ই-পেপার রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

হ্যাপি আর্থ ডে: আমাদের গ্রহ, আমাদের দায়িত্ব

রানা এস এম সোহেল:
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৯

প্রতি বছর ২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় Earth Day—একটি দিন, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী কেবল বসবাসের স্থান নয়, বরং আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম।

এবছরের প্রতিপাদ্য হলোঃ “আমাদের শক্তি, আমাদের গ্রহ”। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটঃ

১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো Gaylord Nelson-এর উদ্যোগে আর্থ ডে পালিত হয়। সে সময় শিল্পায়নের ফলে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছিল। এরপর ধীরে ধীরে এটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়। বর্তমানে ১৯০টিরও বেশি দেশে এই দিনটি পালিত হয়, যেখানে কোটি কোটি মানুষ পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করে।

কেন আর্থ ডে গুরুত্বপূর্ণঃ

আজ পৃথিবী নানা সংকটে জর্জরিত—বিশেষ করে Climate Change আমাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়া আমাদের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করছে। পাশাপাশি Biodiversity Loss এবং Deforestation পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটঃ

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও নদীভাঙন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবনের মতো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী বনভূমি ঝুঁকির মুখে। Intergovernmental Panel on Climate Change-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

করণীয় কী?

আর্থ ডে কেবল একটি প্রতীকী দিন নয়; এটি কর্মের আহ্বান।

* বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ

* প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো

* নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি

* পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়

* পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন

সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ—সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

তরুণদের ভূমিকাঃ

তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করা জরুরি।

ধরিত্রী দিবসকে একটু ভিন্নভাবে দেখার উপায়ঃ

ধরিত্রী দিবসকে একদিনের ব্যাপার হিসেবে দেখা খুব সহজ। কিছু একটা পোস্ট করা, হয়তো একটা গাছ লাগানো, আর তারপর এগিয়ে যাওয়া।

কিন্তু আসল বিষয় হলো এর পরে কী হয়।

এটিকে বরং একটি আত্ম-পর্যালোচনা হিসেবে ভাবুন। একটু থেমে নিজেকে জিজ্ঞাসা করার মুহূর্ত: আমি কি যথেষ্ট করছি? আমি কি আরেকটু ভালো করতে পারি?

আপনাকে রাতারাতি আপনার পুরো জীবনধারা পাল্টে ফেলতে হবে না। শুধু কোনো এক জায়গা থেকে শুরু করুন। হয়তো একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ সাথে রাখুন। হয়তো একটু কম খাবার নষ্ট করুন। হয়তো শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আরও সচেতন হন।

ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো এমনিতেও বেশি স্থায়ী হয়।

এছাড়াও, প্রকৃতির সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা সহায়ক হয়। আর না, এর জন্য কোনো বড় ভ্রমণের প্রয়োজন নেই। এমনকি একটি ছোট হাঁটা, গাছপালা, তাজা বাতাস বা শুধু আকাশের দিকে তাকানোও আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনি কী রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

২০২৬ সালের ধরিত্রী দিবস শুধু কথা বলার জন্য নয় - এটি কাজ করার জন্য। এই গ্রহের একদিনের মনোযোগ প্রয়োজন নেই; এর সারা বছর ধরে যত্ন প্রয়োজন।

কিন্তু যদি একটি দিন লক্ষ লক্ষ মানুষকে, এমনকি সামান্য ভিন্নভাবেও, ভাবাতে পারে, তবে সেটাই একটা বেশ ভালো শুরু।

তাই আপনি কোনো বার্তা ভাগ করে নিন, জীবনযাত্রায় ছোট কোনো পরিবর্তন আনুন, বা আপনার চারপাশের পৃথিবীকে উপলব্ধি করার জন্য শুধু একটি মুহূর্ত নিন — সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনাকে নিখুঁত হতে হবে না। শুধু গতকালের চেয়ে একটু ভালো হন। ধরিত্রী দিবসের মূল উদ্দেশ্য এটাই।

শেষ কথাঃ পৃথিবী আমাদের একমাত্র বাসস্থান। একে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও অস্তিত্বগত দায়িত্ব। Earth Day আমাদের মনে করিয়ে দেয়—“আজ নয়, এখনই সময়”। ছোট ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলি।

লেখকঃ উপ-সম্পাদক, দৈনিক আমার বার্তা এবং আবহাওয়া, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক লেখক

আমার বার্তা/রানা এস এম সোহেল/এমই

এক ব্যাগ রক্তে বাঁচে দুটি প্রাণ

বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান । বিশেষ করে

ঢাকার অ্যাপার্টমেন্টের সার্ভিস চার্জ নিয়ে বিতর্ক

ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাসিক সার্ভিস চার্জ নিয়ে ফ্ল্যাট মালিক, বাসিন্দা ও

প্রাণের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বস্তিই হোক অগ্রাধিকার

জগতের গতিধারা আর খবরের কাগজের কালি—উভয়ই বড় চঞ্চল। শরৎ ফুরিয়ে কার্তিক এলো বলে, কিন্তু বাংলার

শি জিনপিং ও ট্রাম্পের বৈঠকে বিশ্ব কী বার্তা পেল  

দশ বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওয়াশিংটনের কাছে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিলেন সৌদির বিমানবন্দর কর্মী

যা আছে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে তারেক রহমানের উদ্দেশে চিঠিতে

ডিসি অফিসে জালিয়াতির মাধ্যমে জমির ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ

নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে আসার আহ্বান

'দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এক দিনে দূর করা কঠিন'

টঙ্গীর মাদরাসার ঘটনায় উভয়পক্ষের মামলা, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি

ইউরোপে মানবপাচার ব্যবসায় ২৫ সালে আয় ৫০৯ মিলিয়ন ডলার

অন্যায়-অনৈতিকতা দূর করতে ইমামদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

শিক্ষার্থী নিপীড়ন-রোধে কওমি মাদরাসায় হটলাইন চালুর নির্দেশ

‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী হবেন’

অজু নিয়ে সন্দেহ হলে কী করবেন

টেকনাফে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ১৮ বসতকক্ষ, ক্ষতি ৩ লাখ টাকা

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন হচ্ছে : আইজিপি

রাষ্ট্রদূতকে ফি‌রিয়ে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একান্ত সিদ্ধান্ত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিক্ষোভ মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করলো ফ্রান্স

হামজা-শামিতসহ সাফের প্রাথমিক দলে ডাক পেলেন ২৮ জন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজ কাজে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

মাদ্রাসায় বলাৎকার রোধে কঠোর কঠোর সিদ্ধান্ত সরকারের

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষ, নিহত ২

গ্রেপ্তার হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল