
ঐকমত্যে সরকার গঠন হবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির মিলের ওপর বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে দলটির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ৪২টি দল মিলে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যারা সংহতি প্রকাশ করবে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের মেহেদিবাগ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে এখন ভোটের উৎসবের পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আগামী ১২ তারিখ দীর্ঘ সময় পর তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং সবাই সেই দিনের অপেক্ষায় আছে। তিনি নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১১টি বিষয়ে অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য বন্দরের এফিসিয়েন্ট অপারেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশিরা বাংলাদেশে এলে প্রথমেই জানতে চায় বন্দরের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম ও এফিসিয়েন্সি কেমন। এসব সূচকের ওপর নির্ভর করেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই আগামী দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের এফিসিয়েন্সি, টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম ও কস্ট—সবকিছু উন্নত করে বৈশ্বিক সেরা চর্চার পর্যায়ে নিতে হবে। বিশ্বের বন্দরগুলো যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর উদাহরণ অনুসরণ করলেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বৈশ্বিক সেরা চর্চা অনুসরণ করে চট্টগ্রামকে লজিস্টিকাল হাবে রূপান্তর করা হবে। এজন্য বন্দরের এফিসিয়েন্সি আরও বাড়াতে হবে।
ভোটের দিন শঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সিল তৈরি, ব্যালট তৈরি, বোরকা তৈরি, এনআইডি কার্ড নিয়ে যাওয়া বা বিকাশের জন্য টেলিফোন নম্বর নেওয়ার মতো নানা বিষয় সামনে আসছে। এসব বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের রাজনীতি করে এবং একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দলটি সৃষ্টি হয়েছে। জন্মলগ্ন থেকে বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন অবস্থানে রয়েছে। গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টা রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, কেউ কেউ নির্বাচন চায়নি বা নির্বাচনের ওপর আস্থা রাখেনি। তবে এসবের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা যাবে না। বাংলাদেশের জনগণ খুবই সজাগ।
তিনি বলেন, তিনি নিশ্চিত ১২ তারিখ জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং তাদের অধিকার প্রয়োগ করবে। কারসাজির যেকোনো চেষ্টা ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিহত করবে জনগণ। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার যেকোনো চেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিকমনা মানুষ গ্রহণ করবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঐকমত্যের সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটা হচ্ছে—প্রথমে দর্শনগতভাবে কিছুটা মিল থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, আগামীর কর্মসূচির সঙ্গে একমত হতে হবে। ৪২টি দল মিলে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর সঙ্গে যারা সংহতি প্রকাশ করবে, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। তবে সেটি হবে কি না, তা বলা সম্ভব নয়। সঙ্গতিপূর্ণ হলে দল আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
হ্যাঁ-না ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারেক রহমানের অবস্থান স্পষ্ট। বিভিন্ন ইস্যু তুলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ নেই। দেশের মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায় এবং জবাবদিহিমূলক সরকার দেখতে চায়। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে নির্বাচনী সময়ে আলোচনা না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন মূলত ভবিষ্যতে জনগণের জন্য কী করা হবে তা জানানোর প্রক্রিয়া। জনগণ আগামী দিনের পরিকল্পনা জানতে চায়, সেটিই নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের মূল বিষয়।
জামায়াত আমিরের ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আলোচনার মতো কোনো বিষয় নয়। সময় হলে দেশের নাগরিকরাই এসবের মূল্যায়ন করবে।
চট্টগ্রামে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের যেকোনো সংকটময় সময়ে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দৃশ্যমানভাবে বোঝা যাচ্ছে, জনগণ আবারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের আস্থা বিএনপির ওপর থাকবে।
আমার বার্তা /জেএইচ

