ই-পেপার শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩৩

এই বিপ্লব ভোট চায় না, কাজ চায়

রহমান মৃধা:
২০ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৭

বাংলাদেশ আর আমি – এ যেন এক অভিন্ন সত্তা। আমি চাইলে দেশটিকে ছেড়ে থাকতে পারি না, আবার তার মিথ্যা, শোষণ আর দুর্নীতির রাজনীতির কারণে কাছে যেতেও পারি না। ভালোবাসার বাঁধনে আবদ্ধ বলে পেছন ফিরে তাকাই, কিন্তু দেশের রক্তচোষা রাজনীতিবিদদের কুকর্ম আর মিথ্যাচার আমাকে আটকে রাখে।

আমি বিশ্বাস করি—আল্লাহ্‌র আলোকিত পথে হাঁটাই মুক্তির একমাত্র উপায়। সেই পথেই চলি, যেখানে সত্য আছে, যেখানে প্রিয় মানুষদের আদর্শিক ছায়া পড়ে। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, যাদের হাতে দেশ ছিল—তারাই দেশকে পদদলিত করেছে, পথভ্রষ্ট করেছে, মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করেছে।

তাই আজ দূর থেকে দেশের জন্য কাজ করি। দেশের মানুষকে ভালোবেসে, তাদের চোখের জল দেখে আজ আমি কলম তুলে নিই, বুকের ভেতর জমা ক্ষোভ ছড়িয়ে দিই প্রতিটি শব্দে। কারণ দেশের জন্য কিছু করতে হলে, মুখে বুলি না ঝাড়লেও চলে, কাজে প্রমাণ দিতে হয়।

কিন্তু, হায়! যখনই দেখি কেউ সাহস করে দেশের হাল ধরতে চায়, নতুন করে গড়তে চায় স্বপ্নের বাংলাদেশ—ঠিক তখনই সেই পুরনো গলাবাজ, সেই চেনা মুখগুলো গলা ফাটিয়ে চিৎকার শুরু করে: “নির্বাচন চাই! ভোট চাই!”

তাদের প্রশ্ন করি—কোথায় ছিল এই ভোটের অধিকার, যখন তোমরা ক্ষমতায় ছিলে?

১. শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনের বাইরে ক্ষমতায় ছিলেন প্রায় ১.৫ বছর।

২. জিয়াউর রহমান ছিলেন ৪.৫ বছর, সেনাশাসনের মুখোশে।

৩. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন পুরো ১০ বছর—সরাসরি সামরিক শাসক!

৪. ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছাড়ার সময়ও নির্বাচনের নামে নাটক চলেছে।

৫. আর শেখ হাসিনা—২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত, একের পর এক পাতানো নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন আর ভুয়া উন্নয়নের গল্পে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছেন।

তাহলে প্রশ্ন জাগে—এই সময়গুলোতে কোথায় ছিল জনগণের প্রকৃত অধিকার?

আপনারা ক্ষমতায় গিয়েছেন, বারবার গিয়েছেন—কিন্তু কী দিয়েছেন জাতিকে?

শিক্ষিত বেকারত্ব, পাটকলের গেট বন্ধ, চিকিৎসাহীন মৃত্যু, দুর্নীতির পাহাড়, আর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হাহাকার!

নিজেরা ফকির থেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, আর দেশের মানুষ আজও ভাতের জন্য দাঁড়ায় রাস্তায় লাইনে!

এখন যখন বাংলাদেশ তার সত্যিকারের অভিভাবককে পেয়েছে, তখনই শুরু হয়েছে কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্র—“নির্বাচন চাই, নির্বাচন চাই!” এই আওয়াজ এখন যেন শুধুই বিরক্তিকর প্যাঁচপ্যাঁচানি।

ভাইরে, বিপ্লব কখনও ব্যালট চায় না। ইতিহাসের প্রতিটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে বিপ্লবী শক্তির হাত ধরে, জনগণের ভরসা আর নেতৃত্বের আস্থায়।

বিপ্লব মানেই স্বতঃসিদ্ধ বৈধতা।

আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন, ফরাসি বিপ্লব, রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লব—সবই ছিল রাজনীতির প্রচলিত নিয়ম ভেঙে নতুন পথ রচনা করার গল্প।

