ই-পেপার সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩৩

অর্থনীতি ও রাজনীতিতে সুবাতাস ফিরুক

সাদিয়া সুলতানা রিমি
২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:৪১

একটি উড়ন্ত পাখির দুইটি ডানার মতো যেকোন দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতির উপর ভর করে দেশটি চলতে থাকে। আর তাই একটা গণতান্ত্রিক দেশে অর্থনীতি ও রাজনীতির মধ্যে থাকে গভীর সম্পর্ক । কারণ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা তার রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে এবং রাজনৈতিক নীতিমালা অর্থনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করে। এই সম্পর্কটি পারস্পরিকভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে। কিন্তু দেখা গেছে , বিগত বছরগুলোতে দেশে অর্থনীতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে এক ধরনের স্থবিরতা এবং অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি এবং মানবিক অবক্ষয় হয়েছে তার অবসান প্রয়োজন। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থার দ্রুতই পরিবর্তন জরুরী ।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে অর্থনীতি, রাজনীতি নিয়ে জনসাধারণের নিত্যদিনের অধিক আগ্রহ ও চর্চার বিষয়। দেশের ভেতরে যেমন, দেশের বাইরেও তেমন। রাজনীতির উত্তাপ যেমন রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি বাইরের দেশগুলোতেও সেই উত্তাপের আঁচ লাগে। অনেকে নাক গলানোরও সুযোগ পায়।আর অর্থনীতির হালচাল দেশের মানুষ তাদের জীবন দিয়েই বুঝতে পারেন। তাদের পকেট পুড়ে যায়। জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। খেয়েপরে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বাজার তাদের কাছে একটা আতঙ্কের জায়গা হয়ে দাঁড়ায়। প্রোটিনের অভাবে ছোট ছেলেমেয়েরা অপুষ্টিতে ভুগে এবং ভবিষ্যতে একটি স্বাস্থ্যহীন প্রজন্ম উপহার দেয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে না। কালো অর্থনীতির দাপটে বৈধ অর্থনীতি অসহায়। মাফিয়া চক্র, গডফাদার, কালোবাজারি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দখলে বাজার-ব্যবস্থা। কথা হয় প্রায়ই, বাংলাদেশের রাজনীতি-অর্থনীতি কোন পথে। সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে বড় বড় অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, সমাজ-সংস্কারক ভালো ভালো কথা বলেন, বাস্তবায়নে সেসব কথা এবং পরামর্শ কাগজেই থেকে যায়। বাস্তবের আলো দেখতে পায় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ প্রান্তিকে ঘাটতির পরিমাণ ৯২৫ কোটি ডলারে উঠেছে। এর আগের ২০২২–২৩ অর্থবছরের একই সময়ে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি ছিল ৪০৯ কোটি ডলার। দেশে আন্তর্জাতিক সম্পদের মালিকানা হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি পরিমাপ করা হয় আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে। সাধারণত এই হিসাবে ঘাটতি তৈরি হলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তথা মজুত ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। ডলার–সংকট তীব্র হয়ে ওঠায় দেড় দশকের মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুতে প্রথমবারের মতো এ হিসাবে ঘাটতি দেখা দেয়।

বিগত বছরগুলোতে ধরে চলা ডলার–সংকট এখনো কাটেনি। যে কারণে রিজার্ভের পতনও থামছে না। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের মধ্যবর্তী দাম ১২০.৯৩ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর বিপিএম ৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫৬ কোটি বা ২০ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। আকুর দায় পরিশোধের পর তা কমে ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। এর আগে সর্বশেষ গত ২৭ জুন বিপিএম ৬ হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল।

অন্যদিকে, দূর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা দেয় রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থ। আমাদের দেশে একটা খুব বাজে প্রবণতা রয়েছে, একটা দল চলে গেলে তার গোড়া থেকে শুরু করে সকল কাজকে হীন প্রতিপন্ন করা। আবার যে দল ক্ষমতায় আসীন হয় সেই দলের আদ্যোপান্ত সকল কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দান করা। আচ্ছা, সংস্কার কি শুধু পাঠ্যবইয়ে পাঠ্যক্রম ও সেতু সহ অবকাঠামো গুলোর নাম পরিবর্তনের মাঝেই সীমাবদ্ধ? নাকি কোনো দৃশ্য - অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে সরকার তার কাজগুলো করতে পারছে না? এ মুহূর্তে কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের নজর শুধু নির্বাচনের দিকে সকল সংগ্রাম ও বিপ্লবকে মলিন করতে তাদের প্রচেষ্টা সমাজে অস্বস্তি ছড়ানো। তাতে তাদের শ্যামও রক্ষা হয় কুলও রক্ষা হয়। এখন যদি আর্থিক অবস্থার দিকে আলো ফেলা হয় তো কিছু পরোক্ষ ও বিশ্ব আপেক্ষিক সমস্যার প্রভাবে তা অনেকটাই নাজুক। এমন অবস্থায় দূর্নীতি রোধ ও সকল শ্রেণির মানুষের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। কারণ পরিবর্তন তখনই পূর্ণতা পাবে যখন মানুষ পরিবর্তনের আহ্বায়ক হবে। বাঙালি খুব আবেগি তারা রক্ত দিতে কুন্ঠা করবে না। তবে পরিশ্রমে তার অনেকটা অস্বস্তি আর আলসেমি। সরকারি চাকরির উমেদারি না করে যদি স্ব-উদ্ভাবিত পেশায় যুক্ত হই, তাহলে আর্থসামাজিক দুরবস্থার পরিবর্তন হবে।সেক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনাসহ শিক্ষা ব্যবস্থাও একটি ভাবনার বিষয়। সকল ক্ষেত্রে সার্বিক ও আমূল পরিবর্তন দরকার। নইলে পুরনো দৃশপট পুনরায় ফিরবে বুমেরাং হয়ে। বাঙালির সাধ্য চাইলেই হবে। কিন্তু সাধ যেন জাগে না!রাজনীতির ক্ষেত্রে দেশের জনগণের প্রতি সদয় মনোভাব, দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন এবং সকল স্তরের শাসকদলের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করা প্রয়োজন। রাজনীতি যদি জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হয়, তবে সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু বিরোধিতা এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানো জরুরি।

