
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে বিএনপি জাতি বিনির্মাণের জন্য ব্যবহার করতে চায় বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তিনি মানুষের অন্তরে এখনও রয়েছেন। গণতন্ত্রের মা হিসেবে তিনি খেতাবপ্রাপ্ত এবং ভূষিত হয়েছেন।
বেগম জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগমের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজধানীতে অসংখ্য মানুষ তার জানাজায় অংশ নিয়েছেন, আর যারা আসতে পারেননি তারা গয়েবানা জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জানাজার মধ্যে একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কত মানুষ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই; ভবিষ্যতে অনুমানভিত্তিক তথ্য দেওয়া যেতে পারে।
বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, পৃথিবীর মানুষ বিশ্বাস করেছে, গণতন্ত্রের লড়াই সংগ্রাম করতে করতে একজন সাধারণ গৃহীণি কীভাবে সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের রক্ষক হতে পারে, দৃষ্টান্ত হতে পারে। গণতেন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে করতে নিজের জীবন, সন্তান পরিবার সব কিছু তিনি ত্যাগ করেছেন।
তিনি বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বেগম জিয়ার যে টান, ভালোবাসা, ভক্তি এবং দেশপ্রেম তার কোনো তুলনা নেই। তিনি সবকিছু হারিয়েছেন, তবে অর্জন করেছেন যে উচ্চতায়, সেই উচ্চতায় পৃথিবীর বুকে খুব একটা মানুষের নাম লেখা নাই।
সালাহউদ্দিন বলেন, বেগম জিয়ার ত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শকে বাঁচিয়ে রেখে সামনের দিনে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেষ্টা করবে বিএনপি। এটাই জাতির দাবি। তিনি বিএনপির নেত্রী নন, তিনি নিজেকে গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের সবাই তাকে সেই মর্যাদায় আসিন করেছেন। অন্যথায় তাকে হারানোর বেদনা কখনোই পূর্ণ হবে না।
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা, আকাঙ্ক্ষা আজকে যে উচ্চতায় উঠেছে, আমরা সত্যিকার অর্থে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবো কি না, তা নিয়ে শঙ্কিত। মানুষের আশা এবং প্রত্যাশ আসমান সমান হয়ে গেছে। সেই প্রত্যাশা কতটুকু বাস্তবিক ভিত্তিতে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখে- সেটা নিয়ে আমি সত্যি শঙ্কিত। তবুও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সীমিত সাধ্য ও অর্থনৈতিক সাধ্যের মধ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এই জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এটাই আমাদের দায়িত্ব। কতটুকু পূরণ করতে পারা যাবে বা যাবে না সেটা ভবিষ্যৎ দেখবে।এরপর নির্বাচন প্রসেঙ্গ সালাহউদ্দিন বলেন, বেগম জিয়ার শোককে আমরা শক্তিতে পরিণত করতে চাই। কিন্তু, এটা দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করার মতো এতটা সংকীর্ণ আমরা নই। তার শোককে জাতি বিনির্মাণের জন্য ব্যবহার করতে চাই। মোনোনয়নের ক্ষেত্রে যেহেতেু তিনি ফিজিক্যালি আর নেই, সেহেতু এমনিতেই বাতিল ঘোষণা করা হবে। যেহেতু বিকল্প হিসেবে কয়েকজন রয়েছেন, বাছাইয়ে টিকেলে তারাই প্রার্থী হবেন।
নির্বাচন পেছানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, প্রার্থী বাছাই এবং প্রতীক বরাদ্দের পর যদি সেটা হতো সেক্ষেত্রে আইনগত জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হতো। এখন সেই পরিস্থিতি নেই, যেহেতু বাছাইয়ের আগেই তিনি না ফেরার দেশে। সে কারণে তার মনোনয়ন বাছাইয়ে টিকবে না।
মায়ের শোকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভেঙে পড়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকে শক্ত মনোবলের হতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

