ই-পেপার শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩৩

এই বিপ্লব ভোট চায় না, কাজ চায়

রহমান মৃধা:
২০ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৭

বাংলাদেশ আর আমি – এ যেন এক অভিন্ন সত্তা। আমি চাইলে দেশটিকে ছেড়ে থাকতে পারি না, আবার তার মিথ্যা, শোষণ আর দুর্নীতির রাজনীতির কারণে কাছে যেতেও পারি না। ভালোবাসার বাঁধনে আবদ্ধ বলে পেছন ফিরে তাকাই, কিন্তু দেশের রক্তচোষা রাজনীতিবিদদের কুকর্ম আর মিথ্যাচার আমাকে আটকে রাখে।

আমি বিশ্বাস করি—আল্লাহ্‌র আলোকিত পথে হাঁটাই মুক্তির একমাত্র উপায়। সেই পথেই চলি, যেখানে সত্য আছে, যেখানে প্রিয় মানুষদের আদর্শিক ছায়া পড়ে। কিন্তু, দুঃখের বিষয়, যাদের হাতে দেশ ছিল—তারাই দেশকে পদদলিত করেছে, পথভ্রষ্ট করেছে, মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করেছে।

তাই আজ দূর থেকে দেশের জন্য কাজ করি। দেশের মানুষকে ভালোবেসে, তাদের চোখের জল দেখে আজ আমি কলম তুলে নিই, বুকের ভেতর জমা ক্ষোভ ছড়িয়ে দিই প্রতিটি শব্দে। কারণ দেশের জন্য কিছু করতে হলে, মুখে বুলি না ঝাড়লেও চলে, কাজে প্রমাণ দিতে হয়।

কিন্তু, হায়! যখনই দেখি কেউ সাহস করে দেশের হাল ধরতে চায়, নতুন করে গড়তে চায় স্বপ্নের বাংলাদেশ—ঠিক তখনই সেই পুরনো গলাবাজ, সেই চেনা মুখগুলো গলা ফাটিয়ে চিৎকার শুরু করে: “নির্বাচন চাই! ভোট চাই!”

তাদের প্রশ্ন করি—কোথায় ছিল এই ভোটের অধিকার, যখন তোমরা ক্ষমতায় ছিলে?

১. শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনের বাইরে ক্ষমতায় ছিলেন প্রায় ১.৫ বছর।

২. জিয়াউর রহমান ছিলেন ৪.৫ বছর, সেনাশাসনের মুখোশে।

৩. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন পুরো ১০ বছর—সরাসরি সামরিক শাসক!

৪. ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছাড়ার সময়ও নির্বাচনের নামে নাটক চলেছে।

৫. আর শেখ হাসিনা—২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত, একের পর এক পাতানো নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন আর ভুয়া উন্নয়নের গল্পে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছেন।

তাহলে প্রশ্ন জাগে—এই সময়গুলোতে কোথায় ছিল জনগণের প্রকৃত অধিকার?

আপনারা ক্ষমতায় গিয়েছেন, বারবার গিয়েছেন—কিন্তু কী দিয়েছেন জাতিকে?

শিক্ষিত বেকারত্ব, পাটকলের গেট বন্ধ, চিকিৎসাহীন মৃত্যু, দুর্নীতির পাহাড়, আর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হাহাকার!

নিজেরা ফকির থেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, আর দেশের মানুষ আজও ভাতের জন্য দাঁড়ায় রাস্তায় লাইনে!

এখন যখন বাংলাদেশ তার সত্যিকারের অভিভাবককে পেয়েছে, তখনই শুরু হয়েছে কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্র—“নির্বাচন চাই, নির্বাচন চাই!” এই আওয়াজ এখন যেন শুধুই বিরক্তিকর প্যাঁচপ্যাঁচানি।

ভাইরে, বিপ্লব কখনও ব্যালট চায় না। ইতিহাসের প্রতিটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে বিপ্লবী শক্তির হাত ধরে, জনগণের ভরসা আর নেতৃত্বের আস্থায়।

বিপ্লব মানেই স্বতঃসিদ্ধ বৈধতা।

আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন, ফরাসি বিপ্লব, রাশিয়ার অক্টোবর বিপ্লব—সবই ছিল রাজনীতির প্রচলিত নিয়ম ভেঙে নতুন পথ রচনা করার গল্প।

আজ বাংলাদেশের মানুষ আর ভোটের জন্য গলা ফাটায় না—তারা চায় একজন আদর্শবান, ন্যায়পরায়ণ শাসক।

একজন মানুষ, যে লুটপাট করবে না, ক্ষমতাকে দান হিসেবে নয়—দায়িত্ব হিসেবে নেবে। যে কৃষকের ঘাম বুঝবে, ছাত্রের চোখে স্বপ্ন দেখবে, বৃদ্ধের মুখে শান্তির হাসি আনবে।

আর যারা দিনভর রাস্তায় নেমে নির্বাচন, নির্বাচন বলে গলা ফাটায়—তাদের বলি,

যে নিজের সংসার চালাতে পারে না, সে দেশ চালাবে কীভাবে?