আজ বাংলাদেশের মানুষ আর ভোটের জন্য গলা ফাটায় না—তারা চায় একজন আদর্শবান, ন্যায়পরায়ণ শাসক।

একজন মানুষ, যে লুটপাট করবে না, ক্ষমতাকে দান হিসেবে নয়—দায়িত্ব হিসেবে নেবে। যে কৃষকের ঘাম বুঝবে, ছাত্রের চোখে স্বপ্ন দেখবে, বৃদ্ধের মুখে শান্তির হাসি আনবে।

আর যারা দিনভর রাস্তায় নেমে নির্বাচন, নির্বাচন বলে গলা ফাটায়—তাদের বলি,

যে নিজের সংসার চালাতে পারে না, সে দেশ চালাবে কীভাবে?

রাজনীতি আজ ব্যবসা নয়, চাকরি নয়—এটা সেবা।

আর যদি সেবা না পারেন, সোজা কাজ করুন, ঘাম ঝরান, পরিবারকে খাওয়ান, দেশের জন্য সৎভাবে আয় করুন।

আমি বিদেশে থেকেও দেশের জন্য কাজ করি। আপনি দেশে থেকে পারবেন না কেন?

দেশপ্রেম মানে ব্যানার নয়, ব্যালট নয়—দেশপ্রেম মানে নিজের যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে উৎসর্গ করা।

আজ আমাদের প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব, আদর্শিক কাঠামো আর জাতীয় ঐক্য।

ভোট নয়, দল নয়, ক্ষমতা নয়—আমরা চাই বাংলাদেশ গড়ে উঠুক নতুন ন্যায়ের ভিতের ওপর।

তাই বলছি—

নোভোটিং এট দিস মোমেন্ট!

বিপ্লবী সরকারের জন্য ভোট লাগে না!

কারণ, সত্যিকারের বিপ্লব কখনও ব্যালটে আসে না—সে আসে মানুষের মঙ্গল আর ইতিহাসের অনিবার্যতার হাত ধরে!

লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

এখনই স্বাস্থ্যখাতকে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে ভাবার সময়

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের একটি নির্মম বাস্তবতা হলো প্রতি বছর দেশের এক বিশাল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসার

ডিপফেক: ডিজিটাল সহিংসতার নতুন নাম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই—একসময় যে প্রযুক্তিকে মানবসভ্যতার আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হতো, আজ তা অনেক নারীর

বর্তমান সময়ের কাঠামোগত বাস্তবতায় বাংলাদেশের নগর ভবিষ্যত

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যে নগরায়ণ ছিল উন্নয়নের সমার্থক, একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে এসে তা বাংলাদেশের জন্য

"পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি" চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে আপোষহীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক `আপোষহীন' নেতৃত্বের নাম।রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত তিনি
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় তারেক রহমান

নির্বাচন ও গণভোটের তথ্য মিলবে ৩৩৩-এ, প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় হেল্পলাইন

সাবেক হিট অফিসার বুশরা আফরিনকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করে গেছেন বেগম জিয়া: খসরু

অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত করলো বিসিবি

একতরফা সবকিছু করলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হবো

গণভোট নিয়ে পরিকল্পিত মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

সৌদিতে থাকা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দিলো বাংলাদেশ

‘হ্যাঁ’ বা ‘না’, উভয় পক্ষেই কথা বলার অধিকার সবার আছে: আসিফ নজরুল

বিপিএল বন্ধ হলে সব ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বিসিবিকেই

সরকারি প্রকল্পের গাছ কাটতেও নিতে হবে অনুমতি: হাইকোর্ট

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে সবুজ শিল্পায়ন সম্ভব: শিক্ষা উপদেষ্টা

এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল

পঞ্চম বারের মত শ্রেষ্ঠ অফিসারের পদক পেলেন এএসআই শরীফ

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মাঠ পর্যায়ে ইসি অফিসের নিরাপত্তায় ২৭৫৪ আনসার নিয়োগের অনুমোদন

গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সভা

যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আমি আগ্রহী: ক্রিস্টেনসেন

আজ মাঠে না ফিরলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল বন্ধ

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি-সুরক্ষা আইনের অধ্যাদেশ অনুমোদন