
শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের পাম্প থেকে পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত সরকার। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। সরকারি এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৯০ দিন এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের অস্বাভাবিক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতে বাল্ক ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে হয়। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীরা খুবই অল্প দামে ডিজেল কিনতে পারেন। মূল্যের ব্যবধানের কারণে বাল্ক ব্যবহারকারীরা পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি নিতে শুরু করেছিলেন। দেশটিতে পেট্রোল পাৃম্পে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ রুপি। অন্যদিকে বাল্ক বিক্রয়ে এর দাম ১৩৪ দশমিক ৫০ রুপি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো সাধারণ ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে খুচরা বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু টেলিকম টাওয়ার, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য শিল্পকারখানায় ব্যবহারকারীদের বাজারদর অনুসারে জ্বালানি কিনতে হয়। ফলে খুচরা পাম্পের দাম উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় মোটর স্পিরিট ও হাই-স্পিড ডিজেল আদেশ জারি করেছে। এতে জ্বালানি বিক্রেতা ও তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে বাল্ক ক্রয় নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯০ দিন এ নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। তবে প্রয়োজনে এ আদেশ আরও বাড়তে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকরা পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, কেবল যানবাহনের ট্যাংক এবং সরকার অনুমোদিত পাত্রে পাম্প থেকে ডিজেল বিক্রি করা যাবে। একজন গ্রাহক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটার জ্বালানি নিতে পারবেন। বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সরকার নির্দিষ্ট ভোক্তা, ভোক্তা শ্রেণি, এলাকা বা বিশেষ ধরনের লেনদেনকে এই আদেশের বাইরে রাখতে পারবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকেও এই আদেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মজুতদারি, কালোবাজারি, অবৈধ জ্বালানি সংগ্রহ, সরবরাহের অপব্যবহার এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

