ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩৩

এই বিপ্লব ভোট চায় না, কাজ চায়

রহমান মৃধা:
২০ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৭

বাংলাদেশ আর আমি – এ যেন এক অভিন্ন সত্তা। আমি চাইলে দেশটিকে ছেড়ে থাকতে পারি না, আবার তার মিথ্যা, শোষণ আর দুর্নীতির রাজনীতির কারণে কাছে যেতেও পারি না। ভালোবাসার বাঁধনে আবদ্ধ বলে পেছন ফিরে তাকাই, কিন্তু দেশের রক্তচোষা রাজনীতিবিদদের কুকর্ম আর মিথ্যাচার আমাকে আটকে রাখে।

আমি বিশ্বাস করি—আল্লাহ্‌র আলোকিত পথে হাঁটাই মুক্তির একমাত্র উপায়। সেই পথেই চলি, যেখানে সত্য আছে, যেখানে প্রিয় মানুষদের আদর্শিক ছায়া পড়ে। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, যাদের হাতে দেশ ছিল—তারাই দেশকে পদদলিত করেছে, পথভ্রষ্ট করেছে, মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করেছে।

তাই আজ দূর থেকে দেশের জন্য কাজ করি। দেশের মানুষকে ভালোবেসে, তাদের চোখের জল দেখে আজ আমি কলম তুলে নিই, বুকের ভেতর জমা ক্ষোভ ছড়িয়ে দিই প্রতিটি শব্দে। কারণ দেশের জন্য কিছু করতে হলে, মুখে বুলি না ঝাড়লেও চলে, কাজে প্রমাণ দিতে হয়।

কিন্তু, হায়! যখনই দেখি কেউ সাহস করে দেশের হাল ধরতে চায়, নতুন করে গড়তে চায় স্বপ্নের বাংলাদেশ—ঠিক তখনই সেই পুরনো গলাবাজ, সেই চেনা মুখগুলো গলা ফাটিয়ে চিৎকার শুরু করে: “নির্বাচন চাই! ভোট চাই!”

তাদের প্রশ্ন করি—কোথায় ছিল এই ভোটের অধিকার, যখন তোমরা ক্ষমতায় ছিলে?

১. শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনের বাইরে ক্ষমতায় ছিলেন প্রায় ১.৫ বছর।

২. জিয়াউর রহমান ছিলেন ৪.৫ বছর, সেনাশাসনের মুখোশে।

৩. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন পুরো ১০ বছর—সরাসরি সামরিক শাসক!

৪. ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছাড়ার সময়ও নির্বাচনের নামে নাটক চলেছে।

৫. আর শেখ হাসিনা—২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত, একের পর এক পাতানো নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন আর ভুয়া উন্নয়নের গল্পে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছেন।

তাহলে প্রশ্ন জাগে—এই সময়গুলোতে কোথায় ছিল জনগণের প্রকৃত অধিকার?

আপনারা ক্ষমতায় গিয়েছেন, বারবার গিয়েছেন—কিন্তু কী দিয়েছেন জাতিকে?

শিক্ষিত বেকারত্ব, পাটকলের গেট বন্ধ, চিকিৎসাহীন মৃত্যু, দুর্নীতির পাহাড়, আর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হাহাকার!

নিজেরা ফকির থেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, আর দেশের মানুষ আজও ভাতের জন্য দাঁড়ায় রাস্তায় লাইনে!

এখন যখন বাংলাদেশ তার সত্যিকারের অভিভাবককে পেয়েছে, তখনই শুরু হয়েছে কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্র—“নির্বাচন চাই, নির্বাচন চাই!” এই আওয়াজ এখন যেন শুধুই বিরক্তিকর প্যাঁচপ্যাঁচানি।

ভাইরে, বিপ্লব কখনও ব্যালট চায় না। ইতিহাসের প্রতিটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে বিপ্লবী শক্তির হাত ধরে, জনগণের ভরসা আর নেতৃত্বের আস্থায়।

বিপ্লব মানেই স্বতঃসিদ্ধ বৈধতা।

আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন, ফরাসি বিপ্লব, রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লব—সবই ছিল রাজনীতির প্রচলিত নিয়ম ভেঙে নতুন পথ রচনা করার গল্প।

আজ বাংলাদেশের মানুষ আর ভোটের জন্য গলা ফাটায় না—তারা চায় একজন আদর্শবান, ন্যায়পরায়ণ শাসক।

একজন মানুষ, যে লুটপাট করবে না, ক্ষমতাকে দান হিসেবে নয়—দায়িত্ব হিসেবে নেবে। যে কৃষকের ঘাম বুঝবে, ছাত্রের চোখে স্বপ্ন দেখবে, বৃদ্ধের মুখে শান্তির হাসি আনবে।

আর যারা দিনভর রাস্তায় নেমে নির্বাচন, নির্বাচন বলে গলা ফাটায়—তাদের বলি,

যে নিজের সংসার চালাতে পারে না, সে দেশ চালাবে কীভাবে?

রাজনীতি আজ ব্যবসা নয়, চাকরি নয়—এটা সেবা।

আর যদি সেবা না পারেন, সোজা কাজ করুন, ঘাম ঝরান, পরিবারকে খাওয়ান, দেশের জন্য সৎভাবে আয় করুন।

আমি বিদেশে থেকেও দেশের জন্য কাজ করি। আপনি দেশে থেকে পারবেন না কেন?

দেশপ্রেম মানে ব্যানার নয়, ব্যালট নয়—দেশপ্রেম মানে নিজের যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে উৎসর্গ করা।

আজ আমাদের প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব, আদর্শিক কাঠামো আর জাতীয় ঐক্য।

ভোট নয়, দল নয়, ক্ষমতা নয়—আমরা চাই বাংলাদেশ গড়ে উঠুক নতুন ন্যায়ের ভিতের ওপর।

তাই বলছি—

নোভোটিং এট দিস মোমেন্ট!

বিপ্লবী সরকারের জন্য ভোট লাগে না!

কারণ, সত্যিকারের বিপ্লব কখনও ব্যালটে আসে না—সে আসে মানুষের মঙ্গল আর ইতিহাসের অনিবার্যতার হাত ধরে!

লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

উৎপাদন বাড়লেই উন্নয়ন নয়: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে লজিস্টিকের অদৃশ্য সংকট

বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও উত্তরণের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে। আমরা ২০৪১ সালের উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্য

বাংলাদেশের কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য আদর্শ নেতৃত্ব

বাংলাদেশের কৃষি খাত দেশের অর্থনীতি, সামাজিক, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি। শতাব্দীর পর

নব-নির্বাচিত সরকারের প্রথম ১২০ দিনই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ পথরেখা

জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, কাঠামোগত সংস্কার, বাণিজ্যিক গণতন্ত্রের চর্চা ও টেকসই রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন শাসনদর্শনের ভিত্তি

রাষ্ট্রের চোখ বন্ধ, আঙুলের ছোঁয়ায় হারাচ্ছে আস্থা

বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে আজ এক গভীর আস্থার সংকটে দাঁড়িয়ে আছে। টাকা আর কাগজে নয়—ঘুরছে আঙুলের
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

ইরানে হামলার প্রস্তুতি শেষ, ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় সামরিক বাহিনী

মাতৃভাষা উপলক্ষে রং-তুলির ছোঁয়ায় প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ

দুর্নীতির অভিযোগে আটকে থাকা বেরোবির দুই ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু

বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে জানতে চেয়েছেন নতুন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

হাড় না ভাঙা পর্যন্ত স্ত্রীকে মারধর বৈধ, আফগানিস্তানে নতুন আইন

ঢাকার প্রধান সড়কে অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে: সড়কমন্ত্রী

উৎপাদন বাড়লেই উন্নয়ন নয়: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে লজিস্টিকের অদৃশ্য সংকট

রমজান ও ঈদে নগদ অর্থ পরিবহনে ডিএমপির এস্কর্ট সেবা

রাজধানীতে রোজায় মুরগির দাম বাড়ল কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২ দফা এজেন্ডা তুলে ধরলেন ববি হাজ্জাজ

৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি শুরু মে থেকে: পরিবেশমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার এত অস্থির ছিল কেন: আনু মুহাম্মদ

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিগন্যাল মেনেই অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২৮ ক্রিকেটার, কার বেতন কত দেখে নিন

ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

ইসি তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশ করে হাত মুছে নিয়েছে: বদিউল আলম

ছাত্রদলের ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ‘দল-দীপশিখা’র মোড়ক উন্মোচন

ব্যান্ড ওয়ারফেজসহ ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি পাচ্ছেন একুশে পদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি