
সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ বলেছেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে আগামী দিনের যে বিশ্ব আমাদের সামনে আসছে, তার জন্য নতুন নিয়মাবলী তৈরি করতে হবে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে নতুন করে লেখা এক বিশ্ব-শীর্ষক এক সেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বরিস তাদিচ বলেন, আমাদের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে, বলতে গেলে আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। কিন্তু আমাদের মধ্যে আস্থার অভাব রয়েছে।
সেই প্রেক্ষাপটে, মানবসমাজ হিসেবে আমরা এক বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের প্রচুর ক্ষমতা রয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে বণ্টিত, কিন্তু এ মুহূর্তে আমাদের আস্থার বড়ই অভাব। এ পরিস্থিতিতে আমরা এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কীভাবে আমরা বর্তমান সমস্যা, চলমান সংঘাত ও বিবাদগুলোর সমাধান খুঁজে পেতে পারি, ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য কীভাবে আমরা সঠিক উপায় ও কার্যকর হাতিয়ার খুঁজে পাব, যাতে আমাদের সামনের সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল বিশ্বের প্রভাব মোকাবিলার জন্য আমাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি নেই। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে আগামী দিনের যে বিশ্ব আমাদের সামনে আসছে, তার জন্য নতুন নিয়মাবলী তৈরি করতে হবে।
বরিস তাদিচ বলেন, বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমাদের দেশগুলোতে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর পাশাপাশি নতুন একটি ক্ষমতার উদ্ভব হচ্ছে, আর তা হলো প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। বর্তমান বিশ্বের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা আমাদের দেখতে হবে। এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম কৌতূহলোদ্দীপক একটি সময়, তবে এর সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’-স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন আগামী ৫ অক্টোবর শেষ হবে।

