
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের কড়া সমালোচনা করেছেন কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ।
চলমান বাজেটকে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্বর্তী অর্থনীতির রূপরেখা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এবারের বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি এবং সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে কোনো বিক্ষোভ করেনি, যা দেশের স্বাধীনতার পর একটি বিরল ঘটনা।
তিনি উল্লেখ করেন, চাল, তেল, পেঁয়াজ ও চিনিসহ চারটি নিত্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ের উৎস কর উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করায় জনগণ হতাশ না হয়ে বরং স্বস্তি প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও সংসদের বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক দলগুলো কেন রাস্তায় নেমে মিছিল-মিটিং করছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধীদের এই আচরণ ও কৌশলের কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি আরবি’তে পবিত্র কোরআনের আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আল্লাহ নিজেই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী এবং যারা আল্লাহর বান্দাদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্যায্য কৌশল খাটায়, তাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়। যারা সরকারের উন্নয়ন ও জনমুখী কর্মকাণ্ডকে স্বীকার না করে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠিন আজাবের সম্মুখীন হতে হবে।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ এসব কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মাহফুজুল্লাহ ২০২৬ সালের অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটের প্রশংসা করেন। ৯ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকার এই প্রস্তাবিত বাজেটকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতার একটি সাহসী পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর রিকভারি, রেস্টোরেশন এবং রেজিলিয়েন্স বা 'থ্রি আর' কৌশলের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ৪১ লক্ষ নারী প্রধান পরিবারের হাতে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার 'ফ্যামিলি কার্ড' উদ্যোগ, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার পরিধি বৃদ্ধি এবং শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের অঙ্গীকারকে তিনি স্বাগত জানান। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় করমুক্ত রাখার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের মেধা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই ঐতিহাসিক বাজেটের প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কুতুবদিয়ার কৃতী সন্তান সালাউদ্দিন আহমেদসহ অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজ নির্বাচনী এলাকার চড়া বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে কুতুবদিয়া দ্বীপটি ১০০ বর্গ কিলোমিটার থেকে বর্তমানে মাত্র ৩০ বর্গ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। এই দ্বীপকে রক্ষায় অবিলম্বে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযোগ সেতু ও আধুনিক ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি জানান তিনি। মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, কোল পাওয়ার প্ল্যান্টসহ একাধিক মেগা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, মহেশখালীর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে স্থানীয়দের চাহিদা মাত্র ২৫ মেগাওয়াট হওয়া সত্ত্বেও পুরো কক্সবাজার ও মহেশখালী অঞ্চলকে প্রায়শই অন্ধকারে থাকতে হয়। এই বৈষম্যমূলক নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি মহেশখালী-কক্সবাজার সংযোগ সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানান।
একই সঙ্গে স্থানীয় লবণ চাষীদের সুরক্ষায় প্রতি মোন লবণের দাম সর্বনিম্ন ৬০০ টাকা নির্ধারণ এবং মহেশখালীর বিখ্যাত মিষ্টি পানকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। মেগা প্রকল্পের কারণে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে স্থানীয় মানুষ যেন উদ্বাস্তু না হয় এবং বহিরাগতদের পরিবর্তে মহেশখালী ও মাতারবাড়ীর স্থানীয় যুবকদের এসব প্রকল্পে চাকরি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি মহেশখালী কলেজকে সরকারীকরণ ও কুতুবদিয়া কলেজে ডিগ্রি ও অনার্স কোর্স চালুর আহ্বান জানান।
আমার বার্তা/এমই

