ই-পেপার মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

দফায় দফায় মেয়াদ বাড়লেও কক্সবাজার বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ থমকে আছে

কাজের ধীর গতির কারণে ব্যয় ৬ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি
১৮ মে ২০২৬, ১০:০৯

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রকল্পের কাজ আজও শেষ হয়নি। কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে শুধু নির্মাণ ব্যয়ই বাড়ছে না, সময়েরও অপচয় হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে চালু করার জন্য ইতোমধ্যে দুই দফায় “আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর” হিসাবে শুধু ঘোষণাই দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সম্প্রতি এ বছরই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্মাণ কাজ চলছে খুবই ধীর গতিতে। প্রতিকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় জমি উদ্ধার করতে না পারায় এখনো বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। যদিও আন্তর্জাতিক মানের রানওয়ে নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে কিন্তু ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রাসঙ্গিক অবকাঠামো এখনো নির্মাণ হয়নি। টার্মিনাল ভবন, ইমিগ্রেশন স্থাপনা, কাস্টমস নিরাপত্তা কোয়ারেন্টান সুবিধার মতো কারিগরী কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে আরো সময় লাগবে। ফলে এ বছর চালু করা অনেকটা অনিশ্চিত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মেগা প্রকল্পটি কবেনাগাদ সম্পূর্ণ হবে তা প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ ইউনুস ভূঁইয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের কেউই সঠিকভাবে বলতে পারছেন না।

জানা যায়, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নীতকরণের প্রকল্পটি ২০১২ সালে গ্রহণ করা হয়। যা ২০১৮ সালের ৯ জুন সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় তড়িঘড়ি করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট।

এদিকে সিভিল এভিয়েশন বলছে, প্রকল্পটির জন্য নির্ধারিত জমি অধিগ্রহণ ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রমে বিলম্ব হওয়ার কারণে কাজের ধীর গতি। এছাড়া সমুদ্রের ভেতর রানওয়ের কাজ সম্পূর্ণ করার জটিলতা ও টার্মিনাল ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের আশা এ বছরই কাজ সম্পন্ন হবে এবং ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

বাস্তবে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবহেলা, অব্যবস্থাপনা, প্রকল্প পরিচালকদের দুর্নীতির কারণেও কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট হয়েছে। ৩টি বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৪টি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ১৯ আসামীর মধ্যে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হাবিবর রহমানসহ কয়েকজন কারাগারে এবং কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তবে প্রকল্প পরিচালকদের কেউ কেউ এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যথাযথ তদন্ত না হওয়াতে লুটেরা চক্র বহাল তবিয়তে রয়েছে।

মামলার অভিযোগে স্থানীয় ঠিকাদারকে আসামী করা হলেও তারা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কতিপয় দুর্নীতিবাজ কয়েকজন প্রকৌশলী এখনো রয়েছেন স্বপদে। থেমে নেই তাদের দুর্নীতিও।

অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বার বার মেয়াদ বাড়ানোর ফলে প্রকল্পের ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজের পরিধি বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা সংশোধন ও কাজের সময়সীমা বাড়ানোতে শুধু অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ই বাড়ছে না, যথেষ্ট সময়ও অপচয় হচ্ছে। প্রথমে দুই দফায় সময় বাড়ানোর পর ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে প্রকল্পটির মেয়াদ সর্বশেষ বাড়ানোর সময়সীমাও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। করা হয় রানওয়ে সম্প্রসারণ ও নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। টার্মিনাল ভবন নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে ২৫৫ কোটি টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পেছনে স্থানীয় ঠিকাদার, কতিপয় প্রকৌশলী জড়িত। তারা নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার মধ্যে লুটে নিয়েছে কয়েকশ’ কোটি টাকা যা তদন্ত হওয়া এখন সময়ের দাবী।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ফায়ার সেফটি, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, সিকিউরিটি সার্ভিস, কার্গো পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু তা এখনো হয়নি। এজন্য নতুন করে আরো অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্রকল্পটির আওতাধীন রয়েছে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট রানওয়েকে সম্প্রসারণ করে ৯ হাজার ফুটে বর্ধিতকরণ। রানওয়ের চওড়া ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুটে বর্ধিতকরণ। রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ, এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপন, ফায়ার ফাইটিং ভেহিকেল স্থাপন।

