
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি,ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রোগীদের জীবন রক্ষায় অসামান্য সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকাল আনুমানিক ৪টা ০০ মিনিটে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার শিশু ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আকস্মিকভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ওয়ার্ড ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে দায়িত্বরত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা প্রথম সাড়াদানকারী (First Responder) হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে তারা দ্রুততার সঙ্গে শিশু রোগী ও আতঙ্কগ্রস্ত স্বজনদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আনসার সদস্যরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) মোঃ রফিক এবং আনসার সদস্য মোঃ রুহুল আমিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আনসার সদস্যদের দ্রুত, সাহসী ও আত্মত্যাগী পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে বাহিনীর সদস্যদের কর্তব্যনিষ্ঠা, মানবিকতা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে জনসাধারণের জান-মাল রক্ষায় আনসার বাহিনীর এমন আপসহীন মনোভাব বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও জনআস্থার প্রতিফলন। দেশের যেকোনো দুর্যোগ, সংকট ও ক্রান্তিলগ্নে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এ ধরনের দায়িত্বশীল ও সাহসী ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আমার বার্তা/এল/এমই