রাজনীতি ও সরকারের ভূমিকা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটি দেশের উন্নতির অন্যতম পূর্বশর্ত। যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকে, তবে তা জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, এবং বিরোধী দলের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন। যদি সরকার জনগণের মাঝে আস্থা অর্জন করতে পারে, তবে দেশের অর্থনীতির প্রতি মানুষের মনোভাব ইতিবাচক হবে এবং সেই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া, একনায়কতন্ত্র এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা বাড়ানো প্রয়োজন। দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন, বিচারিক স্বাধীনতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে উন্নতির পথে নিয়ে যাবে।রাজনীতি এবং অর্থনীতির পাশাপাশি, সামাজিক খাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের তরুণ জনগণের মধ্যে বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিক্ষা, দক্ষতা, এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, পাশাপাশি তাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য সেবা, এবং জনসেবার উন্নয়নও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।

এমন অবস্থায় দূর্নীতি রোধ ও সকল শ্রেণির মানুষের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। কারণ পরিবর্তন তখনই পূর্ণতা পাবে যখন মানুষ পরিবর্তনের আহ্বায়ক হবে। বাঙালি খুব আবেগি তারা রক্ত দিতে কুন্ঠা করবে না। তবে পরিশ্রমে তার অনেকটা অস্বস্তি আর আলসেমি। সরকারি চাকরির উমেদারি না করে যদি স্ব-উদ্ভাবিত পেশায় যুক্ত হই, তাহলে আর্থসামাজিক দুরবস্থার পরিবর্তন হবে। অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে সুবাতাস ফিরিয়ে আনতে আমাদের অবশ্যই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সুষম উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, এবং পরিবেশ রক্ষা—all of these are essential. যখন এসব দিক একযোগে উন্নত হবে, তখন দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং জনগণের জীবনের মান বৃদ্ধি পাবে।

বসন্ত যদি যায় তার পরে যে কালবৈশাখী আসবে তা সাধারণ। কিন্তু তা যদি পরে শ্রাবণের মেঘের ভেলার মতো সকল ভুল শুভ্র নির্মল করতে পারে তাহলে সে ঝড় আসুক। সর্বোপরি, যখন অর্থনীতি ও রাজনীতিতে সুবাতাস ফিরবে, তখন দেশের সকল মানুষের জীবনমান উন্নত হবে, বেকারত্ব কমবে, সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে একটি উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারব। তবেই আমাদের দেশ বিশ্বের সমৃদ্ধ ও সম্মানিত জাতির তালিকায় স্থান পাবে।

আগামী দিনে যদি সবাই একযোগে কাজ করি এবং দেশের জন্য সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করি, তবে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে, এবং অর্থনীতি ও রাজনীতিতে সুবাতাস ফিরে আসবে ।

লেখক : শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ।

আমার বার্তা/সাদিয়া সুলতানা রিমি/জেএইচ

প্রযুক্তির দাসত্ব বরণ করছি না তো আধুনিকায়নের নামে?

প্রযুক্তি শব্দটি আজ আমাদের জীবনের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। আধুনিক সভ্যতার প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তির উপস্থিতি

সার্কুলার মডেল বাস্তবায়নে কে নেতৃত্ব দিবে? রাষ্ট্র, শিল্প নাকি নাগরিক সমাজ

বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার যখন অস্তিত্বের সংকটে দাঁড়িয়েছে, তখন

আইন আছে, বিচার নেই

বাংলাদেশে আইন নেই এই কথাটি শুনতে যতটা সত্য বলে মনে হয়, বাস্তবে তা পুরোপুরি সঠিক

এখনই স্বাস্থ্যখাতকে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে ভাবার সময়

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের একটি নির্মম বাস্তবতা হলো প্রতি বছর দেশের এক বিশাল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসার
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসির সামনে সোমবার সকালে ছাত্রদল ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে

নারী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপি: আমীর খসরু

প্রযুক্তির দাসত্ব বরণ করছি না তো আধুনিকায়নের নামে?

মায়ানমারে পাচারকালে ৭৫০ বস্তা সিমেন্টসহ ১১ জন আটক

মনোনয়ন বৈধ করলাম, ব্যাংকের টাকাটা কিন্তু দিয়ে দিয়েন

মাদারীপুরে ইজিবাইককে চাপা দিয়ে বাস পড়ল খাদে, নিহত ৬

অন্তর্বর্তী সরকারের মতো নতুন সরকার যেন বেইমানি না করে

বিসিবির দাবি না মানলে বিশ্বকাপে খেলা পুনর্বিবেচনা করবে পাকিস্তান!

দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করায় প্রার্থিতা হারালেন বিএনপির গফুর

নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে: মির্জা ফখরুল

তিন আসন খালি রেখে সমঝোতার ২৭ আসনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না: আখতার

ঢাকা ১৯ আসনে জামায়াতের পরিবর্তে এনসিপি, ভোটার ও নেতাকর্মীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

তারেক রহমানের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের বিচারের আকুতি

সিইসির সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল

গ্রিনল্যান্ড দখল প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন বিশ্বশান্তি ঝুঁকিতে

চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ চূড়ান্ত: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

আমরা কোনো দলের না, আমরা শুধু মানুষকে সচেতন করবো: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার থাকা উচিত: জাইমা রহমান