
দেশের নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়ে ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবায়ন পদ্ধতি ‘বিপিএম৬’ অনুযায়ী বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১২৩ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (৩১.২৩ বিলিয়ন ডলার)। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলসহ মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮০ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ৩৫.৮০ বিলিয়ন ডলার।
বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর।
এর আগে গত মে মাসে নিট রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে দুই মাসের আমদানি ব্যয়ের বিল পরিশোধের পর তা ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।
প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আকু (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) ব্যবস্থার আওতায় প্রতি দুই মাস পরপর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-সংক্রান্ত বিল পরিশোধ করা হয়।
সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে বহুপাক্ষিক এ ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হয়। এই আঞ্চলিক লেনদেন ব্যবস্থার সদস্য দেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কোনো দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান সূচক। পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকলে বিদেশি ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। পাশাপাশি স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতেও এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা-সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন। বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে বাংলাদেশের ছয় মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
আমার বার্তা/এমই

