ই-পেপার মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

তারেক রহমানের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের বিচারের আকুতি

আমার বার্তা অনলাইন:
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০২
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তারেক রহমান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ ও বিচারপ্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপির এক মতবিনিময় সভায় তারা রাষ্ট্রীয় বিচারহীনতা, অবহেলা এবং পুনর্বাসনের অভাবের চিত্র তুলে ধরেন।

সভায় নারায়ণগঞ্জের শহীদ আবুল হাসান সজলের ভাই রনি বলেন, আমার ভাইকে আমার চোখের সামনে গুলি করা হয়েছে। আমাকে সে হাসপাতালে শুয়ে জিজ্ঞেস করেছে, হাসিনার পতন হইছে কি না? আমি বলছি, পালাইছে।

সে বলছে, আলহামদুলিল্লাহ। ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক, আমরা যেন বিচার পাই। শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব বলেন, আমার সন্তান মিরাজের বয়স ২৯ ছিল। মোবাইলে ভিডিও করে সে সবাইকে দেখাতে চেয়েছিল।

তাকে মেরে ফেলেছে। আমার আহ্বান, আগামীতে যারা পার্লামেন্টে যাবে, সে সময় জুলাই সনদ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বাস্তবায়ন করবেন। সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর বেদনার ভাষায় শহীদ পরিবারের সদস্য তামান্না বলেন, আমার দুইটা সন্তান বাবা বলে ডাকতে পারে না।

আনোয়ারুল ইসলাম জীবন নামে একজন শহীদের ভাই অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে আমার চোখের সামনে ৫ আগস্ট মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে গিয়েছিলাম, সেখানে তামিম নামে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, আমার ভাই কোন দল করত। আমি বলেছি, সে বিএনপি করত। আমার মামলা নেওয়া হয়নি, বরং আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি তারেক রহমান স্যারকে বলি, আমার ভাই বিএনপি করত, এটা কি অপরাধ? আপনি যদি ক্ষমতায় আসেন, বাংলাদেশের সব শহীদের বিচার দৃশ্যমান করবেন। শহীদ পরিবারগুলো যেন হেনস্তা না হয়।

এই ইন্টেরিম সরকার কোনো বিচার করতে পারেনি। ছাত্রদের রক্তের ওপর দিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছে। শহীদদের জন্য তারা কিছুই দৃশ্যমান করতে পারেনি।

জুলাইয়ে গুলিবিদ্ধ মোহাম্মদ শাহিন বলেন, রাজপথে যখন আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম, জনাব তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘দফা এক, দাবি এক: খুনি হাসিনার পদত্যাগ’। হাসিনা যদি আমাদের দাবি মেনে নিত, পদত্যাগ করত, এত রক্ত কখনোই ঝরত না। আহত ও নিহত পরিবারদের জন্য জনাব তারেক রহমান ছাড়া আর কেউ কিছু দিতে পারবে না।

শহীদ আহনাফের মা বলেন, আমার ছেলে ৪ আগস্ট মিরপুরে আন্দোলনরত অবস্থায় ডান বুকে গুলি লেগে মারা যায়। তার স্বপ্ন ছিল ব্যান্ড শিল্পী হবে। তার কোনো স্বপ্নই পূরণ হলো না। জনাব তারেক রহমান, আপনি যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে আমাদের সব শহীদের হত্যার বিচার করবেন। আমার ছেলের খুনি তার নিজের ঘরে বসবাস করছে, তার কোনো বিচার হচ্ছে না। আজ আমাদের সন্তানের রক্তের ওপর বসে যারা আমাদের সঙ্গে বেইমানি করছে, আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার যে শহীদদের হত্যার বিচার করবে, সেটা আমরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। অনেকেই বলে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হবে। আপনিও তো অনেক নির্যাতিত হয়েছেন। আপনি ক্ষমতায় এলে যেন এই বিচার হয়। আপনার কাছে সব শহীদ যেন সমান থাকে শুধু নিজের দলের না। আমরা কোনো দল করি না।

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা বলেন, আমার ছেলে জীবিত থাকলে এবার ইন্টার পরীক্ষা দিত। আমার ছেলে শহীদ হওয়ার ১৪ দিন পর আমার ছোট ছেলের ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়ে। আমরা বিএনপি পরিবার আমার ছেলের পুরো ক্যানসারের খরচ বহন করেছে। আমি কোনো রাজনীতি করি না। আমার ছেলে মারা যাওয়ার সাত মাসের মাথায় আমার স্বামী স্ট্রোক করে মারা যায়। তারেক রহমান আমাকে ফোন করে বলেছেন, তিনি আমার পাশে আছেন। গত ১৭ মাসে তাদের কাছ থেকে যে সহায়তা পেয়েছি, কৃতজ্ঞতা থেকে তা স্বীকার করতেই হবে বিএনপির পরিবার আমাদের পাশে ছিল। কিন্তু এই ইন্টেরিম সরকার কী করেছে? আমি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে তিন দিন গিয়েছি। আমার ছেলে চিকিৎসা পায় না, অথচ উনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে যান এটা কীভাবে হয়? আমাদের পরিবার পাশে না থাকলে আমার ছেলের চিকিৎসা করতে পারতাম না। আমি তারেক রহমান স্যারের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।

শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভির বাবা বলেন, আলভি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ৪ আগস্ট মিরপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। রাষ্ট্রের জন্য আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু এই ১৮ মাসে একটি হত্যার বিচারও আমরা দেখিনি। ট্রাইব্যুনালের নামে সেখানে বাণিজ্য চলছে, বিচার হচ্ছে না। তারেক রহমানের কাছে আমার দাবি, আমাদের শহীদ পরিবার কীভাবে ভালো থাকবে সেটা উনি নিশ্চিত করবেন।

শহীদ ইমাম হাসান তাইমের ভাই বলেন, যাত্রাবাড়িতে এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, সেটা ছিল আমার ভাই। আমার বাবা একটা কথা বলেছিল, একটা মানুষকে হত্যা করতে কয়টা গুলি লাগে, স্যার? গুলি করে পাখির মতো মানুষ মারা হয়েছে। আমাদের শহীদ পরিবারকে মনে হয় ইন্টেরিম সরকারকে বলতে হবে, বিচার দাও, না হলে মানচিত্র খাবো। আমরা বিচারের জন্য প্রতিটি দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। আমি নাহিদ ভাইয়ের কাছে গিয়েছি, উনার কারণে আমার ভাইয়ের তিন খুনি পালিয়ে গেছে। আমি আসিফ ভাইয়ের কাছেও গিয়েছি। তারেক রহমানের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ, আপনি যখন ক্ষমতায় যাবেন, শহীদদের হত্যার বিচার করবেন। অনেক শহীদের সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি বহুবার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছি। আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা যেন আমাদের সঙ্গে অবিচার না করেন। আল্লাহ তায়ালা ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না।

রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন, আমার ছোট ভাই আবু সাঈদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার হত্যার বিচার এখনো হয়নি। যেসব হত্যা মানুষ চোখে দেখেনি, সেগুলোর বিচার কীভাবে হবে? জনাব তারেক রহমানের কাছে আমার আবেদন, আহত ও নিহত পরিবারগুলোকে যেন পুনর্বাসন করা হয়।

সবশেষে মীর মুগ্ধের বাবা বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে দানব-নরপিশাচ মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করতে চাই। আগামী দিনে যে সরকার আসবে, যারা আহত হয়েছে, শহীদ হয়েছে, শহীদ পরিবারের মধ্যে যারা আর্থিক সংকটে আছে, তাদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানাব।

মতবিনিময় সভাজুড়ে শহীদ পরিবারগুলোর বক্তব্যে উঠে আসে বিচারহীনতার ক্ষোভ, রাষ্ট্রীয় অবহেলার বেদনা এবং ভবিষ্যতে একটি দায়বদ্ধ সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যাশা।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও মঞ্চে না বসে অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসেন।

এ সময় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে নিজেদের দুর্দশার কথা জানান। তিনি নিজেও অনেককে ডেকে নিয়ে কথা বলেন।

আমার বার্তা/এমই

কয়রায় বিএনপি’র গণমিছিলে জনসমাগম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে খুলনার কয়রা উপজেলায় ধানের শীষ

উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের

সব শহীদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব

সব শহীদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন,

বিএনপির ডিজিটাল ক্যান্ডিডেট প্লাটফর্ম এর উদ্বোধন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রার্থীদের তথ্য সম্বলিত  বিএনপি ক্যান্ডিডেটস্  ডটকম নামে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কয়রায় বিএনপি’র গণমিছিলে জনসমাগম

মুঠোফোন নিয়ে ভোটার-প্রার্থী-সাংবাদিক ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন: ইসি সচিব

বিএনপি জোট ২০৮, জামায়াত জোট পেতে পারে ৪৬ আসন: ইএএসডি

উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন

সব শহীদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব

বিএনপির ডিজিটাল ক্যান্ডিডেট প্লাটফর্ম এর উদ্বোধন

ভোট চুরি, জালিয়াতি ঠেকাতে পাহারাদারি শুরু করতে হবে: শফিকুর রহমান

ধানের শীষ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক

দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার ও পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ

এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের সবচেয়ে স্বচ্ছ: প্রধান উপদেষ্টা

জাপানের বিনিয়োগের ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

কারা অধিদপ্তরকে ১৩ হাজার ধর্মীয় বই উপহার দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বাস্তবায়নে আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন সুজনের

বিএনপিকে ভোট দিতে চান ৪৪.১০% ভোটার, জামায়াতকে ৪৩.৯০%

দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে-নাউজুবিল্লাহ: ফখরুল

বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে দেশকে দুর্নীতি থেকে বের করার: তারেক রহমান

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত: বিজিবি মহাপরিচালক

প্রজাতন্ত্রের সরকার প্রধান কি কাজ করছে, এটা জানার অধিকার সবার

ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই

ঢাকাসহ দেশের সব গণতন্ত্রী মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের