ই-পেপার শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩৩

শবে বরাতে করণীয় ও বর্জনীয়

আমার বার্তা অনলাইন
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৫

লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান, শবে বরাত, লাইলাতুল বারাআত বা মুক্তি ও সৌভাগ্যেরজনী হিসেবে পরিচিত শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ক্ষমা করেন। আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে তিনি দান করেন। এবং মৃতদেরকে ক্ষমা করেন।

হাদিস শরীফে এই রাত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—

উম্মুল মু’মিনিন হজরত আয়েশা রা. বলেছেন, একদিন গভীর রাত্রে রসুলুল্লাহ সা. নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ পড়ার সময় তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দীর্ঘ সেজদা করেন। এভাবে দীর্ঘ সেজদা করতে দেখে, হজরত আয়েশা রা. এর ধারণা হয়, রসুলাল্লাহ সা. হয়তো নামাজ পড়তে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন।

হজরত আয়েশা রা. তখন তার সন্দেহ দূর করার জন্যে রসুলুল্লাহ সা. বৃদ্ধাঙ্গুলিটি ধরে নাড়া দেন। তাতে রসুলাল্লাহ সা. আঙুল নাড়িয়ে সাড়া দেন। এরপর রসুলাল্লাহ সা. সেজদা থেকে উঠে নামাজ শেষ করে হজরত আয়েশা রা. কে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা, আল্লাহর রসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? হজরত আয়েশা রা. তখন উত্তরে বলেন, না, ইয়া রসুলুল্লাহ।

আপনার দীর্ঘক্ষণ সেজদা করা দেখে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, আপনি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন? তাই আমি আমার সন্দেহ মেটানোর জন্য আপনার আঙুল নেড়ে, আপনাকে পরীক্ষা করে দেখছিলাম আপনি জীবিত আছেন কি না।

নবীজি তখন আয়েশাকে রা.-কে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি জানো, আজকের রাতটি কী রাত? আয়েশা তখন নবীজিকে বলেন, আল্লাহ ও তার রসুলই আমার অপেক্ষা ভালো জানবেন আজেকের রাতটির তাৎপর্য কী?

তখন রসুলাল্লাহ সা. বললেন, আজকের রাতটি হলো অর্ধ শাবানের রাত। মহান আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তার বান্দার সব প্রার্থনা মনোযোগ সহকারে শোনেন। যারা ক্ষমাপ্রার্থী তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। আর যারা অনুগ্রহপ্রার্থী তাদের অনুগ্রহ করেন, তাদের বরকত প্রদান করেন। আর যারা বিদ্বেষ পোষণকারী, তাদের ক্ষমা না করে তাদের নিজের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান, বাইহাকী ৩/৩৮২-৩৮৬)

ফজিলতের কারণে মুসলিম বিশ্বে রাতটি বিশেষভাবে উপযাপন করা হয়। অনেকেই মসজিদে গিয়ে ইবাদত করেন, তিলাওয়াত করেন। এই রাতের ইবাদত নিয়ে বেশ কিছু ভুল প্রচলন রয়েছে। তাই এই রাতের ইবাদত সম্পর্কিত করণীয় বজর্ণীয় বিষয়ে তুলে ধরা হলো এখানে—

শবে বরাতের করণীয়

>> ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা উচিত এই রাতে। এই রাতে আমরা অনেকেই নফল ইবাদতে মগ্ন থাকি। রাত জেগে নফল ইবাদতের ফলে ফজর নামাজ পড়া হয় না। অথচ নফল ইবাদতের থেকে ফরজ ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে তিনি পুরো রাত নফল ইবাদত করার সওয়াব পান।

>> নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। যেহেতু রাতটি বিশেষ ফজিলত পূর্ণ। রাসূল সা. নিজেও এই রাতে নফল নামাজ পড়েছেন, তাই আমরাও রাতটি নফল নামাজের মাধ্যমে কাটাতে পারি।

>> তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যেতে পারে এই রাতে। নফল ইবাদত হিসেবে তাহাজ্জুদ নামাজ প্রতি রাতেই পড়ার নিয়ম। তবে ইবাদতে অভ্যস্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য বছরের অন্যান্য রাতগুলো তাহাজ্জুদ পড়া কিছুটা কষ্টকর। তাই তারা এই রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারেন।

>> আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন এই রাতে। আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করলে তা কবুলের সম্ভবনা রয়েছে। তাই নিজের ও অন্যের সমস্যা, প্রয়োজন নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

>> তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা। মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত গুনাহ করে ফেলি। গুনাহের পর তাৎক্ষণিক তওবা করা নিয়ম। অনেক সময় অবহেলা করে তওবা করা হয় না। এই রাতে তওবা করে গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া উচিত। তওবার নামাজ পড়া যেতে পারে অথবা সরাসরি দোয়ার মাধ্যমে তওবা করা যেতে পারে। তবে নামাজের পরে তওবা বেশি কার্যকরী।

>> কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। কোরআন তিলাওয়াত মানুষকে আল্লাহ তায়ালার নিকটবর্তী করে। ফজিলতপূর্ণ এই রাত তিলাওয়াতে কাটানো উত্তম।

শবে বরাতে বর্জনীয়

>> শবে বরাত পুণ্যময় রজনী। এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে কাটাতে হবে। হাদিসে বর্ণিত নেই এমন কোনো কাজ করা যাবে না এই রাতে। এবং যেকোনো ধরনের নোংরা ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

>> শবে বরাতের মত পুণ্যময় রাতে আতশবাজি, পটকা ফোটানো যাবে না।

>> কেউ চাইলে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে। তবে এই দিনে ভালো খাবার তৈরি করা জরুরি মনে করা যাবে না।

>> ইবাদত বাদ দিয়ে হালুয়া রুটি তৈরি করা অনুচিত। এ রাতে যেমন ইবাদতে সওয়াব রয়েছে ঠিক তেমনই গর্হিত কাজেরও শাস্তি রয়েছে।

>> এ রাতে বাড়িঘর, মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকা উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অপচয় কোরো না, নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৭)

>> পুরো রাত নফল ইবাদতে কাটিয়ে ফজর নামাজের মতো ফরজ ইবাদত কাজা করা যাবে না।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাদের বাড়ি ভাড়া হবে না তারা হজ করতে পারবে না

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এজেন্সি থেকে যেসব হজযাত্রীর বাড়ি ভাড়া হবে না তারা হজ পালন করতে

জামেয়া দারুল মা‌আরিফ আল ইসলামিয়ার প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের নতুন কমিটি গঠন

বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী ধারার কওমি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া-এর প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের

সুরা ফাতেহার বরকতে হবে রোগ নিরাময়

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কয়েকজন সাহাবি কোনো এক সফরে

ইফতার ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সৌদি আরব

রমজানে রোজাদারদের জন্য মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৮ ফেব্রুয়ারির পর প্রার্থিতা ফেরত পেলেও প্রবাসীদের ভোট মিলবে না

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আসমান থেকে মাটিতে নেমে এসেছেন

কোনও দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হলে কেউ রক্ষা পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

‘ভুলবশত’ হত্যা মামলার ৩ আসামিকে মুক্তি, ডেপুটি জেলার বরখাস্ত

নির্বাচনের পরিবেশ বিগত সরকারের আমলের চেয়ে ভালো: প্রেস সচিব

যারা শঙ্কার সৃষ্টি করছে, তারাই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে: আমীর খসরু

সরকারি কর্মকর্তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন না

বেপর্দা নারীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন জামায়াত আমির: চরমোনাই পীর

সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

সাংবাদিকদের কার্ড অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে ইসি

নির্বাচনে শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের পরিচয় দেয়ার নির্দেশ সেনাপ্রধানের

শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় ইউএনও এবং ওসি প্রত্যাহার

বাকৃবিতে বুয়েট ও বাকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের যৌথ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

জামিন ছাড়াই মুক্তি পেলেন হত্যা মামলার ৩ আসামি, ডেপুটি জেলার সাময়িক বরখাস্ত

ক্ষমতায় গেলে ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে: জামায়াত আমির

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ অনুমোদনসহ ১১ বিষয়ে সিদ্ধান্ত

শনিবার বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা শ্রমিক দলের

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেলেন ৪০ কর্মকর্তা

একটি মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে: তারেক রহমান