রাজনীতি আজ ব্যবসা নয়, চাকরি নয়—এটা সেবা।

আর যদি সেবা না পারেন, সোজা কাজ করুন, ঘাম ঝরান, পরিবারকে খাওয়ান, দেশের জন্য সৎভাবে আয় করুন।

আমি বিদেশে থেকেও দেশের জন্য কাজ করি। আপনি দেশে থেকে পারবেন না কেন?

দেশপ্রেম মানে ব্যানার নয়, ব্যালট নয়—দেশপ্রেম মানে নিজের যোগ্যতাকে দেশের কল্যাণে উৎসর্গ করা।

আজ আমাদের প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব, আদর্শিক কাঠামো আর জাতীয় ঐক্য।

ভোট নয়, দল নয়, ক্ষমতা নয়—আমরা চাই বাংলাদেশ গড়ে উঠুক নতুন ন্যায়ের ভিতের ওপর।

তাই বলছি—

নোভোটিং এট দিস মোমেন্ট!

বিপ্লবী সরকারের জন্য ভোট লাগে না!

কারণ, সত্যিকারের বিপ্লব কখনও ব্যালটে আসে না—সে আসে মানুষের মঙ্গল আর ইতিহাসের অনিবার্যতার হাত ধরে!

লেখক: সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

জিয়াউর রহমান এক অবিনাশী দ্রোহের মহাকাব্য

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের সেই কৃষ্ণপক্ষীয় রজনীটি ছিল এক বিভীষিকার প্রগাঢ় অন্ধকার। যখন ঢাকার আকাশে

ডেটা লোকালাইজেশন ও গ্লোবাল ক্লাউডের নীতিগত সংঘাত এবং বাংলাদেশের পথচলা

ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নতুন মাপকাঠি হয়ে উঠেছে ডেটা। কে ডেটা নিয়ন্ত্রণ করছে, কোথায় তা

নতুন সরকারের এক মাস: চমক ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের প্রথম ৩০ দিন অতিক্রান্ত

ঈদ সামনে, তবু দরিদ্র মানুষের কষ্টের গল্প

ঈদ মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। ঈদ মানেই হলো আনন্দ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাতের আঁধারে ৯ ঘোড়া জবাই, অভিযানে ১১টি জীবিত উদ্ধার

ইরানে হামলার তীব্রতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির আহ্বান

‘শত্রু’ দেশে খেলতে কোনো দল পাঠাবে না ইরান

৫দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তানি কাশ্মির

জ্বালানি সংকট: বিমান পরিষেবা কাটছাঁট করল ভিয়েতনাম

আজও বাতিল মধ্যপ্রাচ্যের ২২ ফ্লাইট

দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে কালোবাজারিরা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিএফ‌টিআই ও আই‌সি‌ডি‌টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

কোনো প্রভু নয়, আমরা বন্ধুত্বে বিশ্বাস করি: ভূমিমন্ত্রী

কিবরিয়া হত্যার নেপথ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য-চাঁদাবাজি, কিলিং মিশনে ৬-৭ জন

রাশিয়ার আহ্বানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘে রুদ্ধদ্বার বৈঠক আজ

মুস্তাফিজের কাছ থেকে শিখতে চান রউফ

আত্মগোপন থেকে বাড়ি ফিরেই গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা

ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো ৫ হাজার টন ডিজেল

আয়াতুল্লাহ খামেনির জীবনের শেষ ছবি প্রকাশ করল ইরান

দেশে গত ১০ দিনে সড়কে ঝরল ২৭৪ প্রাণ

জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার

বাংলাদেশিসহ সব বিদেশি কর্মীর জন্য বড় দুঃসংবাদ দিলো মালয়েশিয়া

মুরগির বাজার চড়া, আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু-খাসি

চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন গ্যাস