ই-পেপার বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ক্ষমতার সিঁড়ি যখন বিজেপি: যেভাবে ‘দিদি’ মমতাসহ ৬ মুখ্যমন্ত্রীর পতন

আমার বার্তা অনলাইন:
০৬ মে ২০২৬, ১৪:৩৬
বিজেপির সহায়তা নিয়ে অথবা জোট বেঁধে ক্ষমতায় এসেছিলেন কাশ্মীরের মেহবুবা মুফতি, মহারাষ্ট্রর উদ্ধব ঠাকরে, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ওডিশার নবীন পাটনায়েক, বিহারের নিতীশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং ইতিহাস সাক্ষী বিজেপির হাতেই তাদের পতন হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হাতে ধরাশায়ী হয়েছেন রাজ্যের ‘দিদি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর মাধ্যমে তাঁত ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়েছে। অথচ, প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময় এই বিজেপির হাত ধরেই নির্বাচনী বৈতরণি পার হয়েছিলেন মমতা। তবে মমতা একা নন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের আরও ৫ মুখ্যমন্ত্রী নিজেদের ক্ষমতারোহণের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে গিয়ে বিজেপির কাছেই ক্ষমতা হারিয়েছেন।

তাদের মধ্যে একজন হলেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। জম্মু-কাশ্মীরে মেহবুবা মুফতির দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি–পিডিপি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জোট ছিল ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই জোটটি ২০১৪–২০১৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

জম্মু-কাশ্মীরে ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় পিডিপি (মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ) এবং বিজেপি জোট সরকার গঠন করে। এটি ছিল ভূস্বর্গে সরকার পরিচালনার জন্য একটি অভূতপূর্ব জোট। পিডিপি প্রতিষ্ঠাতা মুফতি মুহাম্মদ সাঈদের মৃত্যুর পর ২০১৬ সালে মেহবুবা মুফতি জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং মতবিরোধের জেরে ২০১৮ সালের ১৯ জুন বিজেপি এই জোট থেকে সমর্থন তুলে নেয়, যার ফলে মেহবুবা মুফতির সরকার পড়ে যায়।

বিজেপির সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির কাছেই ক্ষমতা হারানো আরেক মুখ্যমন্ত্রী হলে মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে। ঠাকরে ও বিজেপির সম্পর্কের ইতিহাস বেশ জটিল। এই সম্পর্ক কয়েক দশকের জোট থেকে চরম তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই দুই দল একসময় হিন্দুত্বের নামে অবিচ্ছেদ্য ছিল, কিন্তু বর্তমানে তারা একে অপরের ঘোর বিরোধী। শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালসাহেব ঠাকরের সময় থেকে বিজেপি ও শিবসেনা প্রায় ২৫ বছর জোটবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের পর ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধের জেরে এই সম্পর্ক ভেঙে যায়।

উদ্ধব ঠাকরে বারবার অভিযোগ করেছেন, বিজেপির সঙ্গে জোট করে শিবসেনা তাদের ২৫ বছর নষ্ট করেছে। তাঁত মতে, বিজেপি ক্ষমতার স্বার্থে হিন্দুত্ববাদকে ব্যবহার করেছে। এরপর, হোটেল রাজনীতির আড়ালে ২০২২ সালে একনাথ সিন্ধের নেতৃত্বে শিবসেনার একটি বড় অংশ দলত্যাগ করে বিজেপির সঙ্গে নতুন জোট সরকার গঠন করে। এর ফলে ঠাকরের নেতৃত্বাধীন মূল শিবসেনা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। বর্তমানে উদ্ধব ঠাকরে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। অন্যদিকে, একনাথ সিন্ধের নেতৃত্বে শিবসেনা ও বিজেপি মহারাষ্ট্রে সরকার চালাচ্ছে।

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ক্ষেত্রে অবশ্য বিজেপির সঙ্গে সরাসরি জোট হয়নি। কিন্তু তাঁত দিল্লির মসনদে আরোহণে বিজেপির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল এবং পরে তাঁত কাছ থেকেই বিজেপি দিল্লি ছিনিয়ে নেয়।

দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ক্ষমতা দখল এবং আম আদমি পার্টির প্রসারের পেছনে বিজেপির কৌশলগত ও সাংগঠনিক কিছু সীমাবদ্ধতা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলেছিল। দীর্ঘদিনের কংগ্রেস শাসনের বিরুদ্ধে দিল্লির মানুষের যে ক্ষোভ ছিল, বিজেপি তা কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি। এই শূন্যস্থানে কেজরিওয়াল নিজেকে দাপটের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করেন।

এ ছাড়া, ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দিল্লিতে কেজরিওয়ালের মোকাবিলা করার মতো কোনো গ্রহণযোগ্য স্থানীয় মুখ তুলে ধরতে পারেনি বিজেপি। বিজেপি কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ ও নেতিবাচক বিশেষণে ভূষিত করলেও, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে উল্টো তাঁত প্রতি সহানুভূতির জন্ম দেয়। লোকসভা নির্বাচনে সফল হলেও দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যু (বিদ্যুৎ, পানি, শিক্ষা) বাদ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বেশি জোর দেওয়া বিজেপির জন্য বুমেরাং হয়েছিল। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে দলীয় মতভেদ এবং প্রার্থী নির্বাচনে অদূরদর্শিতা কেজরিওয়ালের পথকে আরও প্রশস্ত করেছিল।

কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর আম আদমি পার্টির শাসনের পর ২০২৫ সালের নির্বাচনে প্রেক্ষাপট বদলে যায়। সেবার বিজেপি প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এবং কেজরিওয়ালকে পরাজিত করে দিল্লির শাসনভার গ্রহণ করে।

