
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আওতাধীন সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমূহের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মুদ্রিত মূল্য বিহীন বই বিতরণ করে ১৭ ০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই কর্মকর্তা দের বিরুদ্ধে তৃতীয়,চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের গ্রামার বই বাবদ মূল্য অতিরিক্ত রশিদ বিহীন টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা সূত্রে জানা যায় গজারিয়া উপজেলাধীন ৮ টি ইউনিয়নে ৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। প্রতি ২ , ইউনিয়নে একজন করে মোট ৪ জন সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দায়িত্ব পালন করেন। বিনামূল্যে সরকারি বই বিতরণে টাকা দেয় এবং গ্রামার বই বিতরণে মূল্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রত্যেকের বিরুদ্ধে রয়েছে। তারা হলেন দেলোয়ার হোসেন,আলী আকবর শিকদার ,ইলিয়াস আহমেদ ও আখি নূর আক্তার।
সরজমিনে দেখা যায় প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মুদ্রিত ১৬ থেকে ১৭ টি শিক্ষার মান উন্নয়ন বিষয়ক বই যা মূল্যবিহীন। উপজেলাধীন প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে সরবরাহ করে ১৭০০ টাকা করে নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৮৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় ,চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী গ্রামার বই বাবদ মূল্য অতিরিক্ত ২০ টাকা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। দুর্নীতি অনিয়ম এখানেই শেষ নয় বই বিতরণ ও সরবরাহ বাবদ দেয়া হয়নি কোন রশিদ নেই, কোন নির্দেশনা ও প্রমাণপত্র। একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ২৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে প্রত্যেকের কাছে ৫০ টাকা মূল্যের গ্রামার বই ৭০ টাকা করে নেয়ার প্রমাণ রয়েছে।বিভিন্ন স্কুল প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় চাকরির ভয়ে শোকজ বা নানা রকমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জবাবদিহিতার রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় নাম প্রকাশ বা ভিডিও সাক্ষাত দিতে রাজি নেই কেউ। একাধিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক জানান ঊর্ধ্বতন অফিসারদের নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের ১৬ থেকে ১৭টি বই ১৭০০ টাকা জমা দিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছি কেবল তাই না তৃতীয় চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অনুযায়ী গ্রামার বই মূল্য অতিরিক্ত টাকা জমা দিয়ে বই আনা হয়েছে ।মাত্র তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর গ্রামার বইয়ের মূল্য ৫০ টাকা নেয়া হয়েছে ৭০ টাকা। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর গ্রামার বই এখনো উপজেলায় আসেনি ।কেউ কেউ অগ্রিম টাকা জমা দিয়েছেন। বই উপজেলায় আসলে দেওয়া হবে তাদের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর গ্রামার বই। গ্রামার বই ক্রয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বই সরবরাহে নেই কোন সরকারি নির্দেশনা বা প্রমাণপত্র। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা অফিসারদের মধ্যে মোঃ দেলোয়ার হোসেন ,আলী আকবর সিকদার ও ইলিয়াস আহমেদ উপস্থিত থেকে , ইলিয়াস আহমেদ জানান আমরা শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করি ।শিক্ষা সচিব সাখাওয়াত হোসেন প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করেছেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মাধ্যমে আমাদের এই বিষয়টি জানিয়েছি।আগে চাহিদা নিয়ে অগ্রিম টাকা দিয়ে বই পড়ে দিয়েছেন। আমরা মূলত অর্ডার পালন করছি। প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে নেয়া ১৭০০ টাকা নেয়া স্কুলের উন্নয়ন তহবিল থেকে কাটা হবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার কে টাকা দেয়া হয়। টাকা দেয়ার পর বই পাঠানো হয় এই বিষয়ে সচিব মহোদয়ের চিঠি আছে ।তাতে টাকা নেয়ার কথা উল্লেখ নাই। গ্রামার বই ভাবত রশিদ ছাড়া টাকা নেয়া যুক্তি নেই রশিদ ছাড়া টাকা নেওয়া আইনগত ঠিক না।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান উপজেলাধীন সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টাকার বিনিময়ে বই সরবরাহ করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম বা গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে বিষয়টি অবগত হই বিষয়টি বিভাগীয় দপ্তরে জানানো হবে গ্রামার বই মূল্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি জড়িতদের সাথে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমার বার্তা/এমই

