ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩৩

বিদেশে সব ধরনের সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:১১

বিদেশে প্রায় সব ধরনের সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া নতুন সাহায্য অনুমোদন বন্ধ রেখেছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথিতে এই তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা ও বিদেশি দূতাবাসগুলোতে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার একটি নির্বাহী আদেশ জারি করার পরই এই বিদেশি সহযোগিতা বন্ধের বিষয়টি সামনে আসে।

ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের জন্য সব মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যেসব বৈদেশিক সহযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা খতিয়েও দেখা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নোটিশে উন্নয়ন সহায়তা থেকে সামরিক সহায়তা পর্যন্ত সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং ইসরায়েল ও মিশরের জন্য সামরিক তহবিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

নথি অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নতুন তহবিল অনুমোদিত হবে না বা বিদ্যমান কোনো চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে না’। একইসঙ্গে চলমান প্রকল্পের কাজও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যালোচনা শেষ হয়।

কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, পর্যালোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্তানুযায়ী কর্মকর্তারা যেন অনতিবিলম্বে 'কাজ বন্ধের নির্দেশনা জারি করেন'।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন পররাষ্ট্রনীতি নিশ্চিত করতে সব বিদেশি সাহায্যের বিস্তারিত পর্যালোচনা আগামী ৮৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এই পর্যালোচনা ৮৫ দিনের মধ্যে শেষ হবে এবং তা নিশ্চিত করবে যে সব সাহায্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে।

তিনি আরও বলেছেন, ‘বিদেশে আমাদের ব্যয় শুধু তখনই হওয়া উচিত, যদি তা আমেরিকাকে নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নোটিশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বিদেশি সাহায্য কর্মসূচির ওপর অনেক বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার কথাটি একবার ভাবুন। এটি অনেক বড় একটি বিষয়।’ বলছিলেন জশ পল। যিনি ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত অস্ত্র সরবরাহে কংগ্রেসের সম্পর্ক দেখভাল করতেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএইড মিশনের সাবেক পরিচালক ডেভ হার্ডেন বলেন, এই পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’, যা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে মানবিক এবং উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচিগুলোকে স্থগিত করে দিতে পারে।

তিনি জানান, বিদেশি সহায়তা বন্ধের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পানীয় জল, স্যানিটেশন এবং আশ্রয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে পড়তে পারে।

‘এটি শুধু সাহায্য স্থগিতই নয়, বরং ইতোমধ্যে দেশটির অর্থায়নে চলমান চুক্তিগুলোর কাজ বন্ধেরও নির্দেশ প্রদান করে।’- যোগ করেন তিনি।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই অর্থায়ন স্থগিতের প্রভাব ইউক্রেনেও পড়তে পারে। যেখানে আগে থেকে প্রচুর অস্ত্র সহযোগিতা দেয়া হয়েছিল। সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে ইউক্রেন অস্ত্র সহায়তায় বড় অংকের সহযোগিতা পেয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও স্বাক্ষরিত নথিতে সহায়তা স্থগিতের পক্ষে যুক্তি বলা হয়েছে, 'বর্তমান বিদেশি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি ‘কার্যকর কিনা, পুনরাবৃত্তিমূলক কি না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা মূল্যায়ন করা অসম্ভব।’

তবে জরুরি খাদ্য সহায়তার জন্য তিনি ছাড়পত্র জারি দিয়েছেন। অর্থাৎ গাজা ও অন্যান্য যে সব জায়গায় খাদ্য সংকট চলছে সেখানে জরুরি খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতির পর মানবিক সাহায্য বৃদ্ধি পেয়েছে ও সুদানের মতো বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের ঘটনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগও করা হয়েছিল।

মার্কিন সরকারের নীতিতে নিজের প্রভাব রাখতে প্রেসিডেন্টদের মূল হাতিয়ার এক্সিকিউটিভ অর্ডার বা নির্বাহী আদেশ। ক্ষমতা নেয়ার পর সেই হাতিয়ার ব্যবহারে এক মুহূর্তও দেরি করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতেই একশোর বেশি নির্বাহী আদেশে সই করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

নির্বাহী আদেশ কী ও কেন?

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাহী আদেশের ঝড় তুলবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার আক্ষরিক বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন দেশটির ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট।

এক কথায় এক্সিকিউটিভ অর্ডার হলো যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া একটি লিখিত আদেশ, যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয় না।

অর্থাৎ, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত জারি করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ বলে প্রেসিডেন্ট এই আদেশ জারি করার ক্ষমতা পান।

ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা একজন প্রেসিডেন্টের ওপর অর্পিত হবে।’

নির্বাহী আদেশের বদৌলতে সাধারণ ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরিবর্তন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নীতি নাটকীয়ভাবে পুরোপুরি উল্টে যাওয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটতে পারে।

এই যেমন সোমবার প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে জলবায়ু সংক্রান্ত আগের মার্কিন নীতির উল্টো পথে হাঁটা শুরু করলেন তিনি।

এর আগে ২০১৭ সালে বিতর্কিত দুটি তেল পাইপলাইনের নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিলেন তিনি। যা পূর্বসূরী ওবামা প্রেসিডেন্সির নীতিগত অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। ওবামা আমলে ২০১৫ সালে ক্রিসমাস ইভে (বড়দিনের আগের সন্ধ্যা) সরকারি দপ্তরগুলো আধাবেলায় ছুটি দেয়ার মতো সাধারণ সিদ্ধান্তও নির্বাহী আদেশে পাল্টে দেয়ার নজির আছে ট্রাম্পের। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

আমার বার্তা/জেএইচ

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করবে আফগানিস্তান

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ কেনার চুক্তি করেছে আফগানিস্তান। দেশটির তালেবান সরকারের উপ-বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের

ভারতে সেনাবাহিনীর গাড়ি খাদে পড়ে প্রাণ গেল ১০ সেনাসদস্যের

জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত ১০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিচ্ছে পাকিস্তান

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাকে পুনর্গঠন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এ

নির্ভয়ে সব নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি: জাতিসংঘ

বাংলাদেশে আগামী সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নির্বাচনের
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতেই ক্রিকেটারদের ডাকা হয়েছিল: আসিফ নজরুল

এই দেশে আর ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না: জামায়াত আমির

কার্ডের সুবিধার নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

আইসিসি ও ভারত আমাদের কনভিন্স করার কোনো চেষ্টাই করেনি

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করবে আফগানিস্তান

সরকারের একটি মহল কিছু প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করছে: মির্জা আব্বাস

উগ্রবাদীদের চাপে বাংলাদেশকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ভারত: আসিফ নজরুল

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কুমিল্লা এরিয়া পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

আমরা ক্ষমতায় গেলে চা শ্রমিক-দিনমজুরদের ফ্যামিলি কার্ড দেবো

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তবে ভারতে নয়: বুলবুল

আইসিসি থেকে বাংলাদেশ সুবিচার পাইনি: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

বালিয়াডাঙ্গীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ডা. কাসফিয়া সালাম নির্ঝরের মতবিনিময় সভা

বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ, বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

তাদের প্রটোকল বিএনপির চাইতে ৩ গুণ করে দেন: তারেক রহমান

তিন নেতা ও হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এনসিপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন পটাশ সার উপহার রাশিয়ার

ভারতে বসে হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৭ বছর পর নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে এসেছে : আমির হামজা

শেয়ার বাজারে পতনে ডিএসই, সিএসইতে বেড়েছে সূচক-লেনদেন

চুয়াডাঙ্গায় ধানের শীষের প্রচারণা চালানোর সময় জরিমানা