ওডিশার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নবীন পাটনায়েকও একসময় ক্ষমতায় আরোহণে বিজেপিকে ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত পাটনায়েকের বিজু জনতা দল–বিজেডি ও বিজেপি ওডিশায় জোটে ছিল এবং একসঙ্গে সরকার চালিয়েছে।

এরপর, দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২০২৪ সালের লোকসভা ও ওডিশা বিধানসভা নির্বাচনের আগে নবীন পাটনায়েকের বিজেডি ও বিজেপির মধ্যে জোট নিয়ে ব্যাপক জল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিজেপি ওডিশার রাজ্য নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে তারা একাই লড়বে। ওডিশা বিজেপির সভাপতি মনমোহন শ্যামল জানিয়েছিলেন, দল রাজ্যের ২১টি লোকসভা এবং ১৪৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে একাই লড়বে।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর বিজেডি ও বিজেপি জোটের সম্ভাবনা তৈরি হলেও, আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় তা ভেস্তে যায়। নবীন পাটনায়েক ‘রাজ্যের স্বার্থ’ এবং ‘জয়ের সম্ভাবনা’ প্রাধান্য দিয়ে একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নির্বাচনে বিজেপি ওডিশায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৭৮টি আসন) লাভ করে এবং নবীনের ২৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। নির্বাচনে হারের পর বিজেডি স্পষ্ট জানায়, তারা এখন থেকে বিজেপি সরকারের ‘সমর্থক’ নয়, বরং ‘শক্তিশালী বিরোধী’ দল হিসেবে কাজ করবে।

বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার এবং বিজেপির জোট বিহারের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিবর্তনশীল সমীকরণ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ত্যাগ করে নিতীশ কুমার পুনরায় ‘এনিডিএ’ (বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট) জোটে ফিরে আসেন এবং নবমবারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বর্তমানে নিতীশ কুমারের জনতা দল-ইউনাইটেড বিজেপির সঙ্গে বিহারে সরকার পরিচালনা করছে। কিন্তু নিতীশ মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন।

বর্তমানে বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শোনা যাচ্ছে, বিজেপি এখন আর অপেক্ষা না করে নিজস্ব কোনো নেতাকে বিহারের ক্ষমতার কেন্দ্রে বসাতে চায়, যার ফলে নিতীশ কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে। যদিও জোট সরকার চলছে, তবে বিজেপি এবং জেডিইউ নেতাদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে বিহারের প্রশাসনিক বিষয়গুলো নির্ধারিত হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির পুরোনো জোটের ইতিহাস ভারতীয় রাজনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর, মমতা অটল বিহারি বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন বিজেপির এনডিএ জোটের অংশীদার হয়েছিলেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এনডিএ–এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এই সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাজপেয়ির মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। তিনি রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং অল্প সময়ের জন্য কয়লা ও খনি মন্ত্রণালয়ও পরিচালনা করেছিলেন।

বিজেপি ও তৃণমূল ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এবং ২০০৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে লড়েছিল। মূল লক্ষ্য ছিল বাংলায় তৎকালীন বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে ভোট এক জোট করা। পরে রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনডিএ ত্যাগ করেন এবং বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই জোট ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি বিজেপির অন্যতম প্রধান বিরোধী হিসেবে পরিচিত। এবং বিজেপিই তাঁত ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।

আমার বার্তা/এমই

ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত: মার্কো রুবিও

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা

যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৬ জন

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে সহিংসতা, গুলিবিদ্ধ ওসি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে গত ৪ মে, সোমবার। সেই দিন, অর্থাৎ সোমবার

লিমন-বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার পিএইচডির শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাইকারিতে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

মেডিকেল-ইঞ্জিনিয়ারিং-নার্সিং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার

বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের অঙ্গীকার

হ্যাটট্রিক সাফ মিশনে বাংলাদেশ, নেই স্বপ্না-মুনকি

অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ পুনঃস্থাপনের সময় আটক, মামলা দায়ের তিতাসের

শাপলা চত্বরের ঘটনায় রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি জলিল মন্ডল

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আড়াই মাস পর চট্টগ্রামে পৌঁছাল তেলবাহী জাহাজ

শিক্ষার্থীদের গবেষণায় সহায়ক পেস্টিসাইড ডিসপ্লে বোর্ড উদ্বোধন

বিনিয়োগে বড় বাধা সরকারি সংস্থাগুলোর ধীরগতি: মির্জা ফখরুল

১০ হাজার অস্ত্র উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করতে ডিসিদের নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্ষমতার সিঁড়ি যখন বিজেপি: যেভাবে ‘দিদি’ মমতাসহ ৬ মুখ্যমন্ত্রীর পতন

শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল্যবোধ বা মানসম্পন্ন শিক্ষার ভিত্তিক করতে চাই: শিক্ষামন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মামলা যাচাই হবে, তালিকা দেওয়ার নির্দেশ

জেলা প্রশাসকদের একগুচ্ছ নির্দেশনা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নাহিদ রানাকে বাংলাদেশের সম্পদ বললেন শাহিন আফ্রিদি

গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে ১০ দফা দাবি

নেইমারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে: রবিনহো জুনিয়র

রেকর্ড পরিমাণ টিকা মজুত করা হয়েছে, ঘাটতির শঙ্কা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত: মার্কো রুবিও

পরিবেশ রক্ষায় ডিসিদের ওপরই মূল ভরসা রাখছে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী