ই-পেপার মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩

শবে বরাতে করণীয় ও বর্জনীয়

আমার বার্তা অনলাইন
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৫

লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান, শবে বরাত, লাইলাতুল বারাআত বা মুক্তি ও সৌভাগ্যেরজনী হিসেবে পরিচিত শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ক্ষমা করেন। আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে তিনি দান করেন। এবং মৃতদেরকে ক্ষমা করেন।

হাদিস শরীফে এই রাত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—

উম্মুল মু’মিনিন হজরত আয়েশা রা. বলেছেন, একদিন গভীর রাত্রে রসুলুল্লাহ সা. নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ পড়ার সময় তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দীর্ঘ সেজদা করেন। এভাবে দীর্ঘ সেজদা করতে দেখে, হজরত আয়েশা রা. এর ধারণা হয়, রসুলাল্লাহ সা. হয়তো নামাজ পড়তে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন।

হজরত আয়েশা রা. তখন তার সন্দেহ দূর করার জন্যে রসুলুল্লাহ সা. বৃদ্ধাঙ্গুলিটি ধরে নাড়া দেন। তাতে রসুলাল্লাহ সা. আঙুল নাড়িয়ে সাড়া দেন। এরপর রসুলাল্লাহ সা. সেজদা থেকে উঠে নামাজ শেষ করে হজরত আয়েশা রা. কে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা, আল্লাহর রসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? হজরত আয়েশা রা. তখন উত্তরে বলেন, না, ইয়া রসুলুল্লাহ।

আপনার দীর্ঘক্ষণ সেজদা করা দেখে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আপনি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন? তাই আমি আমার সন্দেহ মেটানোর জন্য আপনার আঙুল নেড়ে, আপনাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম আপনি জীবিত আছেন কি না।

নবীজি তখন আয়েশাকে রা.-কে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি জানো, আজকের রাতটি কী রাত? আয়েশা তখন নবীজিকে বলেন, আল্লাহ ও তার রসুলই আমার অপেক্ষা ভালো জানবেন আজেকের রাতটির তাৎপর্য কী?

তখন রসুলাল্লাহ সা. বললেন, আজকের রাতটি হলো অর্ধ শাবানের রাত। মহান আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তার বান্দার সব প্রার্থনা মনোযোগ সহকারে শোনেন। যারা ক্ষমাপ্রার্থী তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। আর যারা অনুগ্রহপ্রার্থী তাদের অনুগ্রহ করেন, তাদের বরকত প্রদান করেন। আর যারা বিদ্বেষ পোষণকারী, তাদের ক্ষমা না করে তাদের নিজের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৮৬)

ফজিলতের কারণে মুসলিম বিশ্বে রাতটি বিশেষভাবে উপযাপন করা হয়। অনেকেই মসজিদে গিয়ে ইবাদত করেন, তিলাওয়াত করেন। এই রাতের ইবাদত নিয়ে বেশ কিছু ভুল প্রচলন রয়েছে। তাই এই রাতের ইবাদত সম্পর্কিত করণীয় বজর্ণীয় বিষয়ে তুলে ধরা হলো এখানে—

শবে বরাতের করণীয়

>> ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা উচিত এই রাতে। এই রাতে আমরা অনেকেই নফল ইবাদতে মগ্ন থাকি। রাত জেগে নফল ইবাদতের ফলে ফজর নামাজ পড়া হয় না। অথচ নফল ইবাদতের থেকে ফরজ ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে তিনি পুরো রাত নফল ইবাদত করার সওয়াব পান।

>> নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। যেহেতু রাতটি বিশেষ ফজিলত পূর্ণ। রাসূল সা. নিজেও এই রাতে নফল নামাজ পড়েছেন, তাই আমরাও রাতটি নফল নামাজের মাধ্যমে কাটাতে পারি।

>> তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যেতে পারে এই রাতে। নফল ইবাদত হিসেবে তাহাজ্জুদ নামাজ প্রতি রাতেই পড়ার নিয়ম। তবে ইবাদতে অভ্যস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য বছরের অন্যান্য রাতগুলো তাহাজ্জুদ পড়া কিছুটা কষ্টকর। তাই তারা এই রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারেন।

>> আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন এই রাতে। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করলে তা কবুলের সম্ভবনা রয়েছে। তাই নিজের ও অন্যের সমস্যা, প্রয়োজন নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

>> তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা। মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত গুনাহ করে ফেলি। গুনাহের পর তাৎক্ষণিক তওবা করা নিয়ম। অনেক সময় অবহেলা করে তওবা করা হয় না। এই রাতে তওবা করে গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া উচিত। তওবার নামাজ পড়া যেতে পারে অথবা সরাসরি দোয়ার মাধ্যমে তওবা করা যেতে পারে। তবে নামাজের পরে তওবা বেশি কার্যকরী।

>> কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। কোরআন তিলাওয়াত মানুষকে আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী করে। ফজিলতপূর্ণ এই রাত তিলাওয়াতে কাটানো উত্তম।

শবে বরাতে বর্জনীয়

>> শবে বরাত পুণ্যময় রজনী। এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে কাটাতে হবে। হাদিসে বর্ণিত নেই এমন কোনো কাজ করা যাবে না এই রাতে। এবং যেকোনো ধরনের নোংরা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> শবে বরাতের মত পুণ্যময় রাতে আতশবাজি, পটকা ফোটানো যাবে না।

>> কেউ চাইলে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে। তবে এই দিনে ভালো খাবার তৈরি করা জরুরি মনে করা যাবে না।

>> ইবাদত বাদ দিয়ে হালুয়া রুটি তৈরি করা অনুচিত। এ রাতে যেমন ইবাদতে সওয়াব রয়েছে ঠিক তেমনই গর্হিত কাজেরও শাস্তি রয়েছে।

>> এ রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকা উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অপচয় কোরো না, নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৭)

>> পুরো রাত নফল ইবাদতে কাটিয়ে ফজর নামাজের মতো ফরজ ইবাদত কাজা করা যাবে না।

শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি, চাঁদ দেখা যায়নি বাংলাদেশের আকাশে

বাংলাদেশের আকাশে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে

সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০০ হজ গাইড নিয়োগ

চলতি বছরের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য ১০০ হজ গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হজ

মুসলমানের সকাল-সন্ধ্যার শ্রেষ্ঠ আমল

আব্দুর রহমান বিন গানম (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি মাগরিব

হজযাত্রীদের টিকাকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ

হজযাত্রীদের টিকাদান কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সারাদেশে মোট ৮০টি কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবেন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাবনা-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর আবেগঘন আবেদন

গাইবান্ধায় গণভোট বিষয়ে মতবিনিময় সভায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান

শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি, চাঁদ দেখা যায়নি বাংলাদেশের আকাশে

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাবের ওপর হামলা, এক সদস্য আহত

আসন্ন নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

মিটিং-মিছিল আর দোষারোপের নয়, আগামীর রাজনীতি হবে মানবকল্যাণে

‘হ্যাঁ’-তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে: প্রধান উপদেষ্টা

আশ্বাস পেয়ে ইসি প্রাঙ্গণ ছাড়ল ছাত্রদল, কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত

আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসে রানার্স-আপ মরক্কো: রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের অভিনন্দন

আইসিসিকে ২১ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে, যা বলছে বিসিবি

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ জানুয়ারিতে শুরু না হওয়ার কারণ জানালেন উপদেষ্টা

ধামরাইয়ে জামায়াত জোট সমর্থিত প্রার্থী নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

উইজডেন ওয়েবসাইটের বর্ষসেরা টি–টুয়েন্টি দলে মোস্তাফিজ

নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া মেটানো হবে: শ্রম উপদেষ্টা

নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

ডিবির অভিযানে নারীসহ দুই মাদক কারবারি আটক ১৪০০ ইয়াবা উদ্ধার

আগাম নির্বাচনের ঘোষণা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর, ৮ ফেব্রুয়ারি ভোট

সংখ্যালঘু–সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়

খুব শিগগিরই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে: চীনা রাষ্ট্রদূত

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিচার দেশের মাটিতেই হবে: ছাত্রদল সম্পাদক