ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

বিদেশি পাসপোর্টধারী ইবিএল চেয়ারম্যানের অর্থ পাচার নিয়ে তদন্তে সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো শওকত আলী চৌধুরীকে ঘিরে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান নতুন মাত্রা পেয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাঁর ও তাঁর পরিবারের দেশি–বিদেশি পরিচয়পত্র, সম্পদ, ব্যবসা এবং বিদেশে বিনিয়োগ কার্যক্রমের বিস্তৃত নথি তলব করেছে।

সিআইডির এই পদক্ষেপের মধ্যেই সামনে এসেছে শওকত আলী চৌধুরীর নামে ইস্যু হওয়া সেন্ট কিটস এন্ড নেভিসের একটি পাসপোর্টের তথ্য। এই গোপন নাগরিকত্ব ব্যবহার করে তিনি বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে ধারনা তদন্ত কর্মকর্তাদের।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার আওতায় সিআইডি’র জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে, শওকত আলী চৌধুরীকে তাঁর নিজের, স্ত্রী-সন্তান ও নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশি ও বিদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, গত ১০ বছরের বিদেশ ভ্রমণের রেকর্ড, দেশে ও বিদেশে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য, আয়কর নথি, বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যবসায় মালিকানা ও শেয়ারহোল্ডিং, বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের অনুমোদন, এবং বিদেশে সম্পত্তি ক্রয়-সংক্রান্ত সব নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কমর্কর্তাকে (ওসি) অনুরোধ করা হয়েছে নোটিশপ্রাপ্তির পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এসব নথি শওকত আলীর থেকে সংগ্রহ করে সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে পাঠাতে।

এই অনুসন্ধান এমন এক প্রেক্ষাপটে এগোচ্ছে, যখন শওকত আলী চৌধুরীকে ঘিরে আগে থেকেই ব্যাংকিং অনিয়ম, ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ উঠে এসেছে।

ব্যাংক রেকর্ড, কাস্টমস নথি এবং বিদেশি সরকারি দলিল বিশ্লেষণে দেখা গেছে – এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা শওকতা আলীর অনিয়মের একটি ধারাবাহিক চিত্র।

নথি অনুযায়ী, ইবিএল ২০১৬ সালে তাদের গ্রাহক ও শীর্ষ ঋণখেলাপি নাজমুল আবেদীনের মালিকানাধীন এ অ্যান্ড বি আউটওয়্যার লিমিটেডের নামে একটি ‘শিল্প ঋণ’ অনুমোদন দেয়। ওই ঋণের অর্থ ব্যবহার করে ২৮ আগস্ট ২০১৬ তারিখে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড)–এর বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে একটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ এএমজি জি-৬৩ আমদানি করা হয়।

আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে (সি-১৬৬০৪৪) এঅ্যান্ডবি আউটওয়্যার লিমিটেডকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হলেও নথি ও সরেজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ভিন্ন ছবি তুলে ধরে। গাড়িটি কখনোই কোনো শিল্প বা উৎপাদনমূলক কাজে ব্যবহার হয়নি।

সিইপিজেডের বন্ড তদারকির সঙ্গে যুক্ত দুই সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার জানিয়েছেন, আমদানির শুরু থেকেই গাড়িটি ইবিএল চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের ছেলে জারান আলী চৌধুরী নিয়মিত গাড়িটি ব্যবহার করতেন।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, বন্ড সুবিধায় আনা এই গাড়িটি ২০২০ সাল পর্যন্ত ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে চলাচল করেছে। এর ফলে নিবন্ধন ও শুল্ক পরিশোধ এড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাড়িটির ছবি ও তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর তড়িঘড়ি করে এটি আমদানিকারক কোম্পানির নামে নিবন্ধন করা হয়। বন্ড বিধি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের নিবন্ধন বন্ড আইনের মূল শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ি কেবল শিল্পকারখানার কাজেই ব্যবহারের অনুমতি থাকে।

এই গাড়িকে ঘিরে চলা ঘটনাপ্রবাহের সময়কাল মিলে যায় ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঋণ শ্রেণিকরণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে। নথি অনুযায়ী, নাজমুল আবেদীনের মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান মাল্টি সাফ ব্যাগস লিমিটেড–এর কাছে ইবিএলের পাওনা প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ঋণটি খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও রেকর্ডে দেখা যায়, কৃত্রিমভাবে এটিকে ‘নিয়মিত’ দেখানো হয়েছে।

নাজমুল আবেদীন বর্তমানে সিআইডি ও কাস্টমসের দায়ের করা মামলার একজন আসামি। সরকারি নথিতে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২২২ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। এরপরও তার ব্যাংকিং সুবিধা অব্যাহত থাকায় ইস্টার্ন ব্যাংকের ভেতরে স্বার্থের সংঘাত ও সুশাসনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অনুসন্ধান আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, সম্পর্কটি শুধু ঋণ অনুমোদন বা শ্রেণিকরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না। করপোরেট রেকর্ডে দেখা গেছে, মাল্টি সাফ লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার তালিকায় শওকত আলী চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতি ছিল। তাঁর বাল্যবন্ধু হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাজওয়ার ফিরোজ হক বিভিন্ন সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারধারী ছিলেন। তাজওয়ার ফিরোজ হকের স্ত্রী ফারাহনাজ হক ছিলেন মাল্টি সাফের একজন প্রতিষ্ঠাকালীন শেয়ারহোল্ডার।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাসহ অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর মতে, ফারাহনাজ হকের শেয়ারহোল্ডিং একটি ‘আবরণ’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শেয়ারহোল্ডিং পরিবর্তনের ধরন, প্রবেশ–প্রস্থান এবং কোম্পানির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আড়ালে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ অন্যত্র ছিল।

বিদেশি নথি পর্যালোচনায় গেলে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। নাজমুল আবেদীন নিজেকে একজন ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শওকত আলী চৌধুরী ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে তদন্তকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন—নাজমুল আবেদীন কি এখানে ফ্রন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন।

এই প্রশ্ন আরও শক্ত ভিত্তি পায় সিঙ্গাপুর ল্যান্ড অথরিটির (এসএলএ) নথিতে। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারিন সিঙ্গাপুরে যে ঠিকানা ব্যবহার করে সম্পত্তি নিবন্ধন করেছেন, একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন মুজিবুর রহমান মিলন—যিনি মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে দণ্ডিত, অগ্রণী ব্যাংকের প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি এবং ইবিএলের একজন ঋণখেলাপি।

সিঙ্গাপুরের ওই ঠিকানাটি হলো ১২০ লোয়ার ডেল্টা রোড, ১১-০৯, সেনডেক্স সেন্টার।

অনুসন্ধানে আরও পাওয়া গেছে, শওকত আলী চৌধুরী ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত একাধিক অফশোর প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন। বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, এসব অফশোর সত্তা শেল কোম্পানি কাঠামোয় গঠিত। একই নথিতে উঠে এসেছে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক শিপ ব্রোকার মুজিবুর রহমান মিলন এসব শেল কোম্পানি গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। মিলন ও শওকতের সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে সিআইডির নোটিশে বিদেশি পাসপোর্ট, বিদেশে বিনিয়োগ, সম্পত্তি এবং আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমের পূর্ণ নথি চাওয়াকে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। নোটিশে উল্লিখিত বিদেশি পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং অফশোর কাঠামোর সময়কাল মিলিয়ে এখন তদন্তের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।

সিডিসি জালিয়াতির মূল হোতা রহস্যজনকভাবে এখনো বহাল তবিয়তে

টাকার বিনিময়ে জাহাজ পরিচালনার সনদ (কন্টিনিউয়াজ ডিসচার্জ সার্টিফিকেট) বা সিডিসি বানিজ্যের সিন্ডিকেট নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে

সিডিসি জালিয়াতীর মূল হোতা রহস্যজনকভাবে এখনো বহাল তবিয়তে

টাকার বিনিময়ে জাহাজ পরিচালনার সনদ (কন্টিনিউয়াজ ডিসচার্জ সার্টিফিকেট) বা সিডিসি বানিজ্যের সিন্ডিকেট নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে

বিসিআইসির চেয়ারম্যান ও পিডি’র সঙ্গে গোপন সমঝোতায় বাফার ৩৪ সার গুদাম নির্মাণে অনিয়ম

প্রতি বছর কৃষকের কাছে মানসম্মত ‘সার’ সহজলভ্য করতে কয়েক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় সরকার।

ডিপিএইচই এস্টিমেটর আনোয়ারের টেন্ডার সিন্ডিকেট ও শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

*  ডিপিএইচই এস্টিমেটর আনোয়ারের টেন্ডার সিন্ডিকেট ও শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ * স্ত্রীর নামে ঠিকাদারি, নিরাপদ পানি
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারত মহাসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮ মার্চও ছুটির প্রস্তাব, অনুমোদন হলে ঈদের ছুটি হবে সাতদিন

তিতাস গ্যাস ও সিটি ব্যাংকের মধ্যে অনলাইনে গ্যাস বিল আদায়ে চুক্তি স্বাক্ষর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নারী শিক্ষককে হত্যা

সংসদীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের ২ দিনের প্রশিক্ষণ দেবে বিএনপি

ঈদের ছুটি একদিন বাড়ানোর দাবি যাত্রীকল্যাণ সমিতির

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চাই: বাণিজ্যমন্ত্রী

কর্মকর্তা অনুপস্থিত, বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান

৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

৫ দিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে বাতিল হলো ১৭৩ ফ্লাইট

ইরানের সাবমেরিন-সহ ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র

হাসপাতাল থেকে দালালের দৌরাত্ম্য নির্মূল করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চাপের মুখে অর্থনীতি, নতুন সরকারের কঠিন চ্যালেঞ্জ

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতা নিহত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ল

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি শিক্ষা খাতই হবে প্রধান চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বার্সার কাছে তিন গোলে হেরেও ১৩ বছর পর ফাইনালে আতলেতিকো