এদিকে প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ইউনুস ভূঁইয়া জানান, প্রকল্পটির ৮৬ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। এ বছরই বাকী কাজ শেষ হবে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হবে।

সিভিল এভিয়েশনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় ২০০ কোটি টাকার ৯ ভবন এখনো নির্মাণ হয়নি :

ঠিকাদারদের অভিযোগ, সিভিল এভিয়েশনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার জন্য কার্যাদেশ প্রদানের ২৫ মাস পরেও ভবনগুলো নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো মোটা অংকের টাকার ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ইতোমধ্যেই ভবন নির্মাণ কাজের প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করে রাখা হয়েছে। ভবনগুলো নির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়ার পর এসব নির্মাণ সামগ্রী কেনা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ শুরু করতে না পারায় মালামাল ও নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে বলে ঠিকাদাররা দাবী করেছেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। তবে কি কারণে কাজ শুরু করতে দেয়া হচ্ছে না এর কোন সদুত্তর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।

কার্যাদেশ প্রাপ্ত ভবনগুলো হলোÑ সিভিল এভিয়েশন একাডেমী ভবন (মসজিদসহ)। এ ভবনের নির্মাণের জন্য ২২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর। তৃতীয় টার্মিনালের দক্ষিণ পাশের ২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় ভবনটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয় ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী। এছাড়া অন্যান্য ভবন নির্মাণের প্রকল্পগুলো হলোÑ ২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ৬ তলা ভবন, যা সিভিল এভিয়েশনের সদর দপ্তরের পূর্ব পাশে নির্মাণের কথা রয়েছে।

এছাড়া ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কুর্মিটোলা ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ, কাওলায় একই ধরনের ২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ এবং ২০ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে সেমসু অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণ। অন্যদিকে কুর্মিটোলা আমবাগানে মসজিদসহ একটি ভবন নির্মাণের জন্য ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল ২০২৩ সালের ৩ জুলাই এবং তৃতীয় টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে ২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টেক হোল্ডার ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ ৯টি ভবনের ১টিরও কাজ শুরু করতে পারছেন না ঠিকাদারেরা।

‘গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ’: তারেক রহমানের নতুন রাজনৈতিক দর্শন

প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান। দেশের বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলার

সরকারি চাকরিজীবীর রাজকীয় জীবন, মনিরুলের এত সস্পদের উৎস কী?

# বেতনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন # ​ঢাকা ও বরগুনায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বিপুল পরিমাণ

গজারিয়া সাবরেজিস্টার অফিসে আওয়ামিলীগ নেতা কালা লিয়াকতের দাপট 

পুরো নাম আবুল কালাম ওরফে কালা লিয়াকত । প্রায় দেড় যুগ ধরে একক ভাবে  নিয়ন্ত্রণ

দুদকে শেখ তুহিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, অর্থপাচার ও কর ফাঁকির অভিযোগ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ব্যবসায়ী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত জামিরুর রহমান ওরফে শেখ তুহিনের
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মরক্কোর ফুটবলের বিস্ময়কর উত্থান: বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী

অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী

বিবাহ নিবন্ধনে ডিজিটাল জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হবে: প্রতিমন্ত্রী

সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন নয়, সব যাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রের

সরকারের তোষামোদ নয় জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে হবে

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ব্রিটেন

নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের ব‍্যতিক্রমী উদ‍্যোগ “ম‍্যাংগো ডিপ্লোমেসি”

বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেয়ার আশা শিক্ষামন্ত্রীর

আন্দালিব রহমান পার্থ পেলেন আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত নতুন দায়িত্ব

‘গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ’: তারেক রহমানের নতুন রাজনৈতিক দর্শন

অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ পেলেন রপ্তানিকারকরা

ধর্ষণের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন

সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে কী করে বাজেট বাস্তবায়ন হবে

সাবেক আইজিপি বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: দুদক

ভারতের দূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানালো বাংলাদেশ

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট পেশ, ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা

কৃষকের হাতের নাগালে দুই হাজার ছোট হিমাগার বানাবে সরকার

পুরোনো রেল নিলামে বিক্রি সম্ভব নয়, দুর্ঘটনা রোধে নেওয়া হচ্ছে পদক্ষেপ