ই-পেপার বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

এই বিপ্লব ভোট চায় না, কাজ চায়

রহমান মৃধা:
২০ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৭

বাংলাদেশ আর আমি – এ যেন এক অভিন্ন সত্তা। আমি চাইলে দেশটিকে ছেড়ে থাকতে পারি না, আবার তার মিথ্যা, শোষণ আর দুর্নীতির রাজনীতির কারণে কাছে যেতেও পারি না। ভালোবাসার বাঁধনে আবদ্ধ বলে পেছন ফিরে তাকাই, কিন্তু দেশের রক্তচোষা রাজনীতিবিদদের কুকর্ম আর মিথ্যাচার আমাকে আটকে রাখে।

আমি বিশ্বাস করি—আল্লাহ্‌র আলোকিত পথে হাঁটাই মুক্তির একমাত্র উপায়। সেই পথেই চলি, যেখানে সত্য আছে, যেখানে প্রিয় মানুষদের আদর্শিক ছায়া পড়ে। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, যাদের হাতে দেশ ছিল—তারাই দেশকে পদদলিত করেছে, পথভ্রষ্ট করেছে, মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করেছে।

তাই আজ দূর থেকে দেশের জন্য কাজ করি। দেশের মানুষকে ভালোবেসে, তাদের চোখের জল দেখে আজ আমি কলম তুলে নিই, বুকের ভেতর জমা ক্ষোভ ছড়িয়ে দিই প্রতিটি শব্দে। কারণ দেশের জন্য কিছু করতে হলে, মুখে বুলি না ঝাড়লেও চলে, কাজে প্রমাণ দিতে হয়।

কিন্তু, হায়! যখনই দেখি কেউ সাহস করে দেশের হাল ধরতে চায়, নতুন করে গড়তে চায় স্বপ্নের বাংলাদেশ—ঠিক তখনই সেই পুরনো গলাবাজ, সেই চেনা মুখগুলো গলা ফাটিয়ে চিৎকার শুরু করে: “নির্বাচন চাই! ভোট চাই!”

তাদের প্রশ্ন করি—কোথায় ছিল এই ভোটের অধিকার, যখন তোমরা ক্ষমতায় ছিলে?

১. শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনের বাইরে ক্ষমতায় ছিলেন প্রায় ১.৫ বছর।

২. জিয়াউর রহমান ছিলেন ৪.৫ বছর, সেনাশাসনের মুখোশে।

৩. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন পুরো ১০ বছর—সরাসরি সামরিক শাসক!

৪. ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছাড়ার সময়ও নির্বাচনের নামে নাটক চলেছে।

৫. আর শেখ হাসিনা—২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত, একের পর এক পাতানো নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন আর ভুয়া উন্নয়নের গল্পে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছেন।

তাহলে প্রশ্ন জাগে—এই সময়গুলোতে কোথায় ছিল জনগণের প্রকৃত অধিকার?

আপনারা ক্ষমতায় গিয়েছেন, বারবার গিয়েছেন—কিন্তু কী দিয়েছেন জাতিকে?

শিক্ষিত বেকারত্ব, পাটকলের গেট বন্ধ, চিকিৎসাহীন মৃত্যু, দুর্নীতির পাহাড়, আর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হাহাকার!

নিজেরা ফকির থেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, আর দেশের মানুষ আজও ভাতের জন্য দাঁড়ায় রাস্তায় লাইনে!

এখন যখন বাংলাদেশ তার সত্যিকারের অভিভাবককে পেয়েছে, তখনই শুরু হয়েছে কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্র—“নির্বাচন চাই, নির্বাচন চাই!” এই আওয়াজ এখন যেন শুধুই বিরক্তিকর প্যাঁচপ্যাঁচানি।

ভাইরে, বিপ্লব কখনও ব্যালট চায় না। ইতিহাসের প্রতিটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে বিপ্লবী শক্তির হাত ধরে, জনগণের ভরসা আর নেতৃত্বের আস্থায়।

বিপ্লব মানেই স্বতঃসিদ্ধ বৈধতা।

আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন, ফরাসি বিপ্লব, রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লব—সবই ছিল রাজনীতির প্রচলিত নিয়ম ভেঙে নতুন পথ রচনা করার গল্প।

