
নির্বাচনে ভরাডুবি হবে—এমন হতাশায় একটি দলের কর্মীরা ভোটার ও এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দিয়ে দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলছে, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনে যারা আছেন, তারা নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই প্রত্যাশা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিয়ে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান, ড. মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দীন খালেদ, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ও মিয়া মো. তরুণ।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দঘন ও প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতি তার সমস্ত সন্তানকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণ বাড়িতে গিয়েছেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, এবারের ভোটে ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নতুন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য এবং কল্যাণকর রাষ্ট্রের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়া অপরিহার্য বিষয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করবেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত আমির নিজ আসন ঢাকা-১৫ -তে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহীতে, নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম রংপুরে নিজ আসনে, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের কুমিল্লায়, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনায়, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জে, ড. হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজারে নিজ নিজ আসনে ভোট দিয়েছেন। এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য জাতীয় নেতারা স্ব-স্ব কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, গত দেড় যুগের ইতিহাসে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিতে ভোটের এই আয়োজন আমরা দেখছি। এটি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নতুন ইতিহাস। তারা ভোট না দেওয়া দেখেছে, জালিয়াতি দেখেছে, বিনা ভোটে সরকার দেখেছে, ‘আমি’ ও ‘ডামি’ নির্বাচন এবং রাতের ভোট দেখেছে। এবারই প্রথম উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে, জনগণ ভোট দিচ্ছে- এটি আমাদের জেন-জি ও মা-বোনেরা দেখছে।
তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই দ্রুততম সময়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আগামীর বাংলাদেশের জন্য সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, আমরা রিপোর্ট পেয়েছি—কিছু কিছু জায়গায় দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। বরিশালের ভোলায় গতকাল আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক হামলা হয়েছে। আমাদের এজেন্টদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তারা কাগজপত্র প্রস্তুত করার সময় সংঘাতের সৃষ্টি করা হয়েছে। আজও ভোলা-২ আসনে হামলার শিকার হয়েছেন। প্রশাসন কার্যকর সহযোগিতা করছে না, এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কুমিল্লা-৮ আসনে একদল সন্ত্রাসী কেন্দ্রে এজেন্টদের ঢুকতে দিচ্ছে না, ভোটারদের বাধা দিচ্ছে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যারা এগুলো করছে, তারা হতাশাগ্রস্ত। এসবের মাধ্যমে তারা নিজেদের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি—প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণ একটি সুন্দর ও প্রত্যাশিত নির্বাচন দেখতে চায়। কোনো অবস্থায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যাতে হেলে না পড়েন এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, এটি আমাদের ও জাতির প্রত্যাশা। কোনো ব্যত্যয় হলে অবশ্যই জনগণের কাঠগড়ায় তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
কিছু মিডিয়ার ভূমিকা বুধবার অর্থাৎ ভোটের আগের দিন খুবই হতাশাব্যঞ্জক ছিল বলে মন্তব্য এসেছে জামাতে ইসলামীর পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করবো মিডিয়া অবশ্যই তার নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং তাদের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার জায়গাতে সবসময় থাকবেন।
ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে এক সাংবাদিক জোবায়েরকে প্রশ্ন করেন, আপনারা কি মনে করছেন যে এই নির্বাচনে ফলাফলটা যদি আপনারা জয়ী হন ফলাফল কি কোনো প্রকার টুইস্ট হতে পারে কিনা? কোনো প্রকার ফলাফল ছিনিয়ে নিতে পারে কিনা? যেহেতু মিডিয়ার ব্যাপারে গতকালকে আপনাদের অভিযোগ ছিল খুব তীব্র।
প্রশ্নের জবাবে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা আশ্চর্য লক্ষ্য করেছি যে গতকালকে আপনারা দেখেছেন যে মানে অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে এবং মিডিয়া কিছু কিছু মিডিয়া খুবই বলা যায় যে হতাশাব্যঞ্জক রিপোর্ট করেছেন। যে মিডিয়াগুলো অতীতে আমরা ভূমিকা তাদের দেখেছি। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদের সময় মিডিয়াকে হয়তো বিভিন্ন চাপে রাখা হয়েছিল। কিছু মিডিয়া সেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেছেন ফ্যাসিবাদকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৪ এরই বিপ্লবের সময় অনেকেই পট পরিবর্তন করে ভালো ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু গতকালকে কিছু মিডিয়ার ভূমিকাটা খুবই হতাশাব্যঞ্জক ছিল বলে মনে করি। আমরা প্রত্যাশা করবো যে মিডিয়া অবশ্যই তার নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং তাদের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার জায়গাতে সবসময় থাকবেন। জনগণ একটা সময় আসলে তার জবাব দেয়। এজন্য মিডিয়া যাতে কোনো দলের মুখপাত্রে পরিণত না হয়। আমরা সেই প্রত্যাশা করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কথা বলেছি, সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা এখন পর্যন্ত এ বিষয়গুলোকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান হোক সেটি আমাদের প্রত্যাশা। আমরা পুরো দিনের কার্যক্রমকে প্রত্যক্ষ এবং পর্যালোচনা করব ও পরবর্তী সময়ে আমাদের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বক্তব্য আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব।’
আমার বার্তা /জেএইচ

