
বিচ্ছিন্নভাবে করা ডিজিটাল উন্নয়নগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দিয়ে উপাত্তভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জোর দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এজন্য ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং ডেটার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরমার্শ তাদের।
তারা বলেন, ডিজিটাল উন্নয়নে সাইবার নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। আর সেদিকে লক্ষ রেখে ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে মেস থেকে স্টার মডেলে পা রেখেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রক্ষেপণের স্বপ্ন থেকে বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
এ সময় ডেটা গভর্নেন্সের আইনি কাঠামো বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে এই আইনগুলো পাস হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ গঠন করে বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এপিআই দিয়ে নাগরিক সেবা টেস্ট করা হয়েছে। তবে বিপুল তথ্য নিয়ে কাজ করতে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আগামী মার্চে কাজ শুরু হবে। এস্তোনিয়ার মডেলে খরচ বেশি হওয়ায় আমরা কেন্দ্রীয় ডাটা এক্সচেঞ্জ তৈরি করবো। বর্তমানে থাকা মেস মডেল থেকে স্টার মডেলে যাবো। এই স্টারে সবাই কানেক্টেড হতে পারবেন। এখন বিচ্ছিন্নভাবে এআই মডেলে কাজ হলেও আমরা ন্যাশনাল ইন্টার-অপারেবিলিটি পদ্ধতিতে কাজ করতে পারবো।
বিগত সময়ে কানেক্টিভিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হলেও সেবা অবহেলিত ছিল অভিযোগ করে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, কনেক্টিভিটি বাড়াতে আমরা ফাইবারকে পানির দামে সস্তা করতে কাজ করছি। মোবাইল কোম্পানিকে বিনিয়োগে ফোর্স করা হচ্ছে। পরিচয় বা বিনিময়ের মতো রাজনৈতিক সদিচ্ছা বাস্তবায়ন করা হলেও এখন ওয়ান আইডি লাগবে। এজন্য এনাইডিকে রিক্রিয়েট করে করার চেষ্টা করছি। এটি বাস্তবায়নে এজন্য এমন একটি অ্যালগরিদম লাগবে, যে বলবে কোনো ডেটা পরিবর্তন করা যাবে না, বার্তা দেবে। আর পরিবর্তনশীল তথ্য ব্লক চেইন ব্যবহার করা হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেলার সহযোগী হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূইয়া। তিনি বিচ্ছিন্নভাবে রূপান্তরের প্রভাব তুলে ধরে ডিপিআই বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। একই সঙ্গে টার্গেট পূরণ না হলে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয় বলে মত দেন।
আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বর্তমান সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শিক্ষাবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক, বেসিসের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির এবং স্পেকট্রাম সফটওয়্যার অ্যান্ড কনসালটিং লিমিটেডের ম্যানেজিং পার্টনার মুশফিকুর রহমান।
এক্সপোতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরও ৪টি সেমিনার এবং ৪টি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এক্সপো উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আমার বার্তা/জেইচ

