ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

শবে বরাতে করণীয় ও বর্জনীয়

আমার বার্তা অনলাইন
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৫

লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান, শবে বরাত, লাইলাতুল বারাআত বা মুক্তি ও সৌভাগ্যেরজনী হিসেবে পরিচিত শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ক্ষমা করেন। আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে তিনি দান করেন। এবং মৃতদেরকে ক্ষমা করেন।

হাদিস শরীফে এই রাত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—

উম্মুল মু’মিনিন হজরত আয়েশা রা. বলেছেন, একদিন গভীর রাত্রে রসুলুল্লাহ সা. নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ পড়ার সময় তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দীর্ঘ সেজদা করেন। এভাবে দীর্ঘ সেজদা করতে দেখে, হজরত আয়েশা রা. এর ধারণা হয়, রসুলাল্লাহ সা. হয়তো নামাজ পড়তে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন।

হজরত আয়েশা রা. তখন তার সন্দেহ দূর করার জন্যে রসুলুল্লাহ সা. বৃদ্ধাঙ্গুলিটি ধরে নাড়া দেন। তাতে রসুলাল্লাহ সা. আঙুল নাড়িয়ে সাড়া দেন। এরপর রসুলাল্লাহ সা. সেজদা থেকে উঠে নামাজ শেষ করে হজরত আয়েশা রা. কে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা, আল্লাহর রসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? হজরত আয়েশা রা. তখন উত্তরে বলেন, না, ইয়া রসুলুল্লাহ।

আপনার দীর্ঘক্ষণ সেজদা করা দেখে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আপনি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন? তাই আমি আমার সন্দেহ মেটানোর জন্য আপনার আঙুল নেড়ে, আপনাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম আপনি জীবিত আছেন কি না।

নবীজি তখন আয়েশাকে রা.-কে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি জানো, আজকের রাতটি কী রাত? আয়েশা তখন নবীজিকে বলেন, আল্লাহ ও তার রসুলই আমার অপেক্ষা ভালো জানবেন আজেকের রাতটির তাৎপর্য কী?

তখন রসুলাল্লাহ সা. বললেন, আজকের রাতটি হলো অর্ধ শাবানের রাত। মহান আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তার বান্দার সব প্রার্থনা মনোযোগ সহকারে শোনেন। যারা ক্ষমাপ্রার্থী তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। আর যারা অনুগ্রহপ্রার্থী তাদের অনুগ্রহ করেন, তাদের বরকত প্রদান করেন। আর যারা বিদ্বেষ পোষণকারী, তাদের ক্ষমা না করে তাদের নিজের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৮৬)

ফজিলতের কারণে মুসলিম বিশ্বে রাতটি বিশেষভাবে উপযাপন করা হয়। অনেকেই মসজিদে গিয়ে ইবাদত করেন, তিলাওয়াত করেন। এই রাতের ইবাদত নিয়ে বেশ কিছু ভুল প্রচলন রয়েছে। তাই এই রাতের ইবাদত সম্পর্কিত করণীয় বজর্ণীয় বিষয়ে তুলে ধরা হলো এখানে—

শবে বরাতের করণীয়

>> ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা উচিত এই রাতে। এই রাতে আমরা অনেকেই নফল ইবাদতে মগ্ন থাকি। রাত জেগে নফল ইবাদতের ফলে ফজর নামাজ পড়া হয় না। অথচ নফল ইবাদতের থেকে ফরজ ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে তিনি পুরো রাত নফল ইবাদত করার সওয়াব পান।

>> নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। যেহেতু রাতটি বিশেষ ফজিলত পূর্ণ। রাসূল সা. নিজেও এই রাতে নফল নামাজ পড়েছেন, তাই আমরাও রাতটি নফল নামাজের মাধ্যমে কাটাতে পারি।

>> তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যেতে পারে এই রাতে। নফল ইবাদত হিসেবে তাহাজ্জুদ নামাজ প্রতি রাতেই পড়ার নিয়ম। তবে ইবাদতে অভ্যস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য বছরের অন্যান্য রাতগুলো তাহাজ্জুদ পড়া কিছুটা কষ্টকর। তাই তারা এই রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারেন।

>> আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন এই রাতে। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করলে তা কবুলের সম্ভবনা রয়েছে। তাই নিজের ও অন্যের সমস্যা, প্রয়োজন নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

>> তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা। মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত গুনাহ করে ফেলি। গুনাহের পর তাৎক্ষণিক তওবা করা নিয়ম। অনেক সময় অবহেলা করে তওবা করা হয় না। এই রাতে তওবা করে গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া উচিত। তওবার নামাজ পড়া যেতে পারে অথবা সরাসরি দোয়ার মাধ্যমে তওবা করা যেতে পারে। তবে নামাজের পরে তওবা বেশি কার্যকরী।

>> কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। কোরআন তিলাওয়াত মানুষকে আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী করে। ফজিলতপূর্ণ এই রাত তিলাওয়াতে কাটানো উত্তম।

শবে বরাতে বর্জনীয়

>> শবে বরাত পুণ্যময় রজনী। এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে কাটাতে হবে। হাদিসে বর্ণিত নেই এমন কোনো কাজ করা যাবে না এই রাতে। এবং যেকোনো ধরনের নোংরা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> শবে বরাতের মত পুণ্যময় রাতে আতশবাজি, পটকা ফোটানো যাবে না।

>> কেউ চাইলে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে। তবে এই দিনে ভালো খাবার তৈরি করা জরুরি মনে করা যাবে না।

>> ইবাদত বাদ দিয়ে হালুয়া রুটি তৈরি করা অনুচিত। এ রাতে যেমন ইবাদতে সওয়াব রয়েছে ঠিক তেমনই গর্হিত কাজেরও শাস্তি রয়েছে।

>> এ রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকা উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অপচয় কোরো না, নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৭)

>> পুরো রাত নফল ইবাদতে কাটিয়ে ফজর নামাজের মতো ফরজ ইবাদত কাজা করা যাবে না।

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনার ভিত্তিতে

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৪৭ হাজার ৪০ জন হজযাত্রী, মৃত্যু বেড়ে ১০ জন

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ১২০টি হজ ফ্লাইটে ৪৭ হাজার ৪০ জন

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৪৪ হাজার ৯৫৫ বাংলাদেশি হজযাত্রী

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে এখন পর্যন্ত ৪৪,৯৫৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। সরকারি

১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের হজপালনের অনুমতি

চলতি হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের বয়সসীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করেছে সৌদি আরব। আগে ১৫ বছরের নিচে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনেক সরকারি কোম্পানি বেসরকারি মালিকানায় যাবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী

সিঙ্গাপুর থেকে আসছে ৩ কার্গো এলএনজি, ব্যয় ২১৮৬ কোটি টাকা

ঈদে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সজাগ থাকার নির্দেশ

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে জার্মানির সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিজেপির জেতা ১০৫ আসনেই ভোট ব্যবধানের চেয়ে বাদ পড়া ভোটার বেশি

‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান ভারতের

ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত ক্রিকেটারসহ ৫ জনকে নিষিদ্ধ করলো বিসিবি

সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ায় হরমুজে অভিযান স্থগিত করেন ট্রাম্প

লোকসান প্রায় ১৬ কোটি, বুলবুলকে জবাবদিহিতার কথা বললেন তামিম

শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত: দোকান মালিক সমিতি

ডিআইইউতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও গবেষণা সম্মেলন শুরু

১৩২ টাকা বাড়ানোর পর জেট ফুয়েলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত

অর্থ পাচারসহ আর্থিক অপরাধ দমনে সিঙ্গাপুর কার্যকর ও সফলঃ এফএটিএফ

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে ১২ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

এনআইডি ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিক্রির অভিযোগে অ্যাপ ডেভেলপার গ্রেপ্তার

ভিসা জটিলতায় ৯ জনকে রেখে ব্যাংককের পথে ঋতুপর্ণারা

পাকিস্তানের চেয়ে নিজেদের পেস বিভাগকে এগিয়ে রাখছেন শান্ত

জামালপুরে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

১৬ বছর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