
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীর পূর্ণ ও সমান অংশগ্রহণ ছাড়া মানবজাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়—এ কথা বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
আন্তর্জাতিক নারী ও কন্যাশিশু বিজ্ঞান দিবস উপলক্ষে সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) খাতে নারীরা এখনো নানা কাঠামোগত বৈষম্যের মুখে পড়ছেন। ১
মহাসচিবের বার্তায় বলা হয়, বৈশ্বিকভাবে গবেষকদের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নারী। প্রযুক্তি খাতে এই ব্যবধান আরও প্রকট। ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২৬ শতাংশ, আর ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে তা নেমে এসেছে ১২ শতাংশে
তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নেতৃত্বে নারীর অনুপস্থিতি ডিজিটাল ব্যবস্থায় পক্ষপাত তৈরি করছে, যার বাস্তব প্রভাব পড়ছে সমাজ ও মানবজীবনে। জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য সংকট কিংবা মহাকাশ নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের বাদ দেওয়া মানে মানবজাতির সম্মিলিত সক্ষমতাকে দুর্বল করা।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিজেকে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী হিসেবে কল্পনা করতে পারে এবং প্রতিটি নারী যেন তাঁর বৈজ্ঞানিক কর্মজীবনে বিকশিত হতে পারেন—এ নিশ্চয়তা দেওয়া জরুরি। এ লক্ষ্যেই জাতিসংঘ বিভিন্ন বিষয়ে বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ ও মেন্টরশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুদের সহায়তা করছে।
মহাসচিব বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ মহামারি প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রেই মানবসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। নারী ও কন্যাশিশুদের বৈজ্ঞানিক স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা শুধু তাঁদের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন নয়, এটি সবার কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।
আমার বার্তা /জেএইচ

