ই-পেপার রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

এই বিপ্লব ভোট চায় না, কাজ চায়

রহমান মৃধা:
২০ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৭

বাংলাদেশ আর আমি – এ যেন এক অভিন্ন সত্তা। আমি চাইলে দেশটিকে ছেড়ে থাকতে পারি না, আবার তার মিথ্যা, শোষণ আর দুর্নীতির রাজনীতির কারণে কাছে যেতেও পারি না। ভালোবাসার বাঁধনে আবদ্ধ বলে পেছন ফিরে তাকাই, কিন্তু দেশের রক্তচোষা রাজনীতিবিদদের কুকর্ম আর মিথ্যাচার আমাকে আটকে রাখে।

আমি বিশ্বাস করি—আল্লাহ্‌র আলোকিত পথে হাঁটাই মুক্তির একমাত্র উপায়। সেই পথেই চলি, যেখানে সত্য আছে, যেখানে প্রিয় মানুষদের আদর্শিক ছায়া পড়ে। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, যাদের হাতে দেশ ছিল—তারাই দেশকে পদদলিত করেছে, পথভ্রষ্ট করেছে, মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করেছে।

তাই আজ দূর থেকে দেশের জন্য কাজ করি। দেশের মানুষকে ভালোবেসে, তাদের চোখের জল দেখে আজ আমি কলম তুলে নিই, বুকের ভেতর জমা ক্ষোভ ছড়িয়ে দিই প্রতিটি শব্দে। কারণ দেশের জন্য কিছু করতে হলে, মুখে বুলি না ঝাড়লেও চলে, কাজে প্রমাণ দিতে হয়।

কিন্তু, হায়! যখনই দেখি কেউ সাহস করে দেশের হাল ধরতে চায়, নতুন করে গড়তে চায় স্বপ্নের বাংলাদেশ—ঠিক তখনই সেই পুরনো গলাবাজ, সেই চেনা মুখগুলো গলা ফাটিয়ে চিৎকার শুরু করে: “নির্বাচন চাই! ভোট চাই!”

তাদের প্রশ্ন করি—কোথায় ছিল এই ভোটের অধিকার, যখন তোমরা ক্ষমতায় ছিলে?

১. শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনের বাইরে ক্ষমতায় ছিলেন প্রায় ১.৫ বছর।

২. জিয়াউর রহমান ছিলেন ৪.৫ বছর, সেনাশাসনের মুখোশে।

৩. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন পুরো ১০ বছর—সরাসরি সামরিক শাসক!

৪. ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছাড়ার সময়ও নির্বাচনের নামে নাটক চলেছে।

৫. আর শেখ হাসিনা—২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত, একের পর এক পাতানো নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন আর ভুয়া উন্নয়নের গল্পে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছেন।

তাহলে প্রশ্ন জাগে—এই সময়গুলোতে কোথায় ছিল জনগণের প্রকৃত অধিকার?

আপনারা ক্ষমতায় গিয়েছেন, বারবার গিয়েছেন—কিন্তু কী দিয়েছেন জাতিকে?

শিক্ষিত বেকারত্ব, পাটকলের গেট বন্ধ, চিকিৎসাহীন মৃত্যু, দুর্নীতির পাহাড়, আর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হাহাকার!

নিজেরা ফকির থেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, আর দেশের মানুষ আজও ভাতের জন্য দাঁড়ায় রাস্তায় লাইনে!

এখন যখন বাংলাদেশ তার সত্যিকারের অভিভাবককে পেয়েছে, তখনই শুরু হয়েছে কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্র—“নির্বাচন চাই, নির্বাচন চাই!” এই আওয়াজ এখন যেন শুধুই বিরক্তিকর প্যাঁচপ্যাঁচানি।

ভাইরে, বিপ্লব কখনও ব্যালট চায় না। ইতিহাসের প্রতিটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে বিপ্লবী শক্তির হাত ধরে, জনগণের ভরসা আর নেতৃত্বের আস্থায়।

বিপ্লব মানেই স্বতঃসিদ্ধ বৈধতা।

আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন, ফরাসি বিপ্লব, রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লব—সবই ছিল রাজনীতির প্রচলিত নিয়ম ভেঙে নতুন পথ রচনা করার গল্প।

