
ভূমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম, খেলার মাঠ, পার্ক ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল রক্ষণাবেক্ষণ করতে জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ মন্ত্রণালয়ের অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তর/সংস্থাসমূহ শতাব্দীর অধিককাল ধরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রমে বাস্তবায়নকারীর ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘদিন সরকারের আস্থা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে দেশের অবকাঠামো নির্মাণ, আবাসন সুবিধা প্রদান ও নগর সুব্যবস্থাপনার বৃহৎ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ও আস্থা রাখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলার সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসন সমস্যা নিরসনে ডরমেটরি ও স্টুডিও এপার্টমেন্ট নির্মাণ এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য সমন্বিত অফিস নির্মাণ ও বিদ্যমান অফিস ভবন সংস্কারসহ নতুন ভবন নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুনভাবে প্রণীত সরকারি ক্রয় বিধি অনুসরণ ও বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করছি। বিভিন্ন জেলার পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিকানা নিষ্পত্তি ও ব্যবস্থাপনায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ অন্যান্য দপ্তর/সংস্থার ভূমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম, খেলার মাঠ ও পার্ক ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত খাস জমির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজউক, বিভাগীয় শহরসমূহের প্রতিষ্ঠিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগীতা একান্ত কাম্য।
তিনি বলেন, দীর্ঘ একযুগের অধিককাল দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের উত্থানের ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলগত স্বার্থ সংরক্ষণ ও রক্ষায় যে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে তা সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য 'সবার আগে বাংলাদেশ' কর্মক্ষেত্রে ধারণ ও অনুসরণের মাধ্যমে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে নিঃস্বার্থভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বির্নিমাণে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ ৪টি অধিদপ্তর, ২টি পরিদপ্তর ও ১১টি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনায় আপনাদের সার্বিক সহযোগীতা ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করছি। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে জেলা প্রশাসন গতিশীল ও কার্যকর মাঠ প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় যে ভূমিকা রাখছে তার উত্তরোত্তর অগ্রগতি ও সাফল্যের মাধ্যমে দেশের সার্বিক কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার জন্য আহবান জানাই।
আমার বার্তা/এমই

