ই-পেপার সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দফায় দফায় মেয়াদ বাড়লেও কক্সবাজার বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ থমকে আছে

কাজের ধীর গতির কারণে ব্যয় ৬ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি
১৮ মে ২০২৬, ১০:০৯

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রকল্পের কাজ আজও শেষ হয়নি। কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে শুধু নির্মাণ ব্যয়ই বাড়ছে না, সময়েরও অপচয় হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে চালু করার জন্য ইতোমধ্যে দুই দফায় “আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর” হিসাবে শুধু ঘোষণাই দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সম্প্রতি এ বছরই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্মাণ কাজ চলছে খুবই ধীর গতিতে। প্রতিকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় জমি উদ্ধার করতে না পারায় এখনো বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। যদিও আন্তর্জাতিক মানের রানওয়ে নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে কিন্তু ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রাসঙ্গিক অবকাঠামো এখনো নির্মাণ হয়নি। টার্মিনাল ভবন, ইমিগ্রেশন স্থাপনা, কাস্টমস নিরাপত্তা কোয়ারেন্টান সুবিধার মতো কারিগরী কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে আরো সময় লাগবে। ফলে এ বছর চালু করা অনেকটা অনিশ্চিত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মেগা প্রকল্পটি কবেনাগাদ সম্পূর্ণ হবে তা প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ ইউনুস ভূঁইয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কেউই সঠিকভাবে বলতে পারছেন না।

জানা যায়, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নীতকরণের প্রকল্পটি ২০১২ সালে গ্রহণ করা হয়। যা ২০১৮ সালের ৯ জুন সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় তড়িঘড়ি করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট।

এদিকে সিভিল এভিয়েশন বলছে, প্রকল্পটির জন্য নির্ধারিত জমি অধিগ্রহণ ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ার কারণে কাজের ধীর গতি। এছাড়া সমুদ্রের ভেতর রানওয়ের কাজ সম্পূর্ণ করার জটিলতা ও টার্মিনাল ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের আশা এ বছরই কাজ সম্পন্ন হবে এবং ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

বাস্তবে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবহেলা, অব্যবস্থাপনা, প্রকল্প পরিচালকদের দুর্নীতির কারণেও কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট হয়েছে। ৩টি বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৪টি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ১৯ আসামীর মধ্যে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হাবিবর রহমানসহ কয়েকজন কারাগারে এবং কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তবে প্রকল্প পরিচালকদের কেউ কেউ এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যথাযথ তদন্ত না হওয়াতে লুটেরা চক্র বহাল তবিয়তে রয়েছে।

মামলার অভিযোগে স্থানীয় ঠিকাদারকে আসামী করা হলেও তারা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কতিপয় দুর্নীতিবাজ কয়েকজন প্রকৌশলী এখনো রয়েছেন স্বপদে। থেমে নেই তাদের দুর্নীতিও।

অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বার বার মেয়াদ বাড়ানোর ফলে প্রকল্পের ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজের পরিধি বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা সংশোধন ও কাজের সময়সীমা বাড়ানোতে শুধু অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ই বাড়ছে না, যথেষ্ট সময়ও অপচয় হচ্ছে। প্রথমে দুই দফায় সময় বাড়ানোর পর ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে প্রকল্পটির মেয়াদ সর্বশেষ বাড়ানোর সময়সীমাও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। করা হয় রানওয়ে সম্প্রসারণ ও নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। টার্মিনাল ভবন নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে ২৫৫ কোটি টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পেছনে স্থানীয় ঠিকাদার, কতিপয় প্রকৌশলী জড়িত। তারা নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার মধ্যে লুটে নিয়েছে কয়েকশ’ কোটি টাকা যা তদন্ত হওয়া এখন সময়ের দাবী।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ফায়ার সেফটি, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, সিকিউরিটি সার্ভিস, কার্গো পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু তা এখনো হয়নি। এজন্য নতুন করে আরো অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্রকল্পটির আওতাধীন রয়েছে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট রানওয়েকে সম্প্রসারণ করে ৯ হাজার ফুটে বর্ধিতকরণ। রানওয়ের চওড়া ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে বর্ধিতকরণ। রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ, এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপন, ফায়ার ফাইটিং ভেহিকেল স্থাপন।

এদিকে প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ইউনুস ভূঁইয়া জানান, প্রকল্পটির ৮৬ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। এ বছরই বাকী কাজ শেষ হবে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হবে।