আজ বাংলাদেশের মানুষ আর ভোটের জন্য গলা ফাটায় না—তারা চায় একজন আদর্শবান, ন্যায়পরায়ণ শাসক।

একজন মানুষ, যে লুটপাট করবে না, ক্ষমতাকে দান হিসেবে নয়—দায়িত্ব হিসেবে নেবে। যে কৃষকের ঘাম বুঝবে, ছাত্রের চোখে স্বপ্ন দেখবে, বৃদ্ধের মুখে শান্তির হাসি আনবে।

আর যারা দিনভর রাস্তায় নেমে নির্বাচন, নির্বাচন বলে গলা ফাটায়—তাদের বলি,

যে নিজের সংসার চালাতে পারে না, সে দেশ চালাবে কীভাবে?

রাজনীতি আজ ব্যবসা নয়, চাকরি নয়—এটা সেবা।

আর যদি সেবা না পারেন, সোজা কাজ করুন, ঘাম ঝরান, পরিবারকে খাওয়ান, দেশের জন্য সৎভাবে আয় করুন।

আমি বিদেশে থেকেও দেশের জন্য কাজ করি। আপনি দেশে থেকে পারবেন না কেন?

দেশপ্রেম মানে ব্যানার নয়, ব্যালট নয়—দেশপ্রেম মানে নিজের যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে উৎসর্গ করা।

আজ আমাদের প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব, আদর্শিক কাঠামো আর জাতীয় ঐক্য।

ভোট নয়, দল নয়, ক্ষমতা নয়—আমরা চাই বাংলাদেশ গড়ে উঠুক নতুন ন্যায়ের ভিতের ওপর।

তাই বলছি—

নোভোটিং এট দিস মোমেন্ট!

বিপ্লবী সরকারের জন্য ভোট লাগে না!

কারণ, সত্যিকারের বিপ্লব কখনও ব্যালটে আসে না—সে আসে মানুষের মঙ্গল আর ইতিহাসের অনিবার্যতার হাত ধরে!

লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

আধুনিক কৃষি ও স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়েই টেকসই সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের কৃষি আজ এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি কমে যাওয়া

বাংলাদেশে রেলক্রসিং, লঞ্চ ও ফেরি দুর্ঘটনা: এক চলমান জাতীয় ট্র্যাজেডি, কিছু সুপারিশ

বাংলাদেশ গত দুই দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন

ভ্যাট সংস্কার এখন সময়ের দাবি: ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট কতটা প্রস্তুত

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি রূপান্তরমুখী সময়ে অবস্থান করছে। এলডিসি উত্তরণের প্রক্রিয়ায় আমরা যেমন দ্রুত এগিয়ে

বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা—বেকারত্ব

বাংলাদেশের অর্থনীতি সত্যিকার অর্থে কতটা উন্নয়নশীল—গত এক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬–৭ শতাংশ হয়েছে কিনা,
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমাদের অর্থনীতিকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম

চট্টগ্রামে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের বিক্ষোভ

অন্যান্য দেশের তুলনায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে: মাহদী আমিন

রাজধানীর ফার্মগেটে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসে আগুন 

এপ্রিলে সড়কে নিহত ৪০৪ জন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

মিরপুরে নতুন কৌশল, নতুন উইকেট—ইতিহাস ছুঁতে চায় বাংলাদেশ

জেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলো সংস্কারের উদ্যোগ সরকারের: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে ১৩ কিলোমিটার যানজট

সামাজিক নিরাপত্তায় ভাতাভোগী নির্বাচনে অনিয়ম যাচাইয়ে কমিটি: প্রতিমন্ত্রী

গরুর হাট কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি হবে না: মীর শাহে আলম

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৪৭ হাজার ৪০ জন হজযাত্রী, মৃত্যু বেড়ে ১০ জন

১ টিকিটের দাম ২৪ কোটি টাকা, ‘যুক্তিসঙ্গত’ বললেন ফিফা সভাপতি

ঢাকা-তাশখন্দ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর অনুরোধ অর্থমন্ত্রীর

নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে ডিসিদের প্রতি প্রধান বিচারপতির আহ্বান

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে জঙ্গি কারখানা হতে দেবো না: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের বাজারে টানা ৫ দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

ভারতীয় বোর্ড আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে: সাইমন হারমার

যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৬ জন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ফরম পূরণ শুরু ১৩ মে