ই-পেপার রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
লটারিতে বদলি

ভেঙে পড়েছে গণপূর্তের চেইন অব কমান্ড, প্রকৌশলীদের মাঝে চরম অসন্তোষ

মুনিরুল তারেক:
০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০৩
আপডেট  : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০৫

​বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম প্রধান সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তরে সম্প্রতি প্রকৌশলীদের পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় লটারি পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার ও স্বচ্ছতার ইস্যু সামনে থাকলেও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে অবাস্তব ও প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থী উল্লেখ করে প্রকৌশলীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

​সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বদলি প্রক্রিয়ায় লটারির প্রবর্তন গণপূর্ত অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ‘চেইন অব কমান্ড’ বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। একটি সেবাধর্মী ও কারিগরি সংস্থায় কোন স্থানে কাকে পদায়ন করা প্রয়োজন, কর্মকর্তা বিশেষের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মূল্যায়ন এবং জরুরি প্রকল্পের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা এখন আর থাকছে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতে বদলি বা পদায়নের সুপারিশের ক্ষমতা না থাকায় মাঠপর্যায়ের জুনিয়র কর্মকর্তারা তাদের প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা মানতে অবহেলা করছেন। ফলে কাজের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধতন কর্মকর্তার মতে, একেকজনের কর্মদক্ষতা ও পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা ভিন্নরকম। একই পদের সকল ব্যক্তি যে একই রকম দক্ষ হবে, এমনটা না। কেউ মাঠ পর্যায়ের কাজে দক্ষ, কেউ দাপ্তরিক কাজে অভিজ্ঞ। কিন্তু লটারিতে বদলি হলে সেই বাড়তি দক্ষতা কোনো কাজে আসবে না।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "লটারি একটি অন্ধ প্রক্রিয়া। প্রশাসনিক প্রয়োজন, কাজের অভিজ্ঞতা বা কোনো জটিল প্রকল্পের দক্ষতার কথা বিবেচনা না করে লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তা পাঠালে মূল কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়লে দিনশেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হয়, অথচ সিদ্ধান্তের জায়গায় তাদের কোনো ভূমিকা রাখা হচ্ছে না।"

​অন্যদিকে, এই স্বয়ংক্রিয় লটারি পদ্ধতির কারণে বড় ধরনের মানবিক ও পারিবারিক সমস্যায় পড়ছেন বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীরা। নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়ায় সাধারণত শারীরিক অসুস্থতা, পারিবারিক সংকট, কিংবা সন্তানকে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করানোর বিষয়টি বিবেচনা করে মানবীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পদায়ন করা সম্ভব হতো। কর্মকর্তারা কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের বা পরিবারের বাস্তবিক সমস্যার কথা তুলে ধরে আবেদন জানাতে পারতেন। কিন্তু লটারি প্রথার কারণে এ ধরণের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

​অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার সন্তান ঢাকার একটি স্কুলে অধ্যয়নরত এবং আমার এক বয়স্ক পারিবারিক স্বজন দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসাধীন। এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে লটারির মাধ্যমে আমাকে প্রত্যন্ত একটি জেলায় পদায়ন করা হয়েছে। আবেদন বা সমস্যার কথা জানানোর কোনো পথ রাখা হয়নি। ফলে চাকরি বজায় রাখা এবং পরিবার সামলানো দুটোই এখন চরম মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

​একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর একজন উপসহকারী প্রকৌশলী। তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর নির্দিষ্ট কিছু জেলায় চিকিৎসা সুবিধা সাপেক্ষে অবস্থান করা জরুরি ছিল। কিন্তু লটারির মাধ্যমে তাঁকে এমন এক বিভাগে পাঠানো হয়েছে যেখানে চিকিৎসা গ্রহণ করা কষ্টসাধ্য।

​প্রকৌশলীরা মনে করছেন, লটারির মতো অযৌক্তিক ও অপরিকল্পিত পদ্ধতির পরিবর্তে ম্যানুয়াল বা অভিজ্ঞতানির্ভর পদায়ন প্রক্রিয়াই একটি সেবাধর্মী সরকারি দপ্তরের জন্য উপযুক্ত। মন্ত্রণালয়ের নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি গণপূর্তের প্রশাসনিক কাঠামো এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনতিবিলম্বে লটারিভিত্তিক এই বদলি নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও মানবিক দিকসমূহ বিবেচনা করে পূর্বের প্রশাসনিক নিয়ম ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলীরা।

৫বছরে প্রায় দ্বিগুণ এলপিজির দাম, তবুও নির্ধারিত দামে মিলছে না বাজারে  

রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ

দখল, হামলা ও চাঁদাবাজির ছায়া: ঘটনার পর নয়, আগেই কেন নয় ?          

রাজধানী ঢাকার সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা আবারও একটি পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়

রক্ষকই যখন ভক্ষক: পুলিশ ও পাট-ক্রয় কর্মকর্তার বিপুল অবৈধ সম্পদ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর জোর তদন্তের দাবি

ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য ও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধ্বংসের মুখে ইসলামি প্রকাশনা জগৎ

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

‘জনআস্থা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি, সেটার বিচার করবে জনগণ’

সেন্ট মার্টিনে কোস্ট গার্ডের অভিযান, ৪২ কোটি টাকার মাদক জব্দ

বাংলাদেশের সঙ্গে ‘জনমুখী’ সম্পর্ক জোরদারে ভারতের আগ্রহ

শীলন বাংলাদেশ-এর ১২৩-তম সাহিত্য সভা শুক্রবার

ভারতের কাছে পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আজ রাত থেকে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ক জোরদারে আশাবাদী জার্মান রাষ্ট্রদূত

নদওয়াতুল উলামার অধ্যক্ষ সাঈদুর রহমান আজমির ইন্তেকাল 

দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কামরাঙ্গীরচরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ঢাকায় ‘দ্য গ্রেট টুনা গালা’-য় মালদ্বীপের টেকসই মৎস্যচাষ, রন্ধনশৈলী ও পর্যটন শিল্পের প্রদর্শনী

সিএমপির সোয়াট সদস্যদের প্রশিক্ষণ শেষ

দুর্গাপূজার ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি, পাবেন না যারা

সেন্টমার্টিনে খতনার পর ৫০ শিশু অসুস্থ, চিকিৎসায় টেকনাফের মেডিকেল টিম

যেভাবে পালিয়ে গেলেন পিচ্চি রাজা, দেখা গেল সিসিটিভি ফুটেজে

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন ডিবিপ্রধান

হামাস কি পুনরায় গাজা শাসন করতে পারবে?

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ঘিরে আলোচনায় আফাজ উদ্দিন

উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের বড় দায়িত্ব