সিভিল এভিয়েশনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় ২০০ কোটি টাকার ৯ ভবন এখনো নির্মাণ হয়নি :

ঠিকাদারদের অভিযোগ, সিভিল এভিয়েশনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার জন্য কার্যাদেশ প্রদানের ২৫ মাস পরেও ভবনগুলো নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো মোটা অংকের টাকার ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ইতোমধ্যেই ভবন নির্মাণ কাজের প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করে রাখা হয়েছে। ভবনগুলো নির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়ার পর এসব নির্মাণ সামগ্রী কেনা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ শুরু করতে না পারায় মালামাল ও নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে বলে ঠিকাদাররা দাবী করেছেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। তবে কি কারণে কাজ শুরু করতে দেয়া হচ্ছে না এর কোন সদুত্তর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।

কার্যাদেশ প্রাপ্ত ভবনগুলো হলোÑ সিভিল এভিয়েশন একাডেমী ভবন (মসজিদসহ)। এ ভবনের নির্মাণের জন্য ২২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর। তৃতীয় টার্মিনালের দক্ষিণ পাশের ২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় ভবনটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয় ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী। এছাড়া অন্যান্য ভবন নির্মাণের প্রকল্পগুলো হলোÑ ২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ৬ তলা ভবন, যা সিভিল এভিয়েশনের সদর দপ্তরের পূর্ব পাশে নির্মাণের কথা রয়েছে।

এছাড়া ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কুর্মিটোলা ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ, কাওলায় একই ধরনের ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ এবং ২০ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে সেমসু অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণ। অন্যদিকে কুর্মিটোলা আমবাগানে মসজিদসহ একটি ভবন নির্মাণের জন্য ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল ২০২৩ সালের ৩ জুলাই এবং তৃতীয় টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে ২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টেক হোল্ডার ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ ৯টি ভবনের ১টিরও কাজ শুরু করতে পারছেন না ঠিকাদারেরা।

ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজউকের বাইরে খাম লেনদেন

লিটন সরকারের স্ববিরোধী জবানবন্দিতেই ঘুষের অকাট্য প্রমাণ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাপট দেখানোর চেষ্টা অভিযানের পর

আমার বার্তায় প্রকাশিত রিপোর্টের জের,  যমুনা অয়েলে গনবদলী, বাকী  শুধু জিএম এইচ আর মাসুদুল ইসলাম 

রাষ্ট্রায়ত্ব তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েলে গনবদলীর ঘটনা ঘটেছে। ১৩ মে প্রতিষ্ঠানটির উপ মহাব্যবস্থাপক জিএম

গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই রাজধানীতে অবাধে চলাফেরা আবিদুল দম্পতির

বর্তমান ঠিকানা  বাড়ি  নাম্বার -৭ ফ্লাট নং ১০/ বি রোড ১৩ গুলশান -২  স্থায়ী ঠিকানা

জনস্বার্থ ও আইনের মুখে উচ্ছেদকৃতদের জীবিকা

রাজধানীর নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় রাজউকের পদক্ষেপ অবৈধ দখলদারদের আল্টিমেটামকে তোয়াক্কা না করার প্রত্যয়  উচ্ছেদ অভিযানে অনড়
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৬২৫২৮ বাংলাদেশি হজযাত্রী, মৃত বেড়ে ১৭

মাঝ-আকাশে মার্কিন দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ, ক্ষতি ৮২৩ কোটি ১০ লাখ

মুসলিম বিশ্বেকে মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: পেজেশকিয়ান

হরমুজ প্রণালির পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি ইরানের

মেসির নৈপুণ্যে অবশেষে মিয়ামির কাঙ্ক্ষিত জয়

সাতসকালে ভূমিকম্পে কাঁপল চীন, এখন পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু

দফায় দফায় মেয়াদ বাড়লেও কক্সবাজার বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ থমকে আছে

অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিতে গুম আইন প্রণয়ন করা হবে: আইনমন্ত্রী

ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাকে আরও একজনের রক্ত পাওয়া গেছে

জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরে নিতে চায় বেইজিং

কঙ্গোতে ইবোলায় ৮০ জনের মৃত্যু, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা ডব্লিউএইচওর

ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, ইরানকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

মাদারীপুরে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

১৮ মে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা

আগামীকাল রাত থেকে ১৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজউকের বাইরে খাম লেনদেন

স্পিকারের সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে জোর

ফোর-জি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে দেশের ৯৯ শতাংশ জনগোষ্ঠী

১ জুলাই থেকেই পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আরও দুই মামলায় আইভীর জামিন বহাল, কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই