ই-পেপার শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা হরণের ব‍্যাপক ঝুঁকি রয়েছে

আমার বার্তা অনলাইন:
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:১৪

২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইনের খসড়ায় এমন কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, অংশীজনদের মতামত ও আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে খসড়াটি ঢেলে সাজাবার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ এ সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা ও জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার-সম্পর্কিত ৩টি জটিল বিষয়কে এক আইনে অন্তর্ভুক্ত করে ৩টির কোনোটিতেই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ‍্যা ও অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করা হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আইনে সাইবার অপরাধের সঙ্গে সাইবার সুরক্ষার মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রকে একাকার করে ফেলার পাশাপাশি সাইবার জগতে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ ভিন্ন, এ ধরনের আইনের আওতাবহির্ভূত এবং বৈশ্বিক উত্তম চর্চার পরিপন্থী।’

খসড়া আইনটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস অবারিত নজরদারি, জবাবদিহিহীন, নিপীড়নমূলক ভূবনে পরিণত হবে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘খসড়া আইনটিতে গুজব, অপতথ্য, হেয় প্রতিপন্ন, মানহানিকর, রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকরসহ বেশ কিছু ধারণাকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে অপব্যাখ্যার মাধ্যমে টার্গেটেড অপব্যবহার ও বিশেষ করে বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি সৃষ্টি করা হয়েছে। অধিকন্তু, ‘‘যৌন হয়রানি’’ ও ‘‘সেক্সটর্শন’’ ইত্যাদি শব্দবন্ধকে এমন অপেশাদার ও অসম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা প্রকৃত অপরাধকে আড়াল করে অভিযুক্তের সুরক্ষা আর ভুক্তভোগীর অধিকার হরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’

তাছাড়া, ধারা-৪৬ (২) এ অ-জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধারা-২৩ এর উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষাসহ ‘‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’’ এবং ‘‘বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে’’ ইত্যাদি যেসব বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার ঘাটতি ও প্রায়োগিক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীনদের মর্জিমাফিক হওয়ার কারণে অপব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমত ও বাকস্বাধীনতাকে ব‍্যাপক হুমকির মুখে ফেলবে বলে মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ সদস্যের সমন্বয়ে সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে বেসরকারি পর্যায়ের ‘‘তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকারবিষয়ক’’ বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। এই দুজন আবার সরকার কর্তৃক মনোনীত হবেন। ফলে ‘‘সুরক্ষা কাউন্সিল’’ সরকারের সরাসরি কর্তৃত্বাধীন অবস্থায় কোনো প্রকার জবাবদিহিহীনভাবে এ আইনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা ও যথেচ্ছ প্রয়োগের ক্ষমতা লাভ করবে। অতএব, এ ধরনের ধারা ঢেলে সাজিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম সংশ্লিষ্টখাতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই কাউন্সিল গঠনের আহ্বান জানাই।’

স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন সাপেক্ষে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব রেখে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কাউন্সিল সদস্যসহ এই আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ‘‘সরল বিশ্বাসে’’ তাদের কৃত কর্মকাণ্ডের জন্য যেকোনো ধরনের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে যেভাবে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা ‘‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’’ এই মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সার্বিক বিবেচনায় খসড়া আইনটি ঢেলে সাজানো ছাড়া অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস একটি অবারিত নজরদারি, জবাবদিহিহীন, নিপীড়নমূলক ভূবনে পরিণত হবে, যেখানে জনগণের অভিগম্যতা সরকারের মর্জিমাফিক নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ভিন্নমত দমনসহ মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন স্বাভাবিকতায় পরিণত হবে।’

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সব নাগরিকের সাইবার সুরক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে খসড়াটি ঢেলে সাজাবার জোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

উদ্যোক্তা-গবেষকদের সহায়তায় সবসময় পাশে থাকবে সরকার

সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশপ্রেমিক নাগরিক, ব্যবসায়ী, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে

যেকোনও মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর

শিক্ষা হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের মূল ভিত্তি : রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিব

শিক্ষা হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উদ্যোক্তা-গবেষকদের সহায়তায় সবসময় পাশে থাকবে সরকার

যেকোনও মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

শিক্ষা হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের মূল ভিত্তি : রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিব

বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে : ববি হাজ্জাজ

রাজশাহীতে বিপৎসীমার ছুঁইছুঁই পদ্মার পানি: তলিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চল

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতা হরণের ব‍্যাপক ঝুঁকি রয়েছে

কাজ হারালেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে কর্মীভিসায় আসা বিদেশিদের

ইউনিক ক্ল্যাসিক সুপার হোল্ডিংস লিমিটেডের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ

খুলনায় প্রকাশ্যে যুবককে গুলি করে হত্যা

দেশে আগামী ৫ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস

ব্যালন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কিলিয়ান এমবাপে

চড়া দামে মাছ-মুরগি-ডিম, বাড়তি দামেও তেলের সংকট

পাকশীতে ট্রলার দুর্ঘটনা, ১৪ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মধ্যেই চড়া সবজির বাজার

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

হুথিদের মোকাবিলায় সৌদিকে গোয়েন্দা সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

সিপিএলে দুই ম্যাচেই ৭ উইকেট, রহস্য জানালেন মিরাজ

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জন গ্রেপ্তার

হুথিদের ড্রোন হামলা, গুরুত্বপূর্ণ তেলের পাইপলাইন বন্ধ করলো সৌদি আরব