ই-পেপার বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

শবে বরাতে করণীয় ও বর্জনীয়

আমার বার্তা অনলাইন
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৫

লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান, শবে বরাত, লাইলাতুল বারাআত বা মুক্তি ও সৌভাগ্যেরজনী হিসেবে পরিচিত শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ক্ষমা করেন। আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে তিনি দান করেন। এবং মৃতদেরকে ক্ষমা করেন।

হাদিস শরীফে এই রাত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—

উম্মুল মু’মিনিন হজরত আয়েশা রা. বলেছেন, একদিন গভীর রাত্রে রসুলুল্লাহ সা. নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ পড়ার সময় তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দীর্ঘ সেজদা করেন। এভাবে দীর্ঘ সেজদা করতে দেখে, হজরত আয়েশা রা. এর ধারণা হয়, রসুলাল্লাহ সা. হয়তো নামাজ পড়তে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন।

হজরত আয়েশা রা. তখন তার সন্দেহ দূর করার জন্যে রসুলুল্লাহ সা. বৃদ্ধাঙ্গুলিটি ধরে নাড়া দেন। তাতে রসুলাল্লাহ সা. আঙুল নাড়িয়ে সাড়া দেন। এরপর রসুলাল্লাহ সা. সেজদা থেকে উঠে নামাজ শেষ করে হজরত আয়েশা রা. কে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা, আল্লাহর রসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? হজরত আয়েশা রা. তখন উত্তরে বলেন, না, ইয়া রসুলুল্লাহ।

আপনার দীর্ঘক্ষণ সেজদা করা দেখে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আপনি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন? তাই আমি আমার সন্দেহ মেটানোর জন্য আপনার আঙুল নেড়ে, আপনাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম আপনি জীবিত আছেন কি না।

নবীজি তখন আয়েশাকে রা.-কে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি জানো, আজকের রাতটি কী রাত? আয়েশা তখন নবীজিকে বলেন, আল্লাহ ও তার রসুলই আমার অপেক্ষা ভালো জানবেন আজেকের রাতটির তাৎপর্য কী?

তখন রসুলাল্লাহ সা. বললেন, আজকের রাতটি হলো অর্ধ শাবানের রাত। মহান আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তার বান্দার সব প্রার্থনা মনোযোগ সহকারে শোনেন। যারা ক্ষমাপ্রার্থী তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। আর যারা অনুগ্রহপ্রার্থী তাদের অনুগ্রহ করেন, তাদের বরকত প্রদান করেন। আর যারা বিদ্বেষ পোষণকারী, তাদের ক্ষমা না করে তাদের নিজের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৮৬)

ফজিলতের কারণে মুসলিম বিশ্বে রাতটি বিশেষভাবে উপযাপন করা হয়। অনেকেই মসজিদে গিয়ে ইবাদত করেন, তিলাওয়াত করেন। এই রাতের ইবাদত নিয়ে বেশ কিছু ভুল প্রচলন রয়েছে। তাই এই রাতের ইবাদত সম্পর্কিত করণীয় বজর্ণীয় বিষয়ে তুলে ধরা হলো এখানে—

শবে বরাতের করণীয়

>> ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা উচিত এই রাতে। এই রাতে আমরা অনেকেই নফল ইবাদতে মগ্ন থাকি। রাত জেগে নফল ইবাদতের ফলে ফজর নামাজ পড়া হয় না। অথচ নফল ইবাদতের থেকে ফরজ ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে তিনি পুরো রাত নফল ইবাদত করার সওয়াব পান।

>> নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। যেহেতু রাতটি বিশেষ ফজিলত পূর্ণ। রাসূল সা. নিজেও এই রাতে নফল নামাজ পড়েছেন, তাই আমরাও রাতটি নফল নামাজের মাধ্যমে কাটাতে পারি।

>> তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যেতে পারে এই রাতে। নফল ইবাদত হিসেবে তাহাজ্জুদ নামাজ প্রতি রাতেই পড়ার নিয়ম। তবে ইবাদতে অভ্যস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য বছরের অন্যান্য রাতগুলো তাহাজ্জুদ পড়া কিছুটা কষ্টকর। তাই তারা এই রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারেন।

>> আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন এই রাতে। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করলে তা কবুলের সম্ভবনা রয়েছে। তাই নিজের ও অন্যের সমস্যা, প্রয়োজন নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

>> তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা। মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত গুনাহ করে ফেলি। গুনাহের পর তাৎক্ষণিক তওবা করা নিয়ম। অনেক সময় অবহেলা করে তওবা করা হয় না। এই রাতে তওবা করে গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া উচিত। তওবার নামাজ পড়া যেতে পারে অথবা সরাসরি দোয়ার মাধ্যমে তওবা করা যেতে পারে। তবে নামাজের পরে তওবা বেশি কার্যকরী।

>> কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। কোরআন তিলাওয়াত মানুষকে আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী করে। ফজিলতপূর্ণ এই রাত তিলাওয়াতে কাটানো উত্তম।

শবে বরাতে বর্জনীয়

>> শবে বরাত পুণ্যময় রজনী। এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে কাটাতে হবে। হাদিসে বর্ণিত নেই এমন কোনো কাজ করা যাবে না এই রাতে। এবং যেকোনো ধরনের নোংরা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> শবে বরাতের মত পুণ্যময় রাতে আতশবাজি, পটকা ফোটানো যাবে না।

>> কেউ চাইলে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে। তবে এই দিনে ভালো খাবার তৈরি করা জরুরি মনে করা যাবে না।

>> ইবাদত বাদ দিয়ে হালুয়া রুটি তৈরি করা অনুচিত। এ রাতে যেমন ইবাদতে সওয়াব রয়েছে ঠিক তেমনই গর্হিত কাজেরও শাস্তি রয়েছে।

>> এ রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকা উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অপচয় কোরো না, নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৭)

>> পুরো রাত নফল ইবাদতে কাটিয়ে ফজর নামাজের মতো ফরজ ইবাদত কাজা করা যাবে না।

সৌদি আরব পৌঁছেছেন ২০৫৫৩ হজযাত্রী, একজনের মৃত্যু

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৫৩ হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট

জিলকদ মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঘটনাসমূহ

ইসলামী ক্যালেন্ডার বা হিজরি বর্ষের একাদশ মাস হলো জিলকদ। ইসলামে যে চারটি মাসকে অত্যন্ত পবিত্র

সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৪ হাজার ৪৫৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

পবিত্র হজ ২০২৬ পালনের জন্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি

সৌদি আরব পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট

বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরব পৌঁছেছে। এ ফ্লাইটে হজযাত্রী ছিল ৪১৯ জন। স্থানীয় সময়
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহির সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

উর্দুভাষী বাংলাদেশিদের স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ বিবেচনা করা যেতে পারে

স্মার্ট কৃষি কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা

সংরক্ষিত নারী আসন: জামায়াত জোটের ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, স্থগিত ১

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও হাসপাতালে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিমানকে নারিতা ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ বিমানমন্ত্রীর

প্রাথমিক শিক্ষা ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই, সূচি প্রকাশ

জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন বায়াররা: বিসিআই সভাপতি

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, ইবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

জঙ্গলে ২৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরলেন নি‌খোঁজ মালয়েশিয়া প্রবাসী

২০ বদলি, নৌ পুলিশের প্রধান হলেন রেজাউল, রংপুরে নতুন কমিশনার মাবুদ

নিরাপত্তার আশ্বাসে রামেকে কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রপতির স‌ঙ্গে বৈঠক, ঢাকায় দূতাবাস খোলার অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: মন্ত্রী

ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূ‌তের ১০০ দিন: বাণিজ্য চুক্তিকে বললেন ‘ঐতিহাসিক’

অপতথ্যের বিস্তার রোধে ইউনেস্কোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী

ওয়ানডে সিরিজ শেষেই পাকিস্তানের বিমান ধরবেন মোস্তাফিজ

নির্ভরযোগ্য বন্ধু চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় ঢাকা: ফখরুল