
পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ ফেরত দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পোল্যান্ডের বর্তমান প্রেসিডেন্ট পোলিশ ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জেলেনস্কির এই খেতাব কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর জেলেনস্কি নিজেই তা ডাকযোগে ফেরত পাঠান।
শনিবার (২০ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জেলেনস্কি এই সম্মাননা ফেরত দেওয়ার কথা জানান। পোস্টে তিনি সম্মাননার পদক এবং সেটি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে ডাকযোগে পাঠানোর রসিদের ছবিও জুড়ে দেন।
জেলেনস্কি তার পোস্টে লিখেছেন, ইউক্রেনীয়রা বিশ্বাস করত এই সম্মাননা পুরো ইউক্রেনের জনগণ ও আমাদের সেনাবাহিনীর জন্য ছিল। আজ আমি এটি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কাছে ফেরত পাঠিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, ইউক্রেনীয়রা যে সম্মানের যোগ্য, ভবিষ্যৎ তা প্রমাণ করবে।
একই সঙ্গে, রাশিয়ার চার বছরের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পোল্যান্ডের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইউক্রেন ঐতিহাসিক মতপার্থক্য দূর করতে সব সময় প্রস্তুত।
এর আগে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোকি এক ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কিকে দেওয়া এই সর্বোচ্চ সম্মাননা বাতিল করার ঘোষণা দেন।
গত ২৬ মে ইউক্রেনের স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের একটি ইউনিটের নাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন বিতর্কিত ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনী বা ‘ইউপিএ’ (UPA)-এর নামে করার ডিক্রি জারি করেন জেলেনস্কি। এই ইউপিএ-এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাজার হাজার পোলিশ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে পোল্যান্ডের পার্লামেন্ট একে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পোলিশ সমাজ এই ক্ষত এখনো ভুলে যায়নি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট নাওরোকি জেলেনস্কির ওই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।
২০২৩ সালে ইউক্রেনের নিরাপত্তা, মানবাধিকার রক্ষা ও বীরোচিত প্রতিরোধের স্বীকৃতি হিসেবে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা জেলেনস্কিকে এই সম্মাননা দিয়েছিলেন।
জেলেনস্কির সম্মাননা কেড়ে নেওয়ার এই ঘটনাকে পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে এক ধরনের বৈরি আচরণ এবং মস্কোর জন্য বড় উপহার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধান কিরিলো বুদানভ। এই ঘটনার প্রতিবাদে বুদানভসহ ইউক্রেনের আরও চারজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাদের পাওয়া পোলিশ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরসেনি ইয়াতসেনিউক এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের একটি ভুল সিদ্ধান্তকে আমাদের আরেকটি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে সংশোধন করা যায় না।
এদিকে এই ঐতিহাসিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। প্রেসিডেন্ট নাওরোকির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী টাস্ক এক বার্তায় বলেন, এই আবেগ ও উত্তেজনা স্তিমিত করা প্রয়োজন। পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের এই দ্বিমত পুতিনকে আনন্দিত করছে এবং আমাদের মিত্রদের স্তব্ধ করছে।
আগামী সপ্তাহে পোল্যান্ডে ইউক্রেনের যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন নিয়ে একটি বড় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে জেলেনস্কিরও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে এই নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন সেই সম্মেলনে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। - সূত্র: সিএনএন
আমার বার্তা /জেএইচ

