
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কুড়িগ্রাম জেলা দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ। এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। এখানে ( কুড়িগ্রামকে) কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব আমরা। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মনি মুক্তায় ভরিয়ে দেয়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদীগুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার কর হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না; আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আর বিভক্তি নয়। আমরা কোন দলীয় রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই না। এ বিজয়ে আমি তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে গণজোয়ার দেখছি। আমরা দেশে আধিপত্যবাদীদের ক্ষমতা দেখতে চাই না, আমরা চাই সমতা থাকুক বাংলাদেশে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে, অধিকার দাও না হলে গুলি। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মতো। এখান থেকে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪শ শহীদ হয়েছে। তাদের রক্তে নদীগুলো লাল হয়েছে। আমরা এ রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।
শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়া। আমাদের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই-তাদের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন।
তিনি একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারা নারীদের গায়ে, মা বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছেন কাপড় খুলে নিবেন। তারা বলছেন হিজাব পড়ে আসলে খুলে ফেলো, তাদের যেখানে পাও ঠেকিয়ে দাও। লজ্জা লজ্জা। এরাকি মায়ের পেট থেকে আসে নাই? তা হলে মায়ের জাতের গায়ে হাত দেয় কিভাবে? আপনারা ভয় পাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোন জমিদার মেনে নেব না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি, এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না। আপনাদের রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। যে দেশে মায়েদের কোন নিরাপত্তা নেই। সে দেশ আমার হতে পারে না। আমরা জাতি ধর্ম দেখব না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন একটি গোষ্ঠী আমার পিছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যাতা চালিয়ে দিয়েছে। আর অমনি একটা দল ঝাপিয়ে পড়ে তাইরে নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটি তো গাইলো বটে তাদের বড় বড় মাথাগুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তারা পেরে উঠতে পারেনি, আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে গলা টিপে ধরেছে, সত্য কখনও ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ইতোমধ্যে মেইন কালপিটকে গতকাল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দমন-পীড়ন কিংবা সংকট কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে ছেড়ে যায়নি জামায়াতে ইসলামী; ভবিষ্যতেও যাবে না। জীবন চলে গেলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা হবে না।
তিনি বলেন, জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অন্যতম নির্যাতিত মজলুম দল এই জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করেনি।
জামায়াত আমির বলেন, কোনো চান্দাবাজ-বাটপারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে থাকবে না। দলীয়ভাবে আমরা কোনো প্রতিশোধ নেব না। এছাড়া কোনো মামলা বাণিজ্য করব না।
প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম -৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়ি পাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমানেকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নাগরিক পাটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, সহ সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ, শাহজালাল হক সবুজ, জেলা বায়তুলমাল সম্পাদক জহরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া, খেলাফত মজলিস রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সবেবর মিয়া প্রমুখ।
আমার বার্তা/এমই

