
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মকে ব্যবহার করছে এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এটি কি নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়?
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমাদের জন্য কাজ করুন, আপনার বিকাশ নম্বর দিন, আমরা সেখানে কিছু পাঠাবো। তিনি বলেন, এটি তার নিজের বক্তব্য নয়, তিনি পত্রিকায় পড়েছেন। প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনা কি নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়?
মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এটি ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের ফল।
রিজভী বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যিনি গোটা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু ছিল অকাল মৃত্যু। ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসরদের সম্মিলিত নিপীড়ন-নির্যাতনের ফলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনার কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, কার্যালয়ের চারপাশে বালির ট্রাক ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার চোখে গোলমরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করা হয়।
রিজভী বলেন, এই নিপীড়নের দৃশ্য মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরাফাত রহমান কোকো প্রত্যক্ষ করছিলেন। তিনি তখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের ওপর চালানো নির্যাতনের দৃশ্য দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোকোর লাশ দেশে আনার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের হুলিয়ার মধ্যে ছিলেন। টেলিভিশনে তারা দেখেছেন, মৃত সন্তানের লাশ কোলে নিয়ে বসে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। শোক জানাতে যাওয়া বিএনপি নেতাকর্মী ছাড়াও দেশের বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, চিকিৎসক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়।
রিজভী উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ গুলশান কার্যালয়ে শোক জানিয়ে বাসায় ফেরার আগেই তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল ফ্যাসিবাদের লোমহর্ষক নিদর্শন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বহু রক্তস্রোত ও ত্যাগের বিনিময়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নির্যাতন, আয়নাঘর ও রিমান্ডের নামে নির্যাতনের পরও জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, যারা জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায়, তাদের শেষ পরিণতি পালিয়ে যাওয়া। ৫ আগস্ট তার প্রমাণ। এটি প্রকৃতির নিয়ম এবং আল্লাহর বিধান, কোনো অত্যাচারীকে আল্লাহ সহ্য করেন না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুক। জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে, এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।
রিজভী বলেন, এখন পর্যন্ত তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় কথা বলেননি। তিনি সংযত ও শালীন ভাষায় বক্তব্য রাখছেন।
নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কেউ ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির কথা বলছে, কেউ আবার ‘বিকাশ দল’-এর কথা বলছে।
রিজভী বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ধর্ম বা আর্থিক প্রলোভন ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মকে ভোটের কাজে ব্যবহার করা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিকাশে কাকে কাকে টাকা পাঠানো হচ্ছে, তা অজানা থাকছে না। তাই বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সবাইকে সংযত হতে হবে, যাতে বড় ধরনের আইনি ভুল না হয়।
শেষে তিনি মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন, এই দোয়া করেন।
দোয়া মাহফিলে ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এল/এমই

