
বোয়িং নাকি এয়ারবাস, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল কোন ব্র্যান্ডের এয়ারক্রাফট কিনবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বোয়িং থেকে এয়ারক্রাফট কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পরে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বিমান।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (পাবলিক রিলেশন্স) বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিমানের পরিচালনা বোর্ড সর্বশেষ বৈঠকে নীতিগতভাবে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বিক্রি ও সেগুলো ডেলিভারির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে প্রস্তাব পাঠায়।
বোয়িং থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ১৪টি এয়ারক্রাফটের মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ।
বিমানের বৈঠকে বোয়িং কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় বোর্ড সদস্যরা বলেন, দেশের বিমান চলাচল সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় রেখে নতুন বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমানগুলো যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক উভয় খাতেই কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির পরই তৎপর হয়ে উঠেছিল ইউরোপের আরেক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা বিমানকে এয়ারবাস বিক্রির জন্য কূটনীতিক তৎপরতা চালান। তবে শেষ পর্যন্ত কোনোটিই কাজে আসেনি।
বিমান সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এরপর ধাপে ধাপে বিমান সরবরাহ শুরু করবে বোয়িং।
আমার বার্তা/এল/এমই

