ই-পেপার রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

৫বছরে প্রায় দ্বিগুণ এলপিজির দাম, তবুও নির্ধারিত দামে মিলছে না বাজারে  

শফিকুল আলম সেলিম
০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১২

রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তা বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ পাঁচ বছরে নির্ধারিত দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা, যা প্রায় ৯৯ শতাংশ।

তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু নির্ধারিত দামের বৃদ্ধি নয়। বিইআরসি যে দাম নির্ধারণ করছে, অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি দামে বাজারে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অথচ বিভিন্ন এলাকায় আড়াই হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠে।

২০২৪ সালে এলপিজির দামে ছিল ব্যাপক ওঠানামা। ওই বছর জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মোট সাত দফা দাম বাড়ানো হয়। বিপরীতে এপ্রিল, মে, জুন ও নভেম্বর এই চার মাসে দাম কমানো হয়েছিল। ডিসেম্বর মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

বছরের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৪৩৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৪৭৪ টাকা এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ টাকা। পরে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কয়েক দফা দাম কমানো-বাড়ানো হয়। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দাম ছিল ১ হাজার ৪৫৫ টাকা।

অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম, সৌদি আরামকোর নির্ধারিত চুক্তিমূল্য, পরিবহন ব্যয় ও ডলারের বিনিময় হারসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করলেও ভোক্তার ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি।

২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় দাম বাড়ানোর প্রবণতা কিছুটা কম ছিল। ফেব্রুয়ারিতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭৮ টাকায় ওঠে। এরপর কয়েক দফায় দাম কমানো হয়। মার্চে দাম ২৮ টাকা কমে ১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং মে মাসে আরও কমে ১ হাজার ৪৩১ টাকা হয়।

অক্টোবরে দাম ২৯ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২৪১ টাকা এবং নভেম্বরে আরও ২৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২১৫ টাকা করা হয়।

তবে ডিসেম্বরেই আবার ৩৮ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

চলতি ২০২৬ সালে এলপিজির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। জানুয়ারিতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হয়। পরে মূল্য সংযোজন কর কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা।

এরপর এপ্রিল মাসে দুই দফায় বড় অঙ্কে দাম বাড়ানো হয়। ২ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বৃদ্ধির পর ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা হয়। ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় আরও ২১২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।

ফলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ভোক্তার জন্য রান্নার গ্যাসের ব্যয় বড় অঙ্কে বেড়ে যায়। মে মাসেও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

এপ্রিলের পর অবশ্য কয়েক দফায় দাম কমানো হয়। জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানোর পর আগস্টে আবার ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেপ্টেম্বরে আরও ১৩ টাকা কমিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি।

কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই মূল্যহ্রাসের সুফল পুরোপুরি ভোক্তার কাছে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। ৩০ সেপ্টেম্বর সরকার জেলা প্রশাসকদের এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। জেলাভিত্তিক কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

অন্যদিকে, এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা সরকারের কাছে দাবি করেছেন, দেশে এলপিজির সামগ্রিক সংকট নেই।

২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠকে এলপিজি অপারেটররা দেশে সংকট নেই বলে জানান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যের বরাত দিয়ে বৈঠকে জানানো হয়, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল।

১ অক্টোবর এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও (লোয়াব) পর্যাপ্ত সরবরাহের কথা জানিয়ে সদস্য প্রতিষ্ঠান, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ দেয়। সংগঠনটি জানায়, পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও কেউ বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধভাবে মজুত করলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তবে এর বিপরীতে সেপ্টেম্বরের আমদানি আগস্টের তুলনায় কমে যাওয়ার কারণে বাজারে সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছিল এমন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। কিছু ব্যবসায়ী পরিবহন ও জাহাজসংক্রান্ত সমস্যার কথাও বলেছেন।

এলপিজির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের চুক্তিমূল্য, আমদানি ব্যয়, পরিবহন ব্যয়, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম ও বিনিময় হার বিবেচনা করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবর্তন হলে দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য এবং বাস্তবে খুচরা বাজারের মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হলে ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, মূল সমস্যা হলো বিইআরসির নির্ধারিত দামে অনেক জায়গায় এলপিজি বিক্রি না হওয়া। তিনি এলপিজি খাতে অনিয়ম প্রতিরোধে বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

সব মিলিয়ে এলপিজির দামের গত পাঁচ বছরের হিসাব বলছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দফায় দফায় দাম কমানো সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগও যুক্ত হয়, তাহলে সাধারণ পরিবারের রান্নার ব্যয় আরও বাড়ে। সরকারের তদন্ত, জেলা প্রশাসনের নজরদারি এবং ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশ এসব উদ্যোগের বাস্তব ফল কতটা পাওয়া যাবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ডিসি অফিসে জালিয়াতির মাধ্যমে জমির ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ

বাবু ফ্যাসিস্ট আওয়ামিলীগের একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ছাত্রজনতা হত্যার একাধিক মামলা। ইসলামিক পোশাক,

মাতুয়াইলে রাজউকের বিধিমালা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ও প্রযোজ্য ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে একাধিক বহুতল ভবন

দখল, হামলা ও চাঁদাবাজির ছায়া: ঘটনার পর নয়, আগেই কেন নয় ?          

রাজধানী ঢাকার সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা আবারও একটি পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়

ভেঙে পড়েছে গণপূর্তের চেইন অব কমান্ড, প্রকৌশলীদের মাঝে চরম অসন্তোষ

​বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম প্রধান সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তরে সম্প্রতি প্রকৌশলীদের পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় লটারি
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৫৬

দুই মাসে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ২৭ পুলিশ সদস্য কারাগারে : আইজিপি

হাসিনার ফেরার গুঞ্জনে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেবো না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মক্তব পড়ানোর কথা বলে কিশোরীকে ধর্ষণ, ইমামের যাবজ্জীবন

স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৭ বছরের কার্যক্রমের প্রতিবেদন দুদকে

দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী

বোর্ড অন্যত্র ব্যবহার করতে চাইলে সাদরে গ্রহণ করবো: আশরাফুল

শিশুকে যৌন নির্যাতন, সেই মাদরাসা শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন: শফিকুর রহমান

সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট

দিনভর জামায়াতের বাধা, গভীর রাতে দাফন হলেন সাঈদীর মামলার বাদী

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের শঙ্কা, তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস

হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালাকে ফের রিমান্ডে চায় পুলিশ

বিএনপি সংস্কারের কোনো অ্যাজেন্ডাই বাস্তবায়ন করতে চায় না : আখতার হোসেন

সংবিধান সংস্কারের নামে অপচেষ্টা করছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ৬ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭ রায়ে ২৩ মৃত্যুদণ্ড, ১১ যাবজ্জীবন

ভাড়া নিয়ে বিরোধ, বাড়িওয়ালার লাঠির আঘাতে ভাড়াটিয়ার মৃত্যু

সেনা মোতায়েন করে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রাখতে সফল ইতালি