ই-পেপার রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

নাগরিকত্ব পেতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান প্রসব, সুযোগ বন্ধ করছেন ট্রাম্প

আমার বার্তা অনলাইন:
১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৩

গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সাহায্য করে, এমন কিছু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এসব নারীর মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নবজাতকের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। ট্রাম্প এই ইস্যুটিকে সামনে এনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের অধিকার সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

রয়টার্সের হাতে আসা এক অভ্যন্তরীণ ই-মেইল থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সারা দেশের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নতুন এক ‘বার্থ ট্যুরিজম ইনিশিয়েটিভ’ বা জন্ম পর্যটনবিরোধী পদক্ষেপে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো, সেই সব চক্রকে নির্মূল করা, যারা বিদেশি গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসতে সহায়তা করে, যাতে তাদের সন্তানেরা নাগরিকত্ব পায়।

এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন কমানোর জন্য আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছেন। মার্কিন মাটিতে জন্ম নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে রীতি প্রচলিত আছে, তা বন্ধ করার পেছনে তাঁর প্রশাসন এই ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম পর্যটনকেই যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অবাধ জন্ম পর্যটন করদাতাদের ওপর বিশাল বোঝা তৈরি করছে এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই।

এ বিষয়ে চলমান কোনো তদন্ত নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। তবে তারা জানিয়েছে যে কিছু চক্র জন্ম পর্যটনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে সহায়তা করছে, এমন তথ্য তাদের কাছে আছে। দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া বেআইনি কিছু নয়। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ফেডারেল আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনগুলো শনাক্ত ও মোকাবিলায় ডিএইচএস সতর্ক রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আইনে জন্ম পর্যটন সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে কার্যকর হওয়া একটি নীতিমালায় বলা হয়েছে, নবজাতকের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্যে পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভিসা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা বা অন্যান্য অপরাধে মামলা হতে পারে।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে কতজন বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বা এতে করদাতাদের কত টাকা খরচ হয়, তার কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই। তবে অভিবাসন কমানোর পক্ষে সোচ্চার সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ ২০২০ সালের এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ২০১৬-১৭ সালের মাঝামাঝি এক বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মা জন্ম পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩৬ লাখ শিশু জন্ম নিয়েছে, যার মধ্যে জন্ম পর্যটনের হার খুবই সামান্য হওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও রিপাবলিকানরা জন্ম পর্যটনের অভিযোগ তুলে নাগরিকত্ব সীমিত করার দাবি জানাচ্ছেন। উল্লেখ্য, সংবিধানের একটি সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত।

ক্ষমতার প্রথম দিনেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। সেখানে বলা হয়, বাবা-মায়ের কেউ যদি মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তবে তাঁদের সন্তান মার্কিন মাটিতে জন্ম নিলেও তাঁকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। এটি শত বছরের আইনি নজিরের সম্পূর্ণ বিপরীত এক পদক্ষেপ।

বেশ কয়েকজন ফেডারেল বিচারক আদেশটি স্থগিত করে দিলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। গত সপ্তাহে সেখানে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে ইউএস সলিসিটার জেনারেল ডি জন সওয়ার বলেন, স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের এই নিয়মটি ‘জন্ম পর্যটনের এক বিশাল শিল্প’ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছে।

সওয়ারের দাবি, এই সুযোগ নিয়ে ‘সম্ভাব্য শত্রু রাষ্ট্র’ থেকে হাজার হাজার নারী এখানে সন্তান জন্ম দিতে আসছেন। এর ফলে বিদেশের মাটিতে এমন এক প্রজন্মের আমেরিকান নাগরিক তৈরি হচ্ছে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাস্তব সম্পর্ক নেই।

আইসিইর এই নতুন উদ্যোগটির নেতৃত্বে রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)। তাদের মূল লক্ষ্য জালিয়াতির ঘটনাগুলো খুঁজে বের করা। তবে ঠিক কতগুলো এ ধরনের মামলা পাওয়া যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ই-মেইলে বলা হয়েছে, ‘এইচএসআই মার্কিন অভিবাসন ও পরিচয়পত্র ব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষায় কাজ করছে। বিশেষ করে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডগুলো তাদের লক্ষ্য।’ সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তারা জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ এবং অভিবাসনপ্রক্রিয়ার অপব্যবহারকারী সংগঠিত চক্রগুলোকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

২০১৯ সালের একটি ফেডারেল মামলায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘বার্থ হাউস’ বা জন্ম নিবাস পরিচালনার অভিযোগে এক ডজনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই চক্রটি মূলত চীনের ধনী নারীদের সেবা দিত। আইসিই সেই সময় একে জন্ম পর্যটনের বিরুদ্ধে প্রথম মার্কিন বিচার হিসেবে অভিহিত করেছিল।

সেই মামলায় চীনা নাগরিক ডংইয়ুয়ান লি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং তাঁকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি মুক্তি পান। আরেক চীনা নাগরিক চাও ‘এডউইন’ চেনকে ২০২০ সালে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও আইসিইর তথ্যমতে, তিনি আগেই পালিয়ে চীনে চলে গিয়েছিলেন।

আমার বার্তা/এমই

শান্তি চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিলো ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে নিজেদের জবাব পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। রোববার মধ্যস্থতাকারী দেশ

নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও লেবাননে হামলা বন্ধের দাবিতে উত্তাল ইসরাইল

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের পদত্যাগ এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান হামলা বন্ধের দাবিতে তেল আবিবের

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে ড্রোন হামলা, কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ ড্রোন হামলা হয়েছে। এই

ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের হুমকি ইরানের

ইরানের ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা ও জাহাজে ‘ভারী হামলা’ চালানো হবে বলে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

শান্তি চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিলো ইরান

গ্রাহকের ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্সের ডিএমডি গ্রেপ্তার

ম্যাগনেট দিয়ে গ্যাস চুরি: আলিজান স্টীল ইন্ডাস্ট্রির সংযোগ বিচ্ছিন্ন

দুই মাসের মধ্যে আসছে প্রবাসী কার্ড, মিলবে বিশেষ সুবিধা: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও লেবাননে হামলা বন্ধের দাবিতে উত্তাল ইসরাইল

কর্ণফুলীকে দখল-দূষণ থেকে বাঁচাতে ঐতিহ্যবাহী সাম্পান খেলা অনুষ্ঠিত

জাপান বাংলাদেশ চেম্বারের আসছে অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা পেশ

রাতের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস

বাংলাদেশে ইতালির নামী ফুটবল ক্লাবগুলোর প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব

রিমান্ড শেষে অভিযুক্ত সেই মাদরাসা শিক্ষক কারাগারে

ডাবল স্ট্যান্ড নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে আমরা নই: ত্রাণমন্ত্রী

এআই’র যুগে সন্তানদের নৈতিকভাবে মানুষ করাই বড় চ্যালেঞ্জ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৩৪ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ বাংলাদেশের

নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে কাজ করছে সরকার: মন্ত্রী

ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৭২০ ট্রাকে স্বল্প দামে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে ড্রোন হামলা, কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন

পাশাপাশি কবরে মা-তিন মেয়েসহ ৫ জনকে দাফন, কাঁদছেন স্বজনরা

মিরাজের ৫ উইকেটে বাংলাদেশের লিড, ৩৮৬ রানে অলআউট পাকিস্তান

মাসুদ উদ্দিনকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের ইঙ্গিত, তদন্ত প্রতিবেদন ২১ জুলাই