
রাজধানীর ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে একজন ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার ও আরও অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্ল্যাকমেইল এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি। তাই তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনটি বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে শেষ হয়। এতে ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ-আলম খানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বক্তা বলেন, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, গোপন ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তার দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বহু ব্যক্তি মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনলাইন যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাকে এবং তার পরিচিতদের হয়রানি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং আদালতে মামলা করেছেন। তার দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মামলাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক প্রতারণা, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল এবং সাইবার অপরাধ বর্তমানে একটি বড় সামাজিক উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বক্তা দাবি করেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা চেয়েছেন। তবে তার অভিযোগ, প্রত্যাশিত সহযোগিতা তিনি পাননি। এজন্য তিনি পুনরায় সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাইবার অপরাধ তদন্তকারী ইউনিটের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তা তার দায়ের করা কয়েকটি জিডি ও মামলার তথ্যও উপস্থাপন করেন এবং দাবি করেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি তার উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো অসত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত হবে, সেটিও তিনি মেনে নেবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট বক্তার নিজস্ব দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

