
মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ১১৬ রান তুলে পঞ্চম দিনে চা-বিরতিতে যায় পাকিস্তান। শেষ সেশনে তাদের জিততে হলে দরকার ১৫২ রান, বাংলাদেশের ৭ উইকেট।
এই সেশনের শুরুতেই ২ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। বিরতির পর পঞ্চম বলে সেট ব্যাটার আবদুল্লাহ ফজলকে (৬৬) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। পরের ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে সালমান আগা (২৬) গালিতে দেন ক্যাচ। ১২১ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। লিড ২৬৭ রানের। অর্থাৎ পাকিস্তানকে জিততে হলে করতে হবে ২৬৮ রান।
এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত এক ডেলিভারি ইমাম উল হকের (২) ব্যাট ছুঁয়ে চলে গেছে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। ৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৬ রান নিয়ে যায় লাঞ্চ বিরতিতে।
বিরতির পর প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইসকে (১৫) বোল্ড করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৫৭ রানে ঘটে পাকিস্তানের দ্বিতীয় উইকেটের পতন।
এরপর পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে থিতু হতে দেননি নাহিদ রানা। তার দুর্দান্ত গতিতে ব্যাট ছুঁইয়ে দিয়ে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হয়েছেন মাসুদ (২)। ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
তবে এরপর সালমান আগা আর আবদুল্লাহ ফজল ৪৮ রানে অবিচ্ছিন্ন আছেন। সালমান ২১ আর ফজল ৬৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেণ।
এর আগে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনে খেলতে নামে বাংলাদেশ। লিড ছিল ১৭৯ রানের। সেখান থেকে ২৬৭ রানের লিড পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
এই টেস্টে জিততে হলে শেষ দিনে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দরকার ছিল বাংলাদেশের। পঞ্চম ও শেষ দিনে শুরুটা সেভাবেই হয়েছিল। তবে মুশফিকুর রহিম পারেননি ইনিংস বড় করতে।
পাকিস্তানি পেসার হাসান আলির বলে তুলে মারতে গিয়ে মিডঅফে ক্যাচ তুলে দেন তিনি, ফেরেন ২২ রান করে। পারেননি লিটন দাসও। ১১ রান করে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন তিনিও। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হন লিটন।
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ক্যারিয়ারে তিনবার এক টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির সুযোগ মিস ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর। ১৩ রানের জন্য হলো না বিরল রেকর্ড।
নোমান আলীর ঘূর্ণিতে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হন শান্ত। ১৫০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৮৭ রানে থেমেছে তার ইনিংস। প্রথম ইনিংসে শান্ত করেছিলেন ১০১ রান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হন ২৭ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলে। তারপর আর বেশি রান যোগ করতে পারেনি বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের হাসান আলি আর নোমান আলি দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
টেস্টের প্রথম ইনিংসে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৪১৩ রানে। জবাবে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৩৮৬ রান। ২৭ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ।
আমার বার্তা/এমই

