
পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে সরকার।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে একের পর এক চ্যালেঞ্জ আসলেও সাধারণ মানুষের স্বার্থ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার।
দেশে ভূগর্ভস্থ পানি নিচে নেমে গিয়ে যে প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে তা খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সমাধান হবে বলেও জানান তিনি।
এসময় ধৈর্য ধরে দেশ গড়ায় সবার সহযোগিতা চেয়ে মন্ত্রী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেন।
জানা যায়, বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে আবারও শুরু হয় খাল কাটা কর্মসূচি। এ কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু খাল পুনঃখনন করা নয়; বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী পানিব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করে খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং গ্রামীণ জীবিকার শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করা।
কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী মোট ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার অধীনে বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় কাজ চলমান রয়েছে। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বড়রামপুরে ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সবশেষ সোমবার যশোরের শার্শা উপজেলার উলশীতে ঐতিহাসিক উলশী-যদুনাথপুর খাল (জিয়া খাল) পুনঃখনন কাজ শুরু হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে একযোগে ৫৪টি জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি চলছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে বর্তমান সরকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে, যার লক্ষ্য দেশের সেচ ব্যবস্থা ও কৃষির উন্নয়ন। এ কাজের সামগ্রিক অগ্রগতি ২৫ শতাংশের বেশি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ছয় মাসের মধ্যে ১২০০ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

