর দেওয়া প্রয়োজন... এটি ইতিহাস বদলে দিতে পারে।

নেতানিয়াহুর সরকার মূলত গাজা যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিল। তারা আশা করেছিল, ট্রাম্প ইসরায়েলকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে নিতে বলবেন, যাতে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো যায়। কিন্তু ট্রাম্প যে পুরো গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলবেন, তা ইসরায়েলিরাও কল্পনা করেননি।

>> পরিকল্পনার বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

গাজার বেশিরভাগ জনগণ আগেও একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের জন্য আরেকটি ‘নাকবা’ বা গণবিপর্যয় মেনে নেওয়া সহজ হবে না। এমনকি, যদি গাজাবাসীরা স্বেচ্ছায় চলেও যায়, তবু এটি জাতিগত নির্মূলের শামিল হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাছাড়া, আরব দেশগুলো এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করতে পারে। সৌদি আরব এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করা হবে না।

>> ট্রাম্পের উদ্দেশ্য কী?

অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের একটি নতুন কৌশল। কেউ কেউ এটিকে তার ব্যবসায়ী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখছেন, যেখানে গাজাকে ‘উন্নয়ন প্রকল্পে’ পরিণত করার কথা বলা হচ্ছে।

এক আরব কূটনীতিক জানিয়েছেন, তারা এখনো নিশ্চিত নন এটি নিছক ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, নাকি সত্যিই তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান। তবে বিশ্বজুড়ে এই প্রস্তাব ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: দ্য-ইকোনমিস্ট

আমার বার্তা/এমই

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে: কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরেও মারাত্মক

বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা: ভারতের সেনাপ্রধান

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতির ওপর নয়াদিল্লি নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং

ইরানে বিক্ষোভে ২০০০ মানুষ নিহত: ইরানের সরকারি কর্মকর্তা

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ইরানের

নিউইয়র্কে ব্যাহত চিকিৎসা সেবা, কর্মবিরতিতে ১৫ হাজার নার্স

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে কর্মবিরতিতে গেছেন প্রায় ১৫ হাজার নার্স। উন্নত কর্মপরিবেশ, নিরাপদ জনবল নিশ্চিতকরণ এবং
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মানিকগঞ্জের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে আনসার ও ভিডিপি

হজের বিমান ভাড়া স্থানান্তর করেনি ৪২ এজেন্সি, ব্যাখ্যা চাইল মন্ত্রণালয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে: কাতার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াই বিএনপির সিদ্ধান্ত: নজরুল ইসলাম

ভোটের ট্রেনে ২০৪৫ জন, আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাচ্ছেন অনেকেই

ঢাকায় নিজ বাসভবনে ওয়ার্ড জামায়াতের নেতাকে হত্যা

রাজউকে নকশা-নোটিশের আড়ালে দুর্নীতি: কোটি টাকার মিশনে ইমারত পরিদর্শক বিটু

বেকসুর খালাস পেলেন ইরাকে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এক বাংলাদেশি

বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা: ভারতের সেনাপ্রধান

আমি নিশ্চিত তরুণ রাজনীতিকরা কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন: প্রধান উপদেষ্টা

আইপিএলে খেলা পেসারকে বিশ্বকাপের জন্য ভিসা দিচ্ছে না ভারত

বিয়ের আনন্দ নিমিষেই শেষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস উল্টে কনের নানির মৃত্যু

দেশের প্রথম সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার উদ্বোধন

গণভোটে ‘না’ জয়যুক্ত হলে ব্যর্থ হবে জুলাই অভ্যুত্থান: নাহিদ ইসলাম

ইরানে বিক্ষোভে ২০০০ মানুষ নিহত: ইরানের সরকারি কর্মকর্তা

নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও অর্থবহ হবে কিনা সন্দেহ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের

আগামীর সংসদে মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

এক কোটি লিটার সয়াবিন ও ৪০ হাজার টন ইউরিয়া কিনবে সরকার

আফগানিস্তানের দায়িত্ব নিতে বিপিএল ছাড়লেন ঢাকার কোচ

বিদ্যমান ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার কাঠামো দুর্বল: তাসনিম জারা