
গণভোটের রায়ের প্রতি গড়িমসি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংকটের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞ, নাগরিক নেতা ও আন্দোলনকর্মীরা। এই অবস্থায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যকর করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আজ অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে তারা এসব বিষয়ে একযোগে সতর্ক করেন। সংলাপে অংশ নেন গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম এবং ভয়েস ফর রিফর্মের প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জুলাই আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণকারীরা এবং তাদের সংগঠনের প্রতিনিধি। সংলাপের সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরু।
বক্তারা বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই সনদ এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোটে জনগণ স্পষ্টভাবে ‘হ্যা’ ভোট দিয়ে ৬৮% সমর্থন প্রকাশ করেছে।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জনগণ ও সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচিত সাংসদদের মধ্যে এখনও বড় অংশ শপথ নেয়নি, যা জনগণের প্রতি অশ্রদ্ধার নিদর্শন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায়ে গড়িমসি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
ফাহিম মাশরু বলেন, জুলাই আন্দোলন সাধারণ কোনো ঘটনা ছিল না। এটি জনগণের সংস্কারের আকাঙ্খার প্রতীক। গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করলে সরকার বা রাজনৈতিক দলই রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আশা করছি শিগগিরই সরকার সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে।
সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসিবুদ্দিন হোসাইন, মানবাধিকার কর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, আপ বাংলাদেশের ফারহানা সূচি, নাগরিক ঐক্যের সাকিব আনোয়ার, রাজনৈতিক কর্মী দিদার ভূইয়াঁ, জুলাই রাজবন্দী প্লাটফর্মের মুখপাত্র মাহিন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক কাদের মাজহারসহ অনেকে।
আমার বার্তা/এমই

