
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
রোববার তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ইরানের নীতিগত অবস্থান হলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করা, বিশেষ করে উপসাগরীয় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে স্থায়ী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী ইসরায়েল সবসময় বিভাজনের রাজনীতি ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে মুসলিম দেশগুলোকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে।
তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন, কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা জোরদার করবে।
ইরানি প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি, কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, মন্ত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অনুপ্রবেশ করিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করেছে। তবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরাক তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ায় তিনি এসব দেশের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে জায়নবাদী ইসরায়েল কখনো মুসলিম দেশগুলোর সার্বভৌমত্বে হামলা করার সাহস পাবে না।
বৈঠকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
মহসিন নাকভি শনিবার দুই দিনের সফরে তেহরান পৌঁছান। সফরকালে তিনি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সূত্র : প্রেসটিভি