আজ বাংলাদেশের মানুষ আর ভোটের জন্য গলা ফাটায় না—তারা চায় একজন আদর্শবান, ন্যায়পরায়ণ শাসক।

একজন মানুষ, যে লুটপাট করবে না, ক্ষমতাকে দান হিসেবে নয়—দায়িত্ব হিসেবে নেবে। যে কৃষকের ঘাম বুঝবে, ছাত্রের চোখে স্বপ্ন দেখবে, বৃদ্ধের মুখে শান্তির হাসি আনবে।

আর যারা দিনভর রাস্তায় নেমে নির্বাচন, নির্বাচন বলে গলা ফাটায়—তাদের বলি,

যে নিজের সংসার চালাতে পারে না, সে দেশ চালাবে কীভাবে?

রাজনীতি আজ ব্যবসা নয়, চাকরি নয়—এটা সেবা।

আর যদি সেবা না পারেন, সোজা কাজ করুন, ঘাম ঝরান, পরিবারকে খাওয়ান, দেশের জন্য সৎভাবে আয় করুন।

আমি বিদেশে থেকেও দেশের জন্য কাজ করি। আপনি দেশে থেকে পারবেন না কেন?

দেশপ্রেম মানে ব্যানার নয়, ব্যালট নয়—দেশপ্রেম মানে নিজের যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে উৎসর্গ করা।

আজ আমাদের প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব, আদর্শিক কাঠামো আর জাতীয় ঐক্য।

ভোট নয়, দল নয়, ক্ষমতা নয়—আমরা চাই বাংলাদেশ গড়ে উঠুক নতুন ন্যায়ের ভিতের ওপর।

তাই বলছি—

নোভোটিং এট দিস মোমেন্ট!

বিপ্লবী সরকারের জন্য ভোট লাগে না!

কারণ, সত্যিকারের বিপ্লব কখনও ব্যালটে আসে না—সে আসে মানুষের মঙ্গল আর ইতিহাসের অনিবার্যতার হাত ধরে!

লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

পোশাক পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন চায় সাধারণ মানুষ

পোষাক নয় আচরণের পরিবর্তন চায় সাধারণ মানুষ। নতুন করে আবারও পোষাক পরিবর্তন এর দাবি উঠেছে

উৎপাদন বাড়লেই উন্নয়ন নয়: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে লজিস্টিকের অদৃশ্য সংকট

বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও উত্তরণের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে। আমরা ২০৪১ সালের উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্য

বাংলাদেশের কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য আদর্শ নেতৃত্ব

বাংলাদেশের কৃষি খাত দেশের অর্থনীতি, সামাজিক, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি। শতাব্দীর পর

নব-নির্বাচিত সরকারের প্রথম ১২০ দিনই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ পথরেখা

জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, কাঠামোগত সংস্কার, বাণিজ্যিক গণতন্ত্রের চর্চা ও টেকসই রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন শাসনদর্শনের ভিত্তি
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মাসুম বিল্লাহ’র ‘ক্ষমতার রাজত্ব’ চলছে!

হত্যার পর ওবায়দুল্লাহকে ৭ টুকরা করে রুমমেট শাহীন

আটকেপড়া যাত্রীদের সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: আরিফুল হক

শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অ্যাকশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ চায় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান আসুক

খোমেনি হত্যার প্রতিবাদে করাচির মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভ, নিহত ৯

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্থগিত ফ্লাইটগুলো রিসিডিউল করে যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে

একুশে পদক গ্রহণের ঘোষণা মোহন রায়হানের, নেবেন না পুরস্কারের অর্থ

হরমুজ প্রণালী বন্ধ, তেল-জ্বালানি-প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ স্থগিত

রমজানের পরেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন: ইসি মাসউদ

ই-পাসপোর্ট অ‌্যাপয়েন্টমেন্ট স্থ‌গিত করেছে দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটিতে হামলা করা হয়েছে: ইরান রেভোল্যুশনারি গার্ড

কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিন প্যানেলের ভাগাভাগির জয়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠক

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে চলাচলকারী সব ফ্লাইট বাতিল

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে প্রধান করে ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠন করল ইরান

ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: জাতিসংঘ মহাসচিব

রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঘাতক গ্রেপ্তার