ই-পেপার বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

হত্যা মামলার আসামি আক্তারুজ্জামান হাসপাতালের বিলাসবহুল কেবিনে

স্টাফ রিপোর্টার:
১৭ মার্চ ২০২৫, ১৬:২৬
আপডেট  : ১৭ মার্চ ২০২৫, ১৬:৩২

রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত বিএনপি নেতা ও সাবেক ঢাকা সিটি করপোরেশন কমিশনার চৌধুরী আলম গুম ও একাধিক ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খান মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বর্তমানে কারাগারে থাকার কথা থাকলেও, অবৈধ অর্থের জোরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বিলাসবহুল কেবিনে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তিনি গুরুতর কোনো শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন না, বরং কারাগারের পরিবেশ এড়িয়ে হাসপাতালের বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় তিনি হাসপাতালের বিশেষ কেবিনে থাকার ব্যবস্থা করেছেন।

২০১০ সালের ২৫ জুন সন্ধ্যায় ফার্মগেট সংলগ্ন ইন্দিরা রোডের কালিন্দি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে থেকে বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমকে অপহরণ করা হয়। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এই ঘটনায় সম্প্রতি তার ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি জিয়াউল আহসানসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার অন্যতম আসামি খান মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান। অভিযোগ রয়েছে, চৌধুরী আলম গুমে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি আক্তারুজ্জামান বিভিন্ন গুম, হত্যা ও দখলবাজি কর্মকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসায় র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আক্তারুজ্জামান গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা, গুম, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও দখলবাজির মামলা রয়েছে। মিরপুর, পল্টন, খিলগাঁও, উত্তরা পশ্চিম, যাত্রাবাড়ী, রামপুরাসহ ও ভাষানটেক থানায় ছাত্র হত্যা মামলা এবং ক্যান্টনমেন্ট থানায় ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। বিশেষ করে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, "আয়নাঘর জিয়া", "ডিবি হারুন", আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ আরও অনেক বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এসব সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি বছরের পর বছর দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন।

এছাড়া, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি এবং দুদকের তদন্তাধীন একাধিক দুর্নীতির মামলা রয়েছে। পিসিআর রিপোর্ট অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে The Penal Code, 1860-এর 143, 447, 149, 323, 324, 325, 326, 307, 384, 385, 506 এবং 302, 34, 109, 114 ধারায় একাধিক মামলা চলমান।

সাধারণ বন্দিরা যেখানে ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধার জন্য হাহাকার করেন, সেখানে এত বড় অপরাধের আসামি হাসপাতালের বিশেষ কেবিনে থেকে সরকারি টাকায় ভিআইপি সুবিধা ভোগ করছেন। বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—একজন ভয়ংকর অপরাধীর জন্য এত সুবিধা কীভাবে সম্ভব?

জনগণের প্রশ্ন, আইনের চোখে সবাই সমান হলে আক্তারুজ্জামানের মতো আসামির ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম কেন? অপরাধীদের এই ‘হাসপাতাল নাটক’ বন্ধ করে দ্রুত কারাগারে ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে, তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ মেডিকেল বোর্ড গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। যদি তিনি সত্যিই অসুস্থ হন, তাহলে জেল হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হোক। আর যদি সুস্থ থাকেন, তাহলে দ্রুত কারাগারে পাঠিয়ে তার উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা হোক।

এমন ‘ভিআইপি বন্দিত্ব’ আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। দুর্নীতিবাজদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময়। জনগণ জানতে চায়—এই অপরাধী এতদিন কীভাবে হাসপাতালের আড়ালে আরামদায়ক জীবনযাপন করছেন?

আমার বার্তা/এমই

যমুনা অয়েলে বরখাস্ত মিল্টন, তদন্তের বাইরে জিএম এইচআর মাসুদুল ইসলাম?

" যমুনা অয়েলে দ্বৈতনীতির বিস্ফোরক অভিযোগ, ডাকাতি মামলার আসামিকে বাঁচাতে তৎপর জিএম এইচ আর -

সিনেটর দাতুক রাস আদিবা রাদজী: অদম্য, অবিশ্বাস‍্য, হার না মানা প্রেরণাদায়ী এক নারী

সিনেটর (অব) দাতুক ডক্টর রাস আদিবা মোহাম্মদ রাদজি ২৭শে জুলাই ১৯৬৮ সালে সেলান্গর, মালয়েশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

অ্যান্টিবায়োটিকে নেই অ্যামোক্সিসিলিন ! এলবিয়নের ‘মানবহির্ভূত’ ওষুধে বাজার সয়লাব

 জাতীয় পরীক্ষাগারের পরীক্ষা রিপোর্টে বলছে —একটি অ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুলে মূল উপাদান অ্যামোক্সিসিলিনের অস্তিত্বই নেই। সেখানে পাওয়া

হত্যা থেকে হয়রানি—এক বছরে সাংবাদিক নির্যাতনের ভয়ংকর হিসাব

২০২৫ সালে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও হত্যার ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একই
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাম্পে পুলিশের সঙ্গে সেনা সদস্য মোতায়েন চায় ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন

বাংলাদেশের খেলা দেখতে মিরপুরে জাইমা রহমান

ধামরাইয়ে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ স্বামী–স্ত্রী, স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

পাবনায় র‍্যাবের অভিযানে নারী গ্রেফতার, উদ্ধার শর্টগান ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম

৬টি পারমাণবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য উদঘাটনেই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি: চিফ প্রসিকিউট

স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি: সালাহউদ্দিন

জামালপুরে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

দুই আসনের ভোট ঘিরে প্রস্তুতি, ইসিতে শুরু আইন-শৃঙ্খলা বৈঠক

একটি প্রাণবন্ত সংসদ চাই, আলোচনায় সব সমস্যার সমাধান: চিফ হুইপ

প্রথম অধিবেশনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই: তাহের

ইরানে হামলা করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি নষ্ট করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র: উ. কোরিয়া

সংসদ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় আহত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা

সংসদ ভবনে সরকার দলীয় এমপিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

দুদকের মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

ফ্লাইট জটিলতা নিয়ে সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি

পদধারী নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতায় হেরেছেন বিএনপি নেত্রী মুন